পাকিস্তানের ওপর কেন ভরসা ওয়াশিংটনের

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত থামাতে কূটনৈতিক তৎপরতা যখন নতুন করে গতি পাওয়ার চেষ্টা করছে, ঠিক তখনই ওয়াশিংটন তেহরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। একদিকে ইরানের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা খুঁজতে পাকিস্তানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যস্থতার ওপর নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র; অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখা দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও নতুন নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই দুই বিপরীতমুখী পদক্ষেপকেই ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম *তেহরান টাইমস* মার্কিন নীতির গভীর অসংগতির উদাহরণ হিসেবে দেখছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ও দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভির এক দিনের তেহরান সফর এই নতুন কূটনৈতিক তৎপরতার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সোমবার তাঁরা ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি মহসেন রেজাই, পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এস্কান্দার মোমেনিসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পাকিস্তানের ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনার মূল বিষয় ছিল ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত, পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা কমানো, ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ এবং ইসলামাবাদের মধ্যস্থতায় তৈরি সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের সম্ভাবনা। সফর শেষে নাকভি বলেন, ইরানের প্রেসিডেন্ট তাঁর সরকারের অবস্থান ও উদ্বেগ খোলামেলাভাবে তুলে ধরেছেন এবং আলোচনায় ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে। তেহরানের দৃষ্টিতে পাকিস্তানের এই ভূমিকার গুরুত্ব আরও বেশি। কারণ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি আস্থার সংকট গভীর। ইরানের নেতাদের বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে, ওয়াশিংটনের প্রতিশ্রুতির ওপর তাঁদের আস্থা নেই। পাকিস্তানের মাধ্যমে তৈরি হওয়া সমঝোতা স্মারকের বাস্তবায়নেও যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে ইরানের অসন্তোষ রয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান পাকিস্তানি প্রতিনিধিদলকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে বলপ্রয়োগ ও হুমকির পথ থেকে সরে আসতে হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, চাপ ও সামরিক হুমকি কোনো সমাধান তৈরি করবে না; বরং সমঝোতার পথ আরও কঠিন করে তুলবে। তিনি ইরানের জাতীয় ঐক্য ও প্রতিরোধের সক্ষমতার কথাও তুলে ধরেন এবং পাকিস্তানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানান। আসিম মুনিরও বৈঠকে কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর বক্তব্যে ছিল, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে যৌথ লক্ষ্য নির্ধারণ এবং একটি সামগ্রিক চুক্তিতে পৌঁছানো জরুরি। ইরান ও পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সম্পর্ককে তিনি বর্তমান সংকট মোকাবিলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে ইরানের অবিশ্বাসের জায়গাটি স্পষ্ট করে দিয়েছেন মহসেন রেজাই। আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইরানের আস্থা এখনো তৈরি হয়নি। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তৈরি হওয়া সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন করতে হলে ওয়াশিংটনকে কথার পরিবর্তে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে। পার্লামেন্টের স্পিকার বাকের কালিবফও একই অভিযোগ তোলেন। তাঁর...

$post['title']

সিরিয়াকে ‘সন্ত্রাসবাদের মদদদাতা’ রাষ্ট্রের তালিকা থেকে সরাল যুক্তরাষ্ট্র

$post['title']

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে সেপ্টেম্বরে ভারত সফরে আসছেন শি জিনপিং

$post['title']

একাত্তরের কালোছায়া বেলুচিস্তানে: মানচিত্র বদলায়, কৌশল বদলায় না

$post['title']

দিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনের বাইরের স্থাপনা ভাঙা নিয়ে প্রশ্ন

$post['title']

ইরানকে ‘একঘরে’ করতে নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের