ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য, বাণিজ্যিক বিনিময় ও অর্থনৈতিক লেনদেন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। মঙ্গলবার আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক আফরা আল হামেলি বলেন, “আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য, বাণিজ্যিক বিনিময় এবং অর্থনৈতিক লেনদেন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। পরবর্তী নোটিশ জারি না হওয়া পর্যন্ত এ স্থগিতাবস্থা কার্যকর থাকবে।”
আমিরাতের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ১৩ আগস্ট হরমুজে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি অ্যাডনকের দুটি ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর থেকেই ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থগিতের বিষয়টি বিবেচনা করছিল আবুধাবি। মঙ্গলবার আমিরাতের দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এসব হামলার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের তেল সংরক্ষণাগার, বিমানবন্দর ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আমিরাতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি অ্যাডনকসহ দেশটির বিভিন্ন স্থাপনায় গত ছয় মাসে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়েছে বলে দাবি করেছে আবুধাবি।
তবে আমিরাতের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থগিতের পর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়েই বলেন, “ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতকে শত্রু জ্ঞান করে কখনও হামলা করেনি।” তিনি আমিরাতের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থগিতের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।
বাঘায়েই আরও বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ আঞ্চলিক আস্থা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে বিপন্ন করে তুলতে পারে।
শু/আজা