ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বোমাবর্ষণের পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) ষষ্ঠ দফার হামলা শুরু করেছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, ইসরায়েল ও ওই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে 'ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন' হামলা চালিয়েছে তারা। তাদের দাবিমতে, ২৭টি মার্কিন ঘাঁটির পাশাপাশি ইসরায়েলের তেল নভ
বিমানঘাঁটি, তেল আবিবে অবস্থিত ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কমান্ড সদর দপ্তর হাকিরিয়া ও একই শহরের একটি বিশাল প্রতিরক্ষা শিল্প কমপ্লেক্সে হামলা চালানো হয়েছে।
আইআরজিসি আরও বলেছে, ইরানি বাহিনী একের পর এক 'শক্তিশালী চপেটাঘাতের' মাধ্যমে প্রতিশোধের ভিন্নধর্মী ও কঠোর পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করবে।
এদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে ছোড়া বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে এবং তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো সক্রিয় রয়েছে।
সামরিক বাহিনীর এই ঘোষণার পর মধ্য-ইসরায়েলজুড়ে সাইরেন বেজে ওঠে। ইসরায়েলের হোম ফ্রন্ট কমান্ড সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে সরাসরি 'সতর্কতামূলক নির্দেশনা' পাঠিয়ে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলেছে।
এর আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির হত্যাকাণ্ডকে 'জঘন্য অপরাধ' উল্লেখ করে উপযুক্ত জবাব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, 'এই জঘন্য অপরাধের কোনো জবাব দেওয়া হবে না—এমনটি ভাবার কারণ নেই। এটি ইসলামি বিশ্ব ও শিয়া মতবাদের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। এই উচ্চপদস্থ নেতার পবিত্র রক্ত খরস্রোতা ঝরনার মতো প্রবাহিত হবে এবং আমেরিকান-জায়নবাদী নিপীড়ন ও অপরাধের শিকড় উপড়ে ফেলবে।'
শনিবার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। হামলায় খামেনির মেয়ে, জামাতা ও নাতনি এবং এক পুত্রবধূও নিহত হন।