যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আলোচনার বিষয়ে প্রস্তাব ইরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছে পাকিস্তান। যুদ্ধ অবসান নিয়ে বৈঠক শুরু হলে তা হতে পারে পাকিস্তানে কিংবা তুরস্কেও। বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে একথা জানিয়েছেন ইরানের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
ইরানের এই করমকর্তার বক্তব্য থেকে তেহরান কূটনৈতিক প্রস্তাব বিবেচনা করতে পারে এমন বিরল ইঙ্গিতই পাওয়া যচ্ছে। যদিও তেহরান প্রকাশ্যে কোনও আলোচনা চলার খবর অস্বীকার করছে এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কোনও চুক্তি করবে না বলে জানিয়ে আসছে।
পাকিস্তানের মাধ্যমে আসা প্রস্তাবটির বিস্তারিত কিংবা এটি আগে রয়টার্সসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ১৫ দফা দাবি-দাওয়ার রূপরেখা কি না, তা ইরানি ওই কর্মকর্তা খোলাসা করেননি। তবে তিনি বলেছেন, আলোচনার স্থান হিসেবে তুরস্ক কিংবা পাকিস্তানের নাম বিবেচনাধীনে আছে।
পাকিস্তান এরই মধ্যে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি আলোচনার আয়োজক দেশ হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। তারা মঙ্গলবারেই জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান রাজি থাকলে এ সপ্তাহেই ইসলামাবাদে বৈঠক আয়োজন করা হতে পারে।
ওদিকে, তুরস্কের শাসকদলের শীর্ষনেতা হারুন আর্মাগান বুধবার রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বার্তা চালাচালিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছেন তারা।
তবে ইরানের দিক থেকে এখনও আলোচনার প্রস্তাব গ্রহণ করা বা আলোচনায় ইচ্ছুক থাকার বিষয়ে প্রকাশ্যে সরকারি কোনও বিবৃতি আসেনি। বরং যুক্তরাষ্ট্র নিজেরই নিজেদের সঙ্গে আলোচনা করছে কিনা এমন কটাক্ষ করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী।
ভারতের একটি টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, ট্রাম্প যখন হামলা চালান তখন পরমাণু আলোচনা চলছিল। একে তিনি কূটনীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বলে অভিহিত করে বলেন, এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে আলোচনা নিরর্থক।
তিনি বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনও আলোচনা হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকে কেউ বিশ্বাস করতে পারে না। তাদের দাবির বিষয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট।
বর্তমানে আমাদের বীর সেনাবাহিনী এই নৃশংস ও অবৈধ যুদ্ধের বিরুদ্ধে ইরানের ভূখণ্ড ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় মনোনিবেশ করেছে।
ওদিকে, ইসরায়েলের জ্যেষ্ঠ এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেছেন, ইরান শর্তে রাজি হবে কি না তা নিয়ে ইসরায়েল সন্দিহান। এই শর্তগুলো কেবল আলোচনার সূচনা এবং আলোচনার এক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা হয়ত ইরানকে বিভিন্ন ছাড় দিতে পারেন।