দুই বছর আগের স্মৃতি এখনো তাজা। হংকংয়ের মং ককে নারী রাইজিং স্টারস এশিয়া কাপ ক্রিকেটের প্রথম আসরের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ ও ভারত। শিরোপার লড়াইয়ে ৩১ রানে হেরে রানার্সআপ হয় বাংলাদেশ। অধিনায়ক ছিলেন লতা মণ্ডল। শিরোপা উঁচিয়ে ধরে ভারত।
দুই বছর পর আবারও সেই মঞ্চ, আবারও ফাইনাল, আবারও প্রতিপক্ষ ভারত। তবে এবার নেতৃত্বে লেগ স্পিন অলরাউন্ডার ফাহিমা খাতুন। প্রশ্ন একটাই—এইবার কি প্রতিশোধের পালা বাংলাদেশের?
ফাহিমার নেতৃত্বে এবারের আসরে দাপুটে ক্রিকেট খেলছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। গ্রুপ পর্বে টানা তিন ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে ওঠে তারা। ৪ রানে শ্রীলঙ্কা, ৩ উইকেটে থাইল্যান্ড এবং ৯০ রানে মালয়েশিয়াকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী দলটি।
সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ ছিল পাকিস্তান ‘এ’। ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১১০ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। জবাবে পাকিস্তান ১৬.৪ ওভারে মাত্র ৫৬ রানে অলআউট। জয় ৫৪ রানের বড় ব্যবধানে।
এই ম্যাচে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন ফাহিমা। ব্যাট হাতে ৪০ রানের অপরাজিত ইনিংস, পরে বল হাতে ৩ ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে ২ উইকেট—অলরাউন্ডিং নৈপুণ্যে ম্যাচসেরা তিনি। সানজিদা আক্তার মেঘলা নেন ৩ উইকেট। পুরো টুর্নামেন্টেই নিয়ন্ত্রিত বোলিং ও দৃঢ় ব্যাটিংয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দল হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে বাংলাদেশ।
এবারের আসরে এখন পর্যন্ত টানা চার ম্যাচ জিতে অপরাজিত রয়েছে ফাহিমা বাহিনী। আত্মবিশ্বাস, গতি ও দলীয় সমন্বয়ে তারা ফাইনালের জন্য প্রস্তুত।
অন্যদিকে ভারত ‘এ’ দলও টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠেছে। সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে তারা।
অধিনায়ক Radha Yadav ছিলেন ম্যাচের নায়ক। বল হাতে ১৯ রানে ৪ উইকেট এবং ব্যাট হাতে ১৮ বলে ৩১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। ১১৯ রানের লক্ষ্য ভারত ৩৯ বল হাতে রেখেই ছুঁয়ে ফেলে।
তবে এবারের আসরে ভারত গ্রুপ পর্বে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে ৭ উইকেটে হেরেছিল—যা তাদের জন্য সতর্কবার্তা। তুলনায় বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত অপরাজিত।
দুই বছর আগে হারার যন্ত্রণা এবার বাড়তি প্রেরণা হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের জন্য। লতা মণ্ডলের দল যে স্বপ্ন পূরণ করতে পারেনি, সেই স্বপ্ন পূরণের দায়িত্ব এখন ফাহিমার কাঁধে।
এই টুর্নামেন্ট শুধু একটি শিরোপার লড়াই নয়। সামনে ইংল্যান্ডে বসতে যাচ্ছে টি-২০ বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি এবং চূড়ান্ত স্কোয়াড বাছাইয়ের লক্ষ্যেই বিসিবি জাতীয় দলের একাধিক ক্রিকেটার নিয়ে ‘এ’ দল গঠন করেছে। ফলে এই আসর ভবিষ্যৎ জাতীয় দলের ভিত্তি তৈরির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।
অন্য দলগুলো যেখানে পাইপলাইনের ক্রিকেটারদের সুযোগ দিয়েছে, সেখানে বাংলাদেশ তুলনামূলক অভিজ্ঞ ও জাতীয় দলে খেলা ক্রিকেটারদের নিয়েই নামিয়েছে দল। তাই প্রত্যাশাও বেশি।
ফাইনাল মানেই আলাদা চাপ। পরিসংখ্যান, ফর্ম—সবকিছু ছাপিয়ে নির্ধারক হয়ে ওঠে মানসিক দৃঢ়তা।
বাংলাদেশের সামনে তাই দ্বৈত চ্যালেঞ্জ— এক, দুই বছর আগের হারের প্রতিশোধ নেওয়া। দুই, ভবিষ্যৎ বিশ্বকাপের আগে আত্মবিশ্বাসী বার্তা দেওয়া। মং ককের সেই রাতের আক্ষেপ কি এবার ঘুচবে? ফাহিমা খাতুনের নেতৃত্বে কি উঠবে শিরোপা? উত্তর মিলবে ফাইনালের লড়াইয়ে।