দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত ইরানের বিমান ‘সিমোর্গ’-এর পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন শুরু

আজাদ ডেস্ক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

ইরান নিজস্ব নকশা ও প্রযুক্তিতে তৈরি প্রথম কার্গো বিমান ‘সিমোর্গ’–এর পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) দেশটির কেন্দ্রীয় শহর শাহিন শাহর-এর একটি বিমানঘাঁটি থেকে এই উড্ডয়ন কার্যক্রম শুরু হয়। এটি ইরানের বিমান শিল্পে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ইরানের সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন (সিএএ) জানায়, পূর্ণ অনুমোদন পাওয়ার আগে বিমানটি বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ১০০ ঘণ্টার পরীক্ষামূলক ফ্লাইট সম্পন্ন করবে। সংস্থার প্রধান হোসেইন পোরফারজানেহ বলেন, ‘সিমোর্গ নির্মাণে প্রায় ১৫ বছর সময় লেগেছে। এর মাধ্যমে ইরান এখন সেই অল্প কয়েকটি দেশের কাতারে যুক্ত হলো, যারা নিজস্ব নকশায় বিমান তৈরি করতে সক্ষম।’

দুইটি ২,৫০০ হর্সপাওয়ারের ইঞ্জিন-সমৃদ্ধ এই বিমানটি ৬ টন মালামাল বহন করতে পারে এবং সর্বোচ্চ ৩,৯০০ কিলোমিটার পর্যন্ত উড্ডয়ন সক্ষমতা রাখে। এর সর্বোচ্চ টেকঅফ ওজন ২১.৫ টন, যা একে মধ্যম আকারের কার্গো বিমানের শ্রেণিতে স্থান দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সিমোর্গ আংশিকভাবে ইরান-ইউক্রেনের যৌথ প্রকল্প ইরান-১৪০ এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি। তবে ইরানের কর্মকর্তারা দাবি করছেন, এই বিমানটি সম্পূর্ণ নতুন নকশায় তৈরি—এর ইঞ্জিন, কাঠামো ও বায়ুগত বৈশিষ্ট্য সবই ইরানি প্রকৌশলীদের উদ্ভাবন।

‘সিমোর্গ’কে বলা হচ্ছে দ্রুতগামী, হালকা ও বহুমুখী কার্গো বিমান। এটি ইরানের বৈচিত্র্যময় আবহাওয়া ও দুর্গম ভৌগোলিক পরিবেশে উপযোগী, এবং জরুরি চিকিৎসা পরিবহন, উদ্ধার অভিযান ও সামরিক লজিস্টিক সহায়তা কার্যক্রমে ব্যবহারের উপযুক্ত।

ইরানি প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমানটি সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ও মোতায়েন ক্ষমতা বাড়াবে। ভবিষ্যতে ‘সিমোর্গ’-এর যাত্রীবাহী সংস্করণও তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার চাপে থেকেও ইরানের বিমান নির্মাণ শিল্পে এই অগ্রগতি দেশটির প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতার বড় প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। খবর মেহের নিউজ।
 

এলাকার খবর

সম্পর্কিত