প্রস্তুতিতে প্রাণবন্ত বাংলাদেশের লক্ষ্য ভারতকে বার্তা দেওয়া

ক্রীড়া প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

নানা প্রতিকূলতা মেনে নিয়েই মাঠে ঘাম ঝরিয়েছেন ঋতুপর্ণা-মনিকা-মারিয়ারা। প্রস্তুতিতে প্রাণবন্ত বাংলাদেশের লক্ষ্য ভারতকে বার্তা দেওয়া।

স্ট্রেন্থ ট্রেনিংয়ের অংশে ঘটল মজার এক ঘটনা। চওড়া রাবারের ফিতা দিয়ে একজন অন্য জনকে বেড়ি দিয়ে টেনে রাখবে, শক্তি দিয়ে সেই বেড়ি ছাড়িয়ে ছুটতে হবে। ফিজিও ক্যামেরন লর্ড ইংরেজিতে কয়েকবার বলেও বোঝাতে পারলেন না ঠিকঠাক। টিম ম্যানেজার খালিদ মাহমুদ নওমি ও মিডিয়া ম্যানেজার সাঈদ হাসান বাংলায় বুঝিয়ে দিলেন মেয়েদের। এরপর তহুরা খাতুনের বেড়ি ছাড়িয়ে মানিকা চাকমা বেরিয়ে যেতেই, অদুরে দাঁড়িয়ে অধিনায়ক মারিয়া মান্দা চিৎকার করে বলে উঠলেন, গরু ছুটে গেল রে…। সাথে সাথে চারদিকে পড়ে গেল হাসির রোল। বাংলাদেশ দলের প্রাণবন্ত ছবিই যেন ফুটে উঠল।

উইমেন’স সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের মিশনে আসা দলের এই উচ্ছ্বাস অবশ্য কিছুটা চাপা পড়ে গিয়েছিল ব্যাম্বোলিম অ্যাথলেটিক ক্লাব মাঠে নামার আগে। ড্রেসিংরুমের পরিবেশ দেখে নাক সিঁটকে বাইরে বসে জার্সি ও বুট পরল মেয়েরা।

এরপর অনুশীলন মাঠে নেমে অভিজ্ঞতা হলো আরও তেতো। পাহাড় ঘেরা মাঠের চারপাশের দৃশ্য যতটা নয়নাভিরাম, মাঠের অবস্থা ততটাই নাজুক। রাতের বৃষ্টিতে ভারী ও পিচ্ছিল ছিল মাঠ। কোথাও কোথাও জমে ছিল পানি। মাঠের ভেতরেই দৌড়াদৌড়ি করছিল স্থানীয় অনেকে। মাঠ অসমান থাকায় চোটের ভয়ও ছিল। তবে, সে ভয়কে জয় করে মঙ্গলবার অনুশীলন সেরে নেয় মেয়েরা।

গোলকিপিং কোচ মাসুদ আহমেদ উজ্জ্বল এক কোণে তিন গোলকিপার রুপনা চাকমা, মিলি আক্তার ও স্বর্ণা রানী মন্ডলকে নিয়ে অনুশীলন করলেন। পোস্টে যেন একটু বেশিই সময় কাটালেন মিলি। রুপনা যদিও দুইবারের সাফ চ্যাম্পিয়ন, কিন্তু এ মুহূর্তে কোচ পিটার জেমস বাটলারের প্রথম পছন্দের গোলকিপার মিলি।

১৯ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক সবশেষ উইমেন’স এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে চীন, উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তান-তিন শক্তিশালী দলের বিপক্ষে সামলেছেন পোস্ট। পরাস্ত হয়েছেন ১১ বার, কিন্তু একাধিক সেভ ও সাহসী গোলকিপিং করে অর্জন করেছেন বাটলারের আস্থা। প্রস্তুতির সময় ডান হাতে পাওয়া চোট সেরে ওঠায় মিলির মালদ্বীপের বিপক্ষে খেলার সম্ভাবনাও বেশি।

প্রস্তুতির সময় ছিল রোদ। তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, কিন্তু অনুভূতি ছিল ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি। একটু অনুশীলনেই ঘেমে নেয়ে একাকার ঋতুপর্ণা-মনিকারা ছুটছিলেন পানি পানের উদ্দেশে। গোয়ার সকালের আবহাওয়াও ছিল অদ্ভূত। রোদ-মেঘ-বৃষ্টির লুকোচুরি চলছিল বাংলাদেশের প্রস্তুতির সময় জুড়ে।

ঘণ্টা দেড়েকের প্রস্তুতিতে শুরুতে গা গরম হলো। এরপর শুরেু হলো মূল অনুশীলন। মালদ্বীপকে ভারত ১১ গোল দেওয়ায় তাদের চেয়ে বেশি গোল দেওয়ার তাড়না থেকেই ফরোয়ার্ডদের নিয়ে একটু বেশিই কাজ করলেন বাটলার। দুই দলে ভাগ হয়ে মাঠ ছোট করে খেলা হলো ম্যাচও। ঋতুপর্ণা, আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী, তহুরা খাতুন, শামসুন্নাহার জুনিয়রদের কিছু প্রচেষ্টা পেল জালের দেখা, কিছু গেল পোস্টের বাইরে, কিছু ক্রসবারের উপর দিয়ে গেল উড়ে।

মনিকা-ঋতুপর্ণা-রিপারা খেললেন ৪-৩-৩ ফরমেশনে। উমহেলা মারমা-সাগরিকারা খেললেন ৪-১-৩-২ ফরমেশনে। তাতে স্পষ্ট হয়ে উঠল ফরমেশনের বিকল্পগুলো মাঠের লড়াই শুরুর আগে ঠিকঠাক পরখ করে নিচ্ছেন কোচ পিটার জেমস বাটলার। প্রস্তুতি ম্যাচে অবশ্য দাপট দেখালেন মানিকা-মারিয়ারা।

নতুন অধিনায়ক মারিয়া মান্দাকে দেখা গেল কখনও মনিকাকে, কখনও রিপাকে নির্দেশনা দিতে। সতীর্থদের সাথে খুনসুটিও করতে দেখা গেল তাকে। বোঝা গেল, সমবয়সী কিংবা ছোটদের সাথে এরই মধ্যে বেশ জমে গেছেন তিনি।

প্রস্তুতির শেষ দিকে ফের শুরু হলো ঝুম বৃষ্টি। তার মধ্যেই প্রস্তুতি চালিয়ে নিলেন বাটলার। মালদ্বীপের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচ বৃহস্পতিবার, ফলে শেষ মুহূর্তের গোছগাছ সেরে নিতে কোচের হাতে সময় নেই খুব বেশি। তবে এদিনের প্রস্তুতির গাঢ়তা, মেয়েদের নিবেদন, দলের পরিবেশ যেন আভাষ দিয়ে রাখল, প্রচণ্ড এক আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ দলই নামবে মালদ্বীপের বিপক্ষে।

দলের ফরোয়ার্ড শাহেদা আক্তার রিপা যেমন বলে গেলেন, মালদ্বীপের বিপক্ষে ম্যাচেই ভারতকে বার্তা দিতে চান তারা। মানে, মালদ্বীপকে ১১ গোল দিয়েছে ভারত, বাংলাদেশের চাওয়া আরও বেশি!

বিষয়:

#বাংলাদেশ
এলাকার খবর

সম্পর্কিত