বড় চমক দিয়ে বাংলাদেশের প্রথম দুই টি-টোয়েন্টির স্কোয়াড ঘোষণা

ক্রীড়া প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
আব্দুল গাফ্ফার সাকলাইন (বাঁয়ে) ও রিপন মন্ডল। ছবি: এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল ছবি:
আব্দুল গাফ্ফার সাকলাইন (বাঁয়ে) ও রিপন মন্ডল। ছবি: এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল ছবি:

তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শেষে সমানসংখ্যক ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। সিরিজটির প্রথম ২ ম্যাচ উপলক্ষে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। 

ঘোষিত এই দলের সবচেয়ে বড় চমক আব্দুল গফফার সাকলাইন। প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে ডাক পেয়েছেন এই তরুণ ক্রিকেটার। স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এশিয়া গেমসে ৩ ম্যাচের জন্য বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা রিপন মন্ডলকেও। 

এদিকে, দল থেকে বিশ্রাম দেয়া হয়েছে একাধিক তারকা পেসারকে। স্কোয়াডে রাখা হয়নি মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ এবং নাহিদ রানাকে। নবাগত সাকলাইন ও রিপনের সঙ্গে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ সামলাবেন শরীফুল ইসলাম ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। 

বিসিবির ভিডিও বার্তায় হাবিবুল বললেন, নতুনদের পরখ করে দেখতেই তাসকিন-নাহিদদের বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে, ‘অবশ্যই আমরা টি-টোয়েন্টিতে কিছু নতুন মুখ দেখতে চেয়েছি। এই জন্যই নাহিদ রানা, তাসকিনকে বিশ্রাম দিয়েছি। আর ওয়ানডে ম্যাচের পর নাহিদের অবশ্যই বিশ্রামের প্রয়োজন টেস্ট ম্যাচের আগে। টি-টোয়েন্টিতে আমরা কিছু নতুনকে পরখ করব, সেই ভাবনাতেই আসলে তাদের দলে নেওয়া।’

টেপ টেনিস থেকে দেশের ক্রিকেটের মূল স্রোতে উঠে আসেন সাকলাইন। পেস বোলিংয়ের পাশাপাশি নিচের দিকে ব্যাটিংয়ে বড় শট খেলার সামর্থ্য আছে তার। গত বছর রাইজিং স্টার্স এশিয়া কাপে দারুণ বোলিংয়ে নজর কাড়েন তিনি। ফাইনালে পাকিস্তান শাহিনসের বিপক্ষে শেষের আগের ওভারে তার দুটি ছক্কা ও রিপনের সঙ্গে শেষ উইকেট জুটিতে ম্যাচ ‘টাই’ করে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। 

স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে এখন পর্যন্ত ২৫ ম্যাচে ২৪ উইকেট নিয়েছেন সাকলাইন। ওভারপ্রতি রান দিয়েছেন কেবল ৬.৬৬ করে। চার উইকেট পেয়েছেন একবার। ব্যাটিংয়ে ১৩৪.৩২ স্ট্রাইক রেটে রান করেছেন ৯০, সর্বোচ্চ ৩২।

পেস বোলিং অলরাউন্ডারের জন্য বাংলাদেশের হাহাকার বহু দিনের। মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনকে নিয়ে দেশের ক্রিকেটের আশা ছিল অনেক। কিন্তু চোটের জন্য প্রায়ই বাইরে থাকতে হয় তাকে।

২৮ বছর বয়সী সাকলাইনকে দিয়ে সেই ঘাটতি পূরণের আশা প্রধান নির্বাচকের, ‘আমরা একজন (পেস) বোলিং অলরাউন্ডার খুঁজছি। তিনি (সাকলাইন) আমাদের সেই বিকল্প হতে পারেন। সেই চিন্তা-ভাবনা থেকেই তাকে দলে নেওয়া। আশা করি, ভবিষ্যতে বোলিং অলরাউন্ডারের যে জায়গাটা, সেটা পূরণ করতে পারবেন তিনি। সম্প্রতি ভালো ফর্মে আছেন। আশা করি, তার সেই ফর্ম আমরা কাজে লাগাতে পারব।’

২৩ বছর বয়সী রিপন অবশ্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের স্বাদ পেয়েছেন এরই মধ্যে। ২০২৩ এশিয়ান গেমসে তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলেন তিনি। তবে এশিয়ান গেমসে মূলত দ্বিতীয় সারির দল খেলেছিল প্রায় সব দেশের। এখনও তাই মূল দলের হয়ে ম্যাচ খেলা হয়নি রিপনের।

গত বছরের রাইজিং স্টার্স এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশ ‘এ’ দল সুপার ওভারে হেরে গেলেও, পাঁচ ম্যাচে ১১ উইকেট নিয়ে রিপন ছিলেন আসরের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। একের পর এক ইয়র্কার নিখুঁতভাবে করে নজর কেড়েছিলেন তিনি। সেই ফর্ম পরে বিপিএলেও বয়ে আনেন রিপন। দারুণ বোলিংয়ে আসরে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে তিনবার ‘ম্যান অব দা ম্যাচ’ হওয়ার নজির গড়েন তিনি। রাজশাহীর হয়ে আট ইনিংসে ওভারপ্রতি ৮.৫৩ করে রান দিয়ে ১৭ উইকেট নিয়ে তিনি ছিলেন আসরের তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি।

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ, হাই পারফরম্যান্স স্কোয়াড, ইমার্জিং দল, ‘এ’ দল, নানা পর্যায়েই তাকে খেলানো হয়েছে বিভিন্ন সময়ে। এখন পর্যন্ত ৩৬ টি-টোয়েন্টিতে ওভারপ্রতি ৮.১১ করে রান দিয়ে রিপন নিয়েছেন ৫৯ উইকেট। চার উইকেট নিয়েছেন তিনবার। রিপনকে নিয়েও আশার কথা শোনালেন হাবিবুল, ‘রিপন মন্ডল ভালো করছিলেন, করছেন। আমরা মনে করছি, শেষের দিকে ডেথ ওভারে এবং শুরুর দিকে উইকেট নেওয়ার তার যে সামর্থ্য আছে, সেটা আমরা ভালোমতো ব্যবহার করতে পারব।’

আগামী ২৭ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। চট্টগ্রামে প্রথম দুইটি হলেও সিরিজের শেষ ম্যাচটি হবে ঢাকায়। তার আগে, আগামী বৃহস্পতিবার সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডে খেলবে দুই দল। 

প্রথম দুই টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের স্কোয়াড: লিটন কুমার দাস (অধিনায়ক), পারভেজ হোসেন ইমন, তানজিদ হাসান তামিম, মোহাম্মদ সাইফ হাসান (সহ-অধিনায়ক), শামীম হোসেন, তাওহীদ হৃদয়, নুরুল হাসান সোহান, শেখ মেদেদী হাসান, নাসুম আহমেদ, রিশাদ হোসেন, শরিফুল ইসলাম, তানজিম হাসান সাকিব, রিপন মণ্ডল, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও আব্দুল গাফফার সাকলাইন।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত