ফুটবল বিশ্বকাপের প্রাথমিক দল ফিফার কাছে জমা দেয়ার শেষদিন আজ। আর এই শেষ সময়ে এসে আর্জেন্টিনার প্রাথমিক স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন দেশটির বিশ্বকাপজয়ী কোচ লিওনেল স্কালোনি। এবারের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে প্রাথমিক স্কোয়াডে ৫৫ জনকে রেখেছেন তিনি। এই প্রাথমিক তালিকা থেকেই পরে ২৬ জনের চূড়ান্ত স্কোয়াড বেছে নিতে হবে তাকে।
আর্জেন্টিনার প্রাথমিক স্কোয়াডে সবচেয়ে বড় চমক সান্তিয়াগো বেলট্রান। ছয় গোলরক্ষকের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন রিভার প্লেটের তরুণ এই গোলরক্ষক। এ ছাড়া বোকা জুনিয়র্সের লাউতারো দি ললো ও হেতাফের জাইদ রোমেরোও জায়গা করে নিয়েছেন। দলে ফিরেছেন আলেহান্দ্রো গারনাচো, মাতিয়াস সুলে ও ক্লদিও এচেভেরির মত ফুটবলাররা। তবে জায়গা হয়নি তারকা ফুটবলার পাউলো দিবালার।
বিশ্বকাপে কেমন হবে আর্জেন্টিনার বেস ক্যাম্প, আর মেসিদের জন্য সেখানে কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকছে তা এক নজরে দেখে নেয়া যাক। ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’-এ তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ঘাঁটি হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যানসাস সিটির কম্পাস মিনারেলস ন্যাশনাল পারফরম্যান্স সেন্টার।
জ্যাজ সঙ্গীত, বারবিকিউ আর জলপ্রপাতের শহর ক্যানসাস সিটি। এই শহরের একেবারে প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত কম্পাস মিনারেলস ন্যাশনাল পারফরম্যান্স সেন্টার। মূলত মেজর লিগ সকার ক্লাব স্পোর্টিং ক্যানসাস সিটির অনুশীলন কেন্দ্র এটি।
শুধু ট্রেনিং গ্রাউন্ড বললে ভুল হবে এটি আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধাসমৃদ্ধ একটি পূর্ণাঙ্গ ফুটবল কমপ্লেক্স, যা আর্জেন্টিনা দলের বেস ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহৃত হবে। প্রায় ৭৫ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় সাড়ে আটশো কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৮ সালে প্রায় ৫০ একর জায়গাজুড়ে এটি নির্মাণ করা হয়।
বিশ্বকাপ জয়ীদের এই বেস ক্যাম্পে কী নেই? নিয়মিত অনুশীলনের জন্য তিনটি প্রাকৃতিক ঘাসের মাঠের পাশাপাশি রয়েছে দুটি টার্ফ ফিল্ড।
পারফরম্যান্স সেন্টারটিতে রয়েছে ১২ হাজার ৮০০ বর্গফুটের একটি আধুনিক জিমনেশিয়াম। আছে দুই স্তরের কোচিং প্যাভিলিয়ন এবং অত্যাধুনিক পিচ ল্যাব। কোচিং স্টাফ ও খেলোয়াড়দের নিয়ে টেকনিক্যাল আলোচনা করার জন্য লিওনেল স্কালোনি পাবেন একটি আলাদা এডুকেশন এরিয়া।
এছাড়া রয়েছে সুইমিং পুল, হাইড্রোথেরাপি পুল, সোনা ইত্যাদি সুবিধা। পাশাপাশি মেডিকেল সেন্টারে ২৪ ঘণ্টা স্ট্যান্ডবাই থাকবেন একাধিক ডাক্তার ও নার্স।
মাঠসংলগ্ন অংশে মেসি, মার্টিনেজদের জন্য রয়েছে একটি চমৎকার ডাইনিং লাউঞ্জ। এর বাইরে লাঞ্চ ও ডিনারের জন্য আলাদা ব্যবস্থাও থাকবে।
আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচ আলজেরিয়ার বিপক্ষে। ক্যানসাস স্টেডিয়াম থেকে বেস ক্যাম্পটির দূরত্ব প্রায় ২৭ কিলোমিটার, যা খুব বেশি নয়। এরপর অস্ট্রিয়া ও জর্ডানের বিপক্ষে খেলতে আলবিসেলেস্তেরা ডালাসে যাবে।
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রাথমিক দল
গোলকিপার: এমিলিয়ানো মার্তিনেজ (অ্যাস্টন ভিলা), জেরোনিমো রুলি (অলিম্পিক মার্শেই), হুয়ান মুসো (আতলেতিকো মাদ্রিদ), ওয়াল্টার বেনিতেজ (ক্রিস্টাল প্যালেস), ফাকুন্দো কাম্বেসেস (রাসিং ক্লাব), সান্তিয়াগো বেলট্রান (রিভার প্লেট)
ডিফেন্ডার: অগুস্তিন গিয়াওয়াই (পালমেইরাস), গনজালো মন্টিয়েল (রিভার প্লেট), নাহুয়েল মলিনা (আতলেতিকো মাদ্রিদ), নিকোলাস কাপালদো (হামবুর্গ), কেভিন ম্যাক অ্যালিস্টার (ইউনিয়ন সেন্ট জিলয়েস), লুকাস মার্তিনেজ কুয়ার্তা (রিভার প্লেট), মার্কোস সেনেসি (বোর্নমাউথ), লিসান্দ্রো মার্তিনেজ (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), নিকোলাস ওতামেন্দি (বেনফিকা), হের্মান পেজেয়া (রিভার প্লেট), লিওনার্দো বালের্দি (অলিম্পিক মার্শেই), ক্রিস্তিয়ান রোমেরো (টটেনহাম হটস্পার), লাউতারো দি ললো (বোকা জুনিয়রস), জাইদ রোমেরো (গেতাফে), ফাকুন্দো মেদিনা (অলিম্পিক মার্শেই), মার্কোস আকুনা (রিভার প্লেট), নিকোলাস তাগলিয়াফিকো (অলিম্পিক লিওঁ), গাব্রিয়েল রোহাস (রাসিং ক্লাব)
মিডফিল্ডার: মাক্সিমো পেরোনে (কোমো ১৯০৭), লিয়ান্দ্রো পারেদেস (বোকা জুনিয়রস), গিদো রদ্রিগেজ (ভ্যালেন্সিয়া), আনিবাল মোরেনো (রিভার প্লেট), মিল্টন দেলগাদো (বোকা জুনিয়রস), অ্যালান ভারেলা (পোর্তো), এজিকুয়েল ফার্নান্দেজ (বায়ার লেভারকুসেন), রদ্রিগো দি পল (ইন্টার মায়ামি), এজেকিয়েল পালাসিওস (বায়ার লেভারকুসেন), এনজো ফার্নান্দেজ (চেলসি), অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার (লিভারপুল), জিওভানি লো সেলসো (রিয়াল বেতিস), নিকোলাস দোমিঙ্গেজ (নটিংহাম ফরেস্ট), এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া (অ্যাস্টন ভিলা), ভ্যালেন্টিন বার্কো (রেসিং ক্লাব ডি স্ট্রাসবার্গ)
ফরোয়ার্ড: লিওনেল মেসি (ইন্টার মায়ামি), নিকোলাস পাজ (কোমো ১৯০৭), ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়ানো (রিয়াল মাদ্রিদ), থিয়াগো আলমাদা (আতলেতিকো মাদ্রিদ), তমাস আরান্দা (বোকা জুনিয়রস), নিকোলাস গনজালেজ (আতলেতিকো মাদ্রিদ), আলেহান্দ্রো গারনাচো (চেলসি), জুলিয়ানো সিমিওনে (আতলেতিকো মাদ্রিদ), মাতিয়াস সুলে (রোমা), ক্লদিও এচেভেরি (গিরোনা), জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ানি (বেনফিকা), সান্তিয়াগো কাস্ত্রো (বোলোনিয়া), লাউতারো মার্তিনেজ (ইন্টার মিলান), হোসে ম্যানুয়েল লোপেজ (পালমেইরাস), জুলিয়ান আলভারেজ (আতলেতিকো মাদ্রিদ), মাতেও পেলেগ্রিনো (পার্মা)।