ট্রাম্পের ইরানি নৌযান ধ্বংসের হুমকি: নতুন যুদ্ধাভিযানের সংকেত?

আজাদ ডেস্ক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
ট্রাম্পের ইরানি নৌযান ধ্বংসের হুমকি: নতুন যুদ্ধাভিযানের সংকেত? ছবি:
ট্রাম্পের ইরানি নৌযান ধ্বংসের হুমকি: নতুন যুদ্ধাভিযানের সংকেত? ছবি:

হরমুজ প্রণালিতে মাইন পাতার চেষ্টা করা যে কোনও ছোট নৌযানকে গুলি করে ধ্বংসের যে নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দিয়েছেন, তাকে কেবল একটি হুমকি হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকরা। বরং একে আগামী দিনগুলোতে তার এক নতুন যুদ্ধাভিযানের সংকেত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

ঠিক কী কারণে ট্রাম্প এই মুহূর্তে এমন কড়া নির্দেশ জারি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে পোস্ট দিয়েছেন তা স্পষ্ট না হলেও, মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করছে।

সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসের এক রুদ্ধদ্বার ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে যে, হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন সরিয়ে নৌপথ নিরাপদ করতে মার্কিন বাহিনীর অন্তত ছয় মাস সময় লাগতে পারে।

পেন্টাগনের মূখপাত্র এই তথ্য সঠিক নয় বলে দাবি করলেও বাস্তব পরিস্থিতি হল, যুদ্ধ শেষের পর বিশ্ব অর্থনীতিকে সচল করতে জাহাজ কোম্পানিগুলোর জন্য একটি নিরাপদ ও কার্যকর নৌপথ নিশ্চিত করা জরুরি। আর ট্রাম্প এই বিষয়টি সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন।

ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য এবং হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিটের সাম্প্রতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, ওয়াশিংটন এই সংঘাতের ক্ষেত্রে একটি নতুন পন্থা বেছে নিচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন বারবার ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে, ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র মতো পূর্ণ ও বড় আকারের সামরিক অভিযানের বদলে ইরানি নৌযানগুলোর ওপর সুনির্দিষ্ট ও ছোট আকারের আক্রমণ (পিনপ্রিক স্ট্রাইক) তার কাছে বেশি পছন্দনীয়।

এই ধরনের অভিযানের নজির যে নেই, তা নয়। গত কয়েক মাস ধরে ক্যারিবীয় সাগর এবং পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারকারী নৌকাগুলোর বিরুদ্ধে মার্কিন বাহিনী একই ধরনের ধীরগতির কিন্তু ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে আসছে।

এই পন্থার যুদ্ধাভিযান ট্রাম্পকে বড় ধরনের সুবিধা দিতে পারে। একদিকে, এটি ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ বহাল রাখা এবং বৈশ্বিক অর্থ বাজার থেকেে ইরানকে বিচ্ছিন্ন করে রাখার প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে সহায়ক হবে, অন্যদিকে পূর্ণ যুদ্ধের মতো কোনও গোলমেলে বা অগোছালো পরিস্থিতিতে ফেরার ঝুঁকিও এড়ানো সম্ভব হবে।

সরাসরি বড় যুদ্ধের বদলে ছোট নৌযান ধ্বংসের এই নির্দেশ আদতে ট্রাম্পের এক নতুন সমরকৌশল, যার মূল লক্ষ্য- হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাব খর্ব করা এবং মার্কিন নৌ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত