কেবল ডোনাল্ড ট্রাম্পই জানেন তিনি কী করবেন বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ। এর আগে, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সময়সীমা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ইরানকে কঠোর হুমকি দিয়ে ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে বলেন, আজ রাতে একটি সভ্যতার মৃত্যু হবে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট আল জাজিরাকে এমনটি জানান।
পরবর্তী ৭ ঘণ্টার মধ্যে ইরানকে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতেই হবে- ট্রাম্পের এমন দাবি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করার জন্য ইরানের শাসকদের হাতে রাত ৮টা পর্যন্ত সময় আছে।
তিনি আরও বলেন, এমনটি না হলে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে এবং তিনি কী করবেন তা কেবল ট্রাম্পই বলতে পারেন।
এর আগে, ট্রাম্পের হুমকির জবাবে মঙ্গলবার এক এক্স পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকি লেখেন, কোনো সৎ উদ্দেশ্যে বর্বরতার বিরুদ্ধে একটি সভ্য জাতির সংস্কৃতি, যুক্তি এবং বিশ্বাসের শক্তির জয় হবে।
নিজ দেশ ইরানের দিকে ইঙ্গিত করে ওই পোস্টে তিনি আরও লেখেন, এটা এমন এক জাতি যারা সত্যের ওপর আস্থা রাখে এবং নিজেদের অধিকার এবং ন্যায্য দাবির সুরক্ষায় তার সর্বশক্তি এবং ক্ষমতা প্রয়োগ করবে।
সভ্যতা মুছে ফেলার হুমকি
এর আগে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, একটি পুরো সভ্যতা আজ বিলীন হয়ে যাবে বলে হুমকি দেন। বেসামরিক জনগণের প্রতি সাম্প্রতিক হুমকি নিয়ে তার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। গুতেরেস বিশ্বাস করেন, নেতারা ধ্বংস ছেড়ে আলোচনার পথ বেছে নিলেই যুদ্ধ বন্ধ করা সম্ভব।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ওপর বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী আগ্রাসন চালাচ্ছে। জবাবে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে ইরানও । মার্কিনীদের গর্বের এফ-১৫ বিমানও ইরানের যোদ্ধারা কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েই ভূপাতিত করেছেন বলে দাবি তাদের।
জাতিসংঘ মহসচিবের মুখপাত্র স্টেফানি ডুজারিক জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের কথা উল্লেখ না করলেও গুতেরেস একটি পুরো সভ্যতাকে রাজনৈতিক ও সামরিক সিদ্ধান্তের বলি হওয়া সংক্রান্ত বক্তব্যে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে বিবিসি উল্লেখ করে, জাতিসংঘ মহাসচিবের মতে, এমন কোনো সামরিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে না যা একটি সভ্যতার ভিত্তি পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া কিংবা বেসামরিক জনগণের কষ্টভোগ সমর্থন করে।