বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থাকে জানিয়ে বিসিবি নিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
তদন্ত কমিটির কাজ শেষ। এবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কাজ শুরু। প্রতিবেদন খতিয়ে দেখে তারা ব্যবস্থা নেবেন। সেই প্রক্রিয়ার অংশ থাকবে আইসিসিও। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থাকে জানিয়ে বিসিবি নিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
আমিনুল হকের অনুমোদনেই গত মাসে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। বিসিবির গত নির্বাচনে অনিয়ম ও কারসাজির অভিযোগ খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয় এই কমিটিকে। সুপ্রীম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে সেই কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেন রোববার।
সেই প্রতিবেদনের ওপরই নির্ভর করছে বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের ভাগ্য। প্রতিবেদনে কী কী উঠে এসেছে, তা নিয়ে কৌতূহল এখন তুঙ্গে।
এ দিনই বিকেএসপি পরিদর্শনে গিয়ে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আমিনুল জানালেন, প্রতিবেদনটি আইসিসিতে পাঠিয়েই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
“সকালবেলা তদন্ত কমিটি এসে তদন্ত প্রতিবেদন দিয়ে গেছে। দেওয়ার পরে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে এখানে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের একটি সভা ডেকেছিলাম এবং সেই সভায় আমরা আলাপ-আলোচনা করেছি। আমাদের যে আইসিসি রয়েছে, আইসিসিকে তদন্ত রিপোর্টটি অবগত করার পরেই আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।”
এই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরই সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভুঁইয়া সামাজিক মাধ্যমে বেশ কিছু অভিযোগ করেন এই কমিটির গ্রহণযোগ্যতা ও প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে। পাশাপাশি ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান যে, লোভ দেখিয়ে ও ভয় দেখিয়ে বিসিবি পরিচালকদের পদত্যাগ করাচ্ছেন।
উল্লেখ্য যে, বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের ৭ জন পরিচালক এখনও পর্যন্ত সরে দাঁড়িয়েছেন। শনিবার বোর্ড সভা শেষে এক দিনেই পদত্যাগ করেন ৪ পরিচালক।
সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টার অভিযোগ নিয়ে সরাসরি কিছু না বলে বিচারের ভার অন্যদের ওপরই ছেড়ে দিলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী, ‘ফেসবুকে তো আসলে সত্য কথাও দেখি, মিথ্যা কথাও দেখি। তিনি সত্য বলেছেন কী মিথ্যা বলেছেন, আমি আপনাদের উপরে ছেড়ে দিচ্ছি। আপনারা এটা যাচাই করে নেন যে, তার ফেসবুকের স্ট্যাটাসে যে কথাগুলো বলেছেন, সেটা কতটুকু সত্য কতটুকু মিথ্যা।’
এই তদন্ত কমিটি আলোচনার জন্য ডেকেছিল আসিফ মাহমুদ সজিব ভুঁইয়াকেও। কিন্তু নির্বাচনের সময়কার ক্রীড়া উপদেষ্টা হাজির হননি কমিটির সামনে। এটি নিয়ে জিজ্ঞেস করা হলেও খুব বেশি গভীরে যেতে চাইলেন না আমিনুল, ‘দেখুন এর মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আমাদের কাছে জমা হয়েছে। তিনি অংশগ্রহণ করেননি, নিশ্চয়ই সেটি তদন্ত প্রতিবেদনের ভেতরে রয়েছে এবং আমরা সেটি যাচাইবাছাই করেছি। তিনি উপস্থিত হননি, সেটিও আমি দেখেছি। পরবর্তী সিদ্ধান্ত আইসিসির সাথে কথা বলে তারপরে জানাব আপনাদেরকে।’