ইসরাইলি নৃশংসতায় ব্রিটিশ মদদ, সরকারের গড়িমসি আর কত

গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানে যুক্তরাজ্যের ভূমিকা নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন তদন্তের দাবি উঠেছে। কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের আইন বিভাগের অধ্যাপক এবং ব্রিটিশ একাডেমি অব সোশ্যাল সায়েন্সেসের ফেলো নেভ গর্ডন এক নিবন্ধে এ দাবি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, গাজায় ইসরাইলের কর্মকাণ্ডে ব্রিটিশ সরকারের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখতে একটি স্বাধীন তদন্ত জরুরি। আল-জাজিরায় প্রকাশিত বিশ্লেষণে নেভ গর্ডন যুক্তি দেন, ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সরকারের ভূমিকা তদন্ত করতে যে দীর্ঘসূত্রতা দেখা গিয়েছিল, গাজার ক্ষেত্রেও বর্তমান সরকার একই ধরনের গড়িমসির পথ অনুসরণ করছে। তাঁর মতে, ইরাক যুদ্ধে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের সরকারের বিভ্রান্তিকর তথ্য জনসমক্ষে আসতেও দীর্ঘ সময় লেগেছিল। ২০২৫ সালের জুনে তৎকালীন লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন গাজায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে যুক্তরাজ্যের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখতে একটি স্বাধীন ও উন্মুক্ত তদন্তের জন্য পার্লামেন্টে একটি বিল উত্থাপন করেন। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অর্ধশতাধিক সংসদ সদস্য বিলটির প্রতি সমর্থন জানালেও তৎকালীন কিয়ের স্টার্মার সরকার সেটি আটকে দেয় এবং এ ধরনের তদন্তের প্রয়োজন নেই বলে অবস্থান নেয়। সরকারের এ অবস্থানের পর জেরেমি করবিন ১৯৬৬ সালের রাসেল ট্রাইব্যুনালের আদলে একটি স্বাধীন গণট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগ নেন। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে লন্ডনে অনুষ্ঠিত ট্রাইব্যুনালের শুনানিতে গাজা থেকে বেঁচে ফেরা ব্যক্তি, সাংবাদিক, চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক আইনের গবেষকেরা সাক্ষ্য দেন। আল-জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ট্রাইব্যুনালের শুনানিতে গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযানের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতার বিভিন্ন অভিযোগ ও তথ্য উঠে আসে। এর মধ্যে ইসরাইলকে ব্রিটিশ অস্ত্র সরবরাহ, এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের যন্ত্রাংশ সরবরাহ, রয়্যাল এয়ার ফোর্সের নজরদারি ফ্লাইট এবং কূটনৈতিকভাবে ইসরাইলকে দায়মুক্তি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ট্রাইব্যুনালে সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ ও প্রতিবেদন গত মার্চে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) জমা দেওয়া হয়েছে বলেও বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে গাজায় যুক্তরাজ্যের ভূমিকা তদন্তের দাবিতে উত্থাপিত বিলটি পরবর্তী সময়ে আবার পার্লামেন্টে তোলা হলেও বর্তমান সরকার এর ওপর ভোটাভুটি স্থগিত করেছে বলে নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে। নেভ গর্ডনের মতে, সরকারের এ অবস্থান ইরাক যুদ্ধের সময়কার তদন্ত এড়িয়ে যাওয়ার রাজনৈতিক প্রবণতার পুনরাবৃত্তি। তবে একই সঙ্গে ব্রিটিশ সমাজে গাজা ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে জনমতের পরিবর্তনের কথাও বিশ্লেষণে তুলে ধরা হয়েছে। লেখকের দাবি, ব্রিটিশ জনগণের একটি বড় অংশ ইসরাইলের কর্মকাণ্ড এবং এতে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতার বিষয়টি ক্রমেই স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করছে। ফিলিস্তিনের পক্ষে বড় ধরনের জনসমর্থন এবং বিভিন্ন জনমত জরিপকে এর প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। ব্রিটিশ সরকার সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধ বসতি থেকে...

$post['title']

হুথিদের দখলে কৌশলগত পেরিম দ্বীপ, ট্রাম্পের সাহায্য চাইলেন সৌদি যুবরাজ

$post['title']

ব্রিকস: পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত, দ্বন্দ্বের মাঝেই সমঝোতার রূপরেখা

$post['title']

বাণিজ্য সম্পর্ক ও সীমান্তে শান্তি বজায় রাখায় জোর শি-মোদির

$post['title']

কলকাতায় সহসাই মিটছে না হোটেল সমস্যা, ভোগান্তিতে বাংলাদেশিরা

$post['title']

শব্দতরঙ্গেই ক্যান্সারের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা