উত্তর আরব সাগরে ব্যাপক সামরিক মহড়া চালিয়েছে পাকিস্তান। এ সময় মহড়ার অংশ হিসেবে সফলভাবে সারফেস-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে দেশটির নৌবাহিনী। শনিবার পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) এ তথ্য জানিয়েছে।
আইএসপিআর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আধুনিক নৌযুদ্ধের পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালিত এই মহড়ার মাধ্যমে পাকিস্তান নৌবাহিনী তাদের অপারেশনাল প্রস্তুতি ও যুদ্ধ সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। মহড়ায় প্রচলিত যুদ্ধপ্রযুক্তির পাশাপাশি মানববিহীন (আনম্যানড) সক্ষমতারও প্রদর্শন করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মহড়ার অংশ হিসেবে ভার্টিক্যাল লঞ্চিং সিস্টেম থেকে এলওয়াই-৮০ (এন) সারফেস-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে নিক্ষেপ করা হয়, যা নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। এতে পাকিস্তান নৌবাহিনীর আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দীর্ঘপাল্লার সক্ষমতা যাচাই করা সম্ভব হয়েছে।
আইএসপিআর জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি সফলভাবে একটি আকাশ লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে, যা নৌবাহিনীর শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রমাণ।
এ ছাড়া মহড়ায় লয়টারিং মিউনিশনের মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত হামলা চালানো হয়। এতে নৌবাহিনীর নির্ভুল আঘাত হানার সক্ষমতা প্রদর্শিত হয়েছে। মানববিহীন এই অস্ত্র ব্যবস্থার মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হয়।
মহড়ার সময় একটি মানববিহীন সারফেস ভেসেলের সফল উন্মুক্ত সমুদ্র পরীক্ষা পরিচালনা করা হয়। আইএসপিআর জানায়, এটি স্বয়ংক্রিয় নৌপ্রযুক্তিতে পাকিস্তানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। পরীক্ষায় নৌযানটির উচ্চগতির পারফরম্যান্স, টেকসই সক্ষমতা, চরম কৌশলগত চালনা, নিখুঁত নেভিগেশন এবং প্রতিকূল আবহাওয়ায় কার্যকারিতা যাচাই করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই মানববিহীন নৌযানটি কম ঝুঁকিতে উচ্চ কার্যকারিতা সম্পন্ন একটি কৌশলগত সমাধান হিসেবে কাজ করবে। পাকিস্তান নৌবহরের কমান্ডার মহড়াটি প্রত্যক্ষ করেন। নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল নাভিদ আশরাফ এতে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তা ও সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার প্রশংসা করেন।
তথ্যসূত্র: ডন