দেশ নাকি মৃত্যু : যুক্তরাষ্ট্র আঘাত করলে কী জবাব দেবে কিউবা?

আজাদ ডেস্ক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

“কিউবার প্রত্যেকটা মানুষ সামরিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ।”

গত ৩০ বছরে বহুবার কিউবায় গেছেন হেলেন ইয়াফে। এরমধ্যে একটি ঘটনা প্রায়ই মনে পড়ে তার, যেদিন প্রলয়ংকরী এক ঘূর্ণিঝড় কিউবার দিকে ধেয়ে আসছিল। এই শিক্ষাবিদ তখন আরো ১৩ জনের সঙ্গে কিউবায় একটি বাড়িতে থাকতেন। ঝড় নিয়ে সেখানকার মানুষের চোখে কখনো তিনি ভয় দেখতে পাননি। কারণ হলো, সবাই নিজের করণীয় সম্পর্কে জানত।

ইয়াফে বলেন, সেদিন কেউ কেউ বয়স্ক কিংবা দুর্বল মানুষজনকে আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। কেউ প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ঝড়ের পরের পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার।

এ ধরনের দুর্যোগ ঘন ঘন এলেও প্রাণহানির সংখ্যা কমিয়ে আনার জন্য কিউবার জাতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বেশ সুনাম রয়েছে। এ বিষয়ে জাতিসংঘ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুনামও কুড়িয়েছে তারা। প্রাকৃতিক দুর্যোগের বাইরে এখন নতুন এক হুমকির সামনে দাঁড়িয়ে একই কৌশলই প্রয়োগ করতে চাইছে হাভানার মানুষ।

নতুন সেই হুমকি হলো— যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা।

কিউবার মানুষের সামনে নতুন এই হুমকি আরো খানিকটা স্পষ্ট হয় বুধবার। এদিন কিউবা নিয়ে আক্রমণাত্মক কথাবার্তা আসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের মুখ থেকে। একই দিন কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের কৌঁসুলিরা।  এর এক দিন পর বৃহস্পতিবার কিউবাকে লক্ষ্য প্রচ্ছন্ন হুমকি দেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি অভিযোগ করেন, কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি ওয়ে উঠেছে।

সব মিলিয়ে যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা গেল কয়েক বছরে দুই দেশের মধ্যে দেখা যায়নি।

রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ, তার সূত্রপাত ১৯৯৬ সালের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ওই বছর কিউবার যুদ্ধবিমান নির্বাসিত কিউবানদের একটি বিমান ভূপাতিত করে। এতে নিহত হয় যুক্তরাষ্ট্রের চার নাগরিক। ওই ঘটনায় রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের হত্যার ষড়যন্ত্র, চারটি হত্যার অভিযোগ এবং দুটি বিমান ধ্বংসের অভিযোগ আনা হয়েছে।

সম্ভাব্য মার্কিন হামলার আভাস হাভানার বাতাসেও কিছুটা রয়েছে। শনিবার ‘সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সুরক্ষায় পারিবারিক নির্দেশিকা’ প্রকাশ করে কিউবার সিভিল ডিফেন্স। এতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ক্ষেত্রে পরিবারের দায়িত্ব এবং বিভিন্ন নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এই নির্দেশিকা তৈরি করা হয়েছে কিউবার প্রতিরক্ষা নীতিমালা ‘ওয়ার অব অল পিপল’-এর ওপর ভিত্তি করে।

ইয়াফে বলেন, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর কিউবা এই নীতি গ্রহণ করে। এর উদ্দেশ্য হলো গেরিলা যুদ্ধ, স্থানীয় মিলিশিয়া এবং বেসামরিক প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পুরো জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে বিদেশি আগ্রাসন মোকাবেলা করা।

গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের লাতিন আমেরিকান রাজনৈতিক অর্থনীতির অধ্যাপক ইয়াফে বলেন, “কিউবার প্রত্যেকটি মানুষ সামরিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ।” আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনকে কিউবার ওপর চাপ প্রয়োগের সর্বশেষ ধাপ হিসেবে দেখা যেতে পারে। এই চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবে সম্প্রতি কিউবার উপকূলের কাছে গোয়েন্দা উড়োজাহাজের সংখ্যা বাড়ায় ট্রাম্প প্রশাসন।

আবার কিউবার বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রয়োগের প্রশ্নে ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করার যে প্রচেষ্টা মার্কিন সেনেটে হয়েছিল, সেটাও ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে কিউবাকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ‘বড় ধরনের হুমকি’ ঘোষণা করা হয়েছে।

ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছেন, “এরপর কিউবা।”

ফলে বিশ্লেষকদের ধারণা হলো, কিউবায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান যেকোনো সময়ই দেখা যেতে পারে। আর অভিযান যদি চালিয়েই বসে, তাহলে হাভানা তা মোকবেলা করবে কীভাবে?

এই প্রশ্নে কিছু বিশ্লেষকের পর্যবেক্ষণ হলো, সামরিক দিক থেকে কিউবা একবারেই অরক্ষিত রাষ্ট্র, এমনটি ভাবার সুযোগ নেই। ‘ভেনেজুয়েলার মডেল কিউবায় কাজ করবে না’

গত ৩ জানুয়ারি যখন মার্কিন বাহিনী মাদুরোকে আটক করে, তখন অভিযানের গতি দেখে অনেকেই বিস্মিত হয়েছিলেন। সেদিন সংঘর্ষে যারা নিহত হন, তাদের ৩২ জন ছিলেন কিউবান, যারা ‘খুবই তীব্র প্রতিরোধ’ গড়ে তুলেছিলেন বলে ইয়াফের ভাষ্য। তিনি বলেন, “ট্রাম্প নিজেও বিষয়টি স্বীকার করেছিলেন।”

অন্যদিকে কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াস-কানেল সোমবার বলেন, কিউবা কোনো হুমকি নয়। কিউবার বিরুদ্ধে যেকোনো মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ এ অঞ্চলকে ‘রক্তপাতের’ দিকে নিয়ে যাবে। 

ইয়াফে বলেন, “তারা (যুক্তরাষ্ট্র) ভেনেজুয়েলার মডেলের কথা বলছে। প্রশ্ন হলো, তারা কি কিউবাতেও একই মডেল প্রয়োগ করতে চাইবে? এটা কিউবায় কাজ করবে না।

কিউবার নেতৃত্ব এবং সাধারণ মানুষের বক্তব্য হচ্ছে, ‘তারা ভেনেজুয়েলার প্রতিরোধকে শক্তিশালী বলছে? সেখানে তো ছিল মাত্র ৩২ জন কিউবান। কল্পনা করুন তারা যদি এখানে আসে, তাহলে সেখানে থাকবে এক কোটি মানুষ’।”

স্পেনের মাদ্রিদভিত্তিক এলকানো রয়্যাল ইনস্টিটিউটের লাতিন আমেরিকা বিশ্লেষক কার্লোস মালামুদও মনে করেন, ভেনেজুয়েলা ও কিউবার চ্যালেঞ্জ সম্পূর্ণ আলাদা। এই আর্জেন্টাইন বিশ্লেষক বলেন, কিউবার সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলার তুলনায় অনেক বেশি প্রশিক্ষিত ও গোছানো।

তবে ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কিউবান স্টাডিজ ইনস্টিটিউটের কিউবান-আমেরিকান পরিচালক সেবাস্তিয়ান আর্কোসের পর্যবেক্ষণ ভিন্ন। তিনি আল জাজিরাকে বলেন, “কিউবার সামরিক ব্যবস্থা পুরনো। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার সম্ভাবনা ক্ষীণ। ভেনেজুয়েলার চেয়ে কিউবায় লক্ষ্য অর্জন করাটা তুলনামূলক কঠিন, কিন্তু সামরিক দিক থেকে ততটা নয়। তবে এটা ঠিক, তারা এ ধরনের অভিযানের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময় পেয়েছে।”

কিউবায় সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ‘ভূগোল’।

মালামুদের মতে, কিউবার অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের খুব কাছাকাছি। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী কারাকাস বা ইরানের চেয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, কিউবার যেকোনো পাল্টা আঘাত যুক্তরাষ্ট্রের শহর পর্যন্ত পৌঁছানোর বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে। যেমন মিয়ামির মতো মার্কিন শহরগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা বেশি।” আর্কোসের ধারণা, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে জনমত বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক কেন্দ্রগুলোকে হামলার নিশানা বানাতে পারে কিউবা।

গোপন মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে রোববার অ্যাক্সিওসের খবরে বলা হয়, কিউবা ৩০০টি সামরিক ড্রোন সংগ্রহ করেছে। গুয়ানতানামো বে, মার্কিন নৌজাহাজ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বীপনগরী কি ওয়েস্টে তাদের হামলার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে ইয়াফে ও মালামুদ এই গোয়েন্দা তথ্যের বিশ্বাসযোগ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, কিউবা সামরিক সংঘাতে আগ্রহী নয়।

আরেক বিশ্লেষক আর্কোস অবশ্য অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনটিকে ‘যৌক্তিক’ মনে করছেন। নিজের ভাবনার ব্যাখ্যায় তিনি বলছেন, কিউবা দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে। এছাড়া সীমিত সম্পদের মধ্যেও নিরাপত্তাকে বরাবরই অগ্রাধিকার দিয়েছে তারা।

অন্যদিকে অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার পক্ষে যুক্তি তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে কিউবা।

কিউবার ভেতরের চেহারাটা ভিন্ন
বিশ্লেষকরা বলছেন, সামরিক হিসাব-নিকাশের বাইরে কিউবার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এমন কিছু অনুঘটক রয়েছে, যেগুলো ট্রাম্পের সামরিক অভিযানকে জটিল করে তুলতে পারে। আর এসব জটিলতার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে।

ইয়াফের ভাষায়, ট্রাম্প প্রশাসনের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো, কিউবায় হামলার ফলে যুক্তরাষ্ট্রমুখী অভিবাসীদের ঢল সৃষ্টি হবে। কিউবায় যেকোনো হামলা তাৎক্ষণিকভাবে একটি নিয়ন্ত্রণহীন গণঅভিবাসনের জন্ম দেবে, যার বড় অংশই হবে সমুদ্রপথ।” তিনি যুক্তি দেন, “প্রেসিডেন্ট হিসেবে যার রাজনৈতিক পরিচয় অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের ওপর দাঁড়িয়ে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সেই প্রেসিডেন্টের সতর্ক হওয়ার জন্য এই ঝুঁকিই যথেষ্ট।”

কেউ কেউ মনে করেন, মার্কিন রাজনীতিতে ভেনেজুয়েলান প্রবাসীদের তুলনায় কিউবান-আমেরিকানদের প্রতিনিধিত্ব বেশি।

মালামুদ বলেন, “ভেনেজুয়েলার নির্বাসিতদের মধ্যে যারা নিকোলাস মাদুরো ও তার পূর্বসূরি হুগো শাভেজের বিরোধী ছিলেন, তাদের বেশির ভাগই যুক্তরাষ্ট্রে পা রাখেন গত এক দশকে।

অন্যদিকে কিউবান-আমেরিকানরা বহু দশক ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। কংগ্রেসে তাদের উপস্থিতি আছে; উপস্থিতি আছে ট্রাম্প প্রশাসনেও। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অন্যতম উদাহরণ।

মালামুদ বলেন, কিউবানরা কখনোই ভেনেজুয়েলার মতো কোনো সমাধান মেনে নেবে না, যেখানে পুরনো ক্ষমতাকাঠামো জিইয়ে রেখে কেবল নতুন নেতৃত্ব আনা হয়েছে। দেশের বাইরে থাকা কিউবানরা কাস্ত্রো যুগের রাজনৈতিক ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে পুরোপুরিন নতুন কোনো ব্যবস্থা চাইছেন।”

ইয়াফে বলেন, রুবিও ও ট্রাম্পের মধ্যে এ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে, ‘কিউবার বিষয়ে ট্রাম্পের উপর প্রায় একচেটিয়া প্রভাব বিস্তার করেছেন রুবিও। কিন্তু ট্রাম্প তুলনামূলকভাবে বেশি সমঝোতামুখী। তিনি কিউবায় ব্যবসায়িক সুযোগ নিয়েই বেশি ভাবেন।”

এছাড়া ট্রাম্প বলেছেন, তারা কিউবার দিকে এগোতে পারবেন না, যতক্ষণ না ইরান যুদ্ধের ইতি না ঘটে।

ইয়াফের মনে করেন, অভিযোগ গঠনের পর মাদুরোর মতো কাস্ত্রোকে অপহরণ করা হলে তা কিউবান-আমেরিকানরা ইতিবাচকভাবে নেবেন না। বিষয়টি কৌশলগত কোনো সুফল বয়ে আনবে না।

ইয়াফে ব্যাখ্যা করেন, কিউবায় বিপ্লবীদের সম্মান শহীদদের কাতারে। দেশটির জাতীয় স্লোগান হলো, “মাতৃভূমি অথবা মৃত্যু, আমরা জয়ী হব। ফলে রাউল কাস্ত্রোকে অপহরণ করলে সেটি কিউবা সরকারকে নমনীয় হতে বাধ্য করবে, এমনটা আমি মনে করি না।”

আর্কোস মনে করেন, ভেনেজুয়েলা ও ইরানে যে অভিযান, তার মাঝামাঝি কোনো একটা ধরন কিউবার ক্ষেত্রে দেখা যেতে পারে। সেটা হতে পারে এরকম যে, আকাশপথে হামলা হবে, কিন্তু স্থলবাহিনী মোতায়েন করা হবে না।

গভীর অর্থনৈতিক সংকটে প্রতিরক্ষা
উরুগুয়ের ওআরটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির সহকারী অধ্যাপক মাতিয়াস ব্রুম সতর্ক করে বলেন, মাদুরোকে অপসারণের পর ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহ ব্যবস্থা সংকটে পড়েছে। সেই সংকটের প্রভাব পড়েছে পুরো অঞ্চলে।

এর মধ্যে কিউবায় হামলা হলে তার বড় ধরনের ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবে দেখার কথা বলেছেন মাতিয়াস ব্রুম। আল জাজিরাকে তিনি বলেন, “আমি মনে করতাম যুক্তরাষ্ট্র কখনোই আক্রমণ করবে না বা কিছু করবে না। কিন্তু তারা আক্রমণ করেছে এবং মাদুরোকে আটক করেছে, ‘এখন আমি তাকে (ট্রাম্পকে) গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছি। আগে নিচ্ছিলাম না, কিন্তু এখন আমি উদ্বিগ্ন।” তিনি বলেন, লাতিন আমেরিকার বামঘেঁষা দেশগুলো, বিশেষ করে কলম্বিয়া ও মেক্সিকো কিউবার বিষয়টি মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে। কারণ, কিউবার মতো একই ধরনের হুমকি ট্রাম্প তাদেরকেও দিয়ে রেখেছেন।

কিউবার ক্রমবর্ধমান সংকট সামনে এনে বুধবার রুবিও দুই দেশের মধ্যে নতুন সম্পর্ক গঠনের প্রস্তাব দেন। হাভানাকে ১০ কোটি ডলারের খাদ্য ও ওষুধ সহায়তার প্রস্তাবও দেন তিনি।

এটি ট্রাম্পের আগের প্রস্তাবের ধারাবাহিকতা, যা কিউবার প্রেসিডেন্ট দিয়াস-কানেল ইতিবাচকভাবে নিয়েছিলেন।

তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এটা স্বীকার করেননি যে, কিউবার বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের বড় একটি কারণ হলো কয়েক দশক ধরে চলা মার্কিন অবরোধ।

রুবিওর চোখে, দেশটির বিদ্যুৎ, খাদ্য ও জ্বালানির সংকটের জন্য কিউবার নেতৃত্ব দায়ী। রুবিওর সঙ্গে একমত হয়ে আর্কোস বলেন, কিউবার সংকট শুরু হয় ৩০ বছর আগে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মাধ্যমে। সরকারের ‘অনমনীয় অবস্থানই’ অর্থনৈতিক পতনের জন্য দায়ী, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বা অবরোধ নয়।”

সংকটকে যেভাবেই ব্যাখ্যা করা হোক না কেন, কয়েক দশকের পুরনো তিক্ততা যখন চরম পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে, তখন কিউবার ‘সবার যুদ্ধ’ নীতি বাস্তবে কার্যকর হবে, নাকি নীতিগত ধারণাতে সীমাবদ্ধ থাকবে, তা সময়ই বলে দেবে।

ইয়াফে বলেন, অন্তত হাভানায় চাপ যত বাড়ছে, ততই একটি স্লোগান দ্বীপ রাষ্ট্রটিতে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।

সেই স্লোগানটা হলো— ‘এখানে কেউ আত্মসমর্পণ করে না।’

সূত্র : বিডিনিউজ

এলাকার খবর

সম্পর্কিত