ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। শনিবার রাতে অনুষ্ঠিত এই ফোনালাপে দুই দেশের ‘কমপ্রিহেনসিভ গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ আরও গভীর করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে ভ্যান্স ও তাঁর স্ত্রী উষা ভ্যান্সকে তাঁদের পুত্রসন্তানের জন্মের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন মোদি।
ফোনালাপের বিস্তারিত বিষয়বস্তু প্রকাশ না হলেও, দুই নেতার এই যোগাযোগকে ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত সম্পর্কের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং পশ্চিম এশিয়ার দ্রুত পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে মোদি-ভ্যান্সের এই আলোচনা নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।
ফোনালাপের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে মোদি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কাছ থেকে ফোন পেয়েছি। গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের কমপ্রিহেনসিভ গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ আরও গভীর করার উপায় নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি।’
মোদি আরও জানান, ভ্যান্স ও তাঁর স্ত্রী উষা ভ্যান্সকে তাঁদের পুত্রসন্তানের জন্মের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ভ্যান্সের পুরো পরিবারের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
তবে ফোনালাপে দুই নেতা ঠিক কোন কোন কৌশলগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু জানায়নি মার্কিন প্রশাসন। ফলে আলোচনার সুনির্দিষ্ট এজেন্ডা প্রকাশ না হলেও দুই দেশের বর্তমান সম্পর্কের গতিপথ বিবেচনায় কয়েকটি বিষয়কে সম্ভাব্য আলোচনার ক্ষেত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কৌশলগত অংশীদারত্বের নতুন পর্যায়
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক গত দুই দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। একসময় যে দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত দূরত্ব ছিল, বর্তমানে তারা প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, মহাকাশ, জ্বালানি, বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ অংশীদার হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে দুই দেশের সহযোগিতা এখন সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের সামরিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ওয়াশিংটনের কাছে ভারতের কৌশলগত গুরুত্বও বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে শুধু একটি বড় অর্থনৈতিক বাজার হিসেবে নয়, বরং এশিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত শক্তি হিসেবেও বিবেচনা করে। অন্যদিকে ভারতও চীনের সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনা এবং আঞ্চলিক প্রতিযোগিতার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়িয়েছে।
ফলে মোদি ও ভ্যান্সের সর্বশেষ ফোনালাপে ‘স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ আরও গভীর করার বিষয়টি উল্লেখ করা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এর অর্থ শুধু কূটনৈতিক যোগাযোগ নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদে দুই দেশের নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের ইঙ্গিতও হতে পারে।
প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় বাড়ছে গুরুত্ব
ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সবচেয়ে দ্রুত বিকশিত ক্ষেত্রগুলোর একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা। গত কয়েক বছরে দুই দেশ সামরিক মহড়া, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং সামরিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়িয়েছে।
ভারত দীর্ঘদিন ধরেই সামরিক সরঞ্জামের অন্যতম বড় আমদানিকারক দেশ। যুক্তরাষ্ট্রও ভারতের প্রতিরক্ষা বাজারে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে। একই সঙ্গে ভারত নিজস্ব প্রতিরক্ষা উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে চাইছে। ফলে ভবিষ্যতে যৌথ উৎপাদন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরও দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সমুদ্রপথের নিরাপত্তা, নৌ-সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নেও ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ অনেকাংশে অভিন্ন।
এই প্রেক্ষাপটে মোদি-ভ্যান্সের আলোচনা শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বৃহত্তর এশীয় নিরাপত্তা কাঠামোর বিষয়েও প্রভাব ফেলতে পারে।
চীনকে ঘিরে অভিন্ন উদ্বেগ
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সম্পর্কের পেছনে চীনের факторও গুরুত্বপূর্ণ। এশিয়ায় চীনের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষিণ চীন সাগরে তাদের কার্যক্রম এবং ভারত-চীন সীমান্ত বিরোধ—সব মিলিয়ে দিল্লি ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে।
তবে ভারত একই সঙ্গে নিজের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখতে চায়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ালেও দিল্লি সরাসরি কোনো সামরিক জোটের অংশ হতে আগ্রহী নয়। বরং প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে নিজের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়াই ভারতের ঐতিহ্যগত কৌশল।
এই জায়গায় ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের বৈশিষ্ট্য হলো—দুই দেশ ঘনিষ্ঠ হলেও তাদের পররাষ্ট্রনীতির সব বিষয়ে অবস্থান এক নয়। রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা সম্পর্ক এবং মস্কোর সঙ্গে দিল্লির বর্তমান যোগাযোগ এর একটি বড় উদাহরণ।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় ফোনালাপের নতুন মাত্রা
মোদি-ভ্যান্সের ফোনালাপ এমন এক সময়ে হলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে। এর আগে শনিবার ভ্যান্স জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ যাতে নিরাপদে চলাচল করতে পারে, সে জন্য একটি নিরাপদ পথ তৈরিতে কাজ করছে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।
হরমুজ প্রণালি ভারতের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভারত তার জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করে এবং মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহের ওপর দেশটির অর্থনীতি উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল। ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত বা জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে তার প্রভাব ভারতের অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং মূল্যস্ফীতির ওপর পড়তে পারে। এই কারণে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ থাকা দিল্লির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান জোটের প্রেক্ষাপট
মোদি-ভ্যান্সের ফোনালাপের সময়েই মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা চলছে। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেছে। এই চুক্তিকে মধ্যপ্রাচ্য ও বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বের পরিবর্তিত নিরাপত্তা সমীকরণের সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের এই ঘনিষ্ঠতা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোকে কীভাবে প্রভাবিত করবে, সেটিও ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির নজরে থাকার কথা। বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা সমীকরণেও এই ধরনের জোটের প্রভাব পড়তে পারে।
তবে সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান চুক্তি সরাসরি ভারত বা যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী কোনো সামরিক জোট—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত তথ্য এখনো নেই। বরং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়াতে এবং বহুমুখী অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চাইছে—এমন একটি বৃহত্তর প্রবণতার অংশ হিসেবেই বিষয়টিকে দেখা হচ্ছে।
ভ্যান্সের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কেন গুরুত্বপূর্ণ
জেডি ভ্যান্স শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট নন; তিনি বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারকদের একজন। ফলে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগাযোগ দুই দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের উচ্চপর্যায়ের সমন্বয়ের বিষয়টিও সামনে আনে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসনের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্যনীতির বিভিন্ন পরিবর্তনের মধ্যে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক কীভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে, তা দিল্লির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ—প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর, মহাকাশ, জ্বালানি, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য। একই সঙ্গে ভারত চায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার পাশাপাশি তার নিজস্ব কৌশলগত স্বাধীনতাও বজায় থাকুক।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ভারত গুরুত্বপূর্ণ একটি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদার। চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বিকল্প উৎপাদনকেন্দ্র তৈরির ক্ষেত্রেও ভারতের ভূমিকা বাড়ছে।
বাণিজ্যও বড় আলোচনার বিষয়
ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বাণিজ্য। দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক দ্রুত বাড়লেও শুল্ক, বাজারে প্রবেশাধিকার, কৃষিপণ্য, শিল্পপণ্য ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে কৌশলগত অংশীদারত্ব গভীর করার পাশাপাশি বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করা দুই দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মোদি-ভ্যান্সের ফোনালাপে বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি। তবে দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সহযোগিতা এখন এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্কের সঙ্গে বাণিজ্যিক সমীকরণও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতের জন্য লাভ কোথায়
ভারতের দৃষ্টিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো উন্নত প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, বিনিয়োগ এবং বৈশ্বিক কূটনীতিতে প্রভাব বাড়ানোর সুযোগ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভারত হলো বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতি, দ্রুত বর্ধনশীল বাজার এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। দুই দেশের এই পারস্পরিক প্রয়োজনই সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদে আরও গভীর করার ভিত্তি তৈরি করেছে। তবে এই সম্পর্কের সামনে চ্যালেঞ্জও রয়েছে। ভারত যেমন রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করতে চায় না, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রও চায় না তার মিত্র ও অংশীদাররা এমন কোনো অবস্থান নিক, যা ওয়াশিংটনের বৈশ্বিক কৌশলের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়।
ফলে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক যতই ঘনিষ্ঠ হোক, দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত স্বার্থের পার্থক্য থাকবে। সেই পার্থক্য সামলে সহযোগিতার ক্ষেত্র বাড়ানোই হবে দুই দেশের নেতৃত্বের বড় পরীক্ষা।
সামনে কী
মোদি ও ভ্যান্সের সর্বশেষ ফোনালাপের তাৎক্ষণিক ফলাফল কী হবে, তা এখনই বলা কঠিন। কারণ আলোচনার বিস্তারিত বিষয় প্রকাশ করা হয়নি। তবে ‘কমপ্রিহেনসিভ গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ আরও গভীর করার বিষয়ে দুই নেতার আলোচনা থেকে স্পষ্ট—ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের সম্পর্ককে শুধু দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছে না।
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা, চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির পরিবর্তিত বাস্তবতা—সবকিছু মিলিয়ে দিল্লি ও ওয়াশিংটনের পারস্পরিক নির্ভরতা বাড়ছে।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক ও কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি এশিয়াতেও শক্তির ভারসাম্য বদলাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠতা শুধু দুই দেশের সম্পর্কের বিষয় নয়; বরং এশিয়া ও বিশ্বের বৃহত্তর ভূরাজনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
তাই মোদি-ভ্যান্সের ফোনালাপকে নিছক সৌজন্য বিনিময় হিসেবে দেখার সুযোগ কম। আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ না হলেও, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে এই যোগাযোগ দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সমন্বয় আরও জোরদার করার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।