রমজান মাসে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে বিমান হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। আফগানিস্তানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, শনিবার গভীর রাতে নাঙ্গারহার ও পাকটিকা প্রদেশে হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত ১৯ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে খবর।
পাকিস্তান সরকারের দাবি, আফগান সীমান্তবর্তী এলাকায় সক্রিয় জঙ্গিগোষ্ঠীর ঘাঁটি লক্ষ্য করেই এ হামলা চালানো হয়েছে। ইসলামাবাদের অভিযোগ, ওই অঞ্চলে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং ইসলামিক স্টেট-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো পাকিস্তানে নাশকতার পরিকল্পনা করছে। সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাদের।
অন্যদিকে আফগানিস্তান-এর স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জঙ্গিঘাঁটি নয়; মসজিদ ও মাদ্রাসাকে লক্ষ্য করেই গোলাবর্ষণ করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। তাদের দাবি, ওই এলাকায় কোনো সামরিক ঘাঁটি বা সশস্ত্র কার্যকলাপ ছিল না।
তালিবান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লা মুজাহিদ এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, নিরীহ নারী ও শিশুদের হত্যার জবাব দেওয়া হবে।
ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “রমজান মাসে আফগানিস্তানের আকাশসীমায় ঢুকে হামলা এবং বেসামরিক মানুষের মৃত্যু অত্যন্ত নিন্দনীয়।” তিনি আরও জানান, নয়াদিল্লি আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখবে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামাবাদ-কাবুল সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। সীমান্ত নিরাপত্তা ও জঙ্গি তৎপরতা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক অভিযোগ নতুন নয়। তবে রমজান মাসে এ ধরনের হামলার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনার জেরে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জটিল হতে পারে এবং সীমান্ত অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।