বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। সব ধরনের চিকিৎসা প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুতে দলীয়ভাবে সাত দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার দাফনের সময় ও স্থান পরবর্তীতে জানানো হবে।
তিনি আরও জানান, শোক পালনের অংশ হিসেবে বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করবেন এবং দলীয় সব কার্যালয়ে শোকবই খোলা থাকবে, যেখানে সর্বস্তরের মানুষ শোক ও সমবেদনা জানাতে পারবেন।
এছাড়া গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়, নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশব্যাপী জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দোয়া মাহফিল ও কোরআন খতমের কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। গত ২৩ নভেম্বর ফুসফুসে সংক্রমণজনিত শ্বাসকষ্ট নিয়ে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে নিউমোনিয়াসহ কিডনি, লিভার, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসজনিত পুরনো নানা জটিলতায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। এক পর্যায়ে তাকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সকল চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর পর তিনি মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেন।