সাঞ্জু স্যামসনের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ভর করে সুপার এইটের শেষ ম্যাচে ৫ উইকেটের রোমাঞ্চকর জয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ভারত। এই জয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছে হট ফেভারিট ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। গ্রুপ ওয়ান থেকে অপরাজিত থেকে আগেই শেষ চার নিশ্চিত করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা, ফলে দ্বিতীয় সেমিফাইনালিস্ট নির্ধারণের লড়াইটি ছিল ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যে অলিখিত নকআউট ম্যাচ।
ম্যাচ শুরুর আগে হিসাব-নিকাশ ছিল পরিষ্কার। যে দল জিতবে, তারাই উঠবে সেমিফাইনালে। এমন পরিস্থিতিতে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং সংগ্রহ করে ১৯৫ রান। জবাবে ভারতের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯৬, যা সুপার এইটের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মোটেই সহজ ছিল না।
রান তাড়ায় নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় ভারত। দলীয় ২৯ রানেই বিদায় নেন ওপেনার অভিষেক শর্মা (১০)। স্কয়ার লেগে শিমরন হেটমায়ারের হাতে ধরা পড়েন তিনি। কিছুক্ষণ পর একই রানে (১০) আউট হন ইশান কিশানও। জেসন হোল্ডারের বলে আবারও স্কয়ার লেগে ক্যাচ দেন ধাক্কাটা আরও জোরালো হয়।
এই সংকটময় মুহূর্তে হাল ধরেন সাঞ্জু স্যামসন ও সূর্যকুমার যাদব। তৃতীয় উইকেটে তাদের ৫৮ রানের জুটি ভারতের ইনিংসে স্থিতি আনে। সূর্যকুমার ১৬ বলে ১৬ রান করে শামার জোসেফের শিকার হলে জুটি ভাঙে, তবে ততক্ষণে ম্যাচে ফেরার ভিত গড়ে ফেলে ভারত।
এরপর তিলক ভার্মাকে নিয়ে এগিয়ে যান স্যামসন। চতুর্থ উইকেটে যোগ হয় আরও ৪২ রান। তিলক ১৫ বলে ২৭ রান করে আউট হলেও রান রেট নিয়ন্ত্রণে ছিল। হার্দিক পান্ডিয়া যোগ দিলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে ভারতের দিকে হেলে পড়ে।
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন সাঞ্জু স্যামসন। মাত্র ২৬ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। উইকেটে সেট হয়ে যাওয়ার পর আরও বিধ্বংসী হয়ে ওঠেন। শেষ পর্যন্ত ৫০ বলে ৯৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন যা ছিল ম্যাচ জয়ের মূল চাবিকাঠি।
তবে ম্যাচের উত্তেজনা শেষ পর্যন্ত ছিল। হার্দিক ১৪ বলে ১৭ রান করে আউট হলে সমীকরণ দাঁড়ায় ১০ বলে ১৭ রান। তখনও ম্যাচ খোলা। এমন সময় ক্রিজে এসে প্রথম বলেই চার মারেন শিভম দুবে। পরের বলেও চার মুহূর্তেই চাপ কমে যায়। শেষ ওভারে দরকার ছিল ৭ রান, যা দুই বল হাতে রেখেই তুলে নেয় ভারত। ডাগআউটে শুরু হয় উদ্যাপন, নিশ্চিত হয় সেমিফাইনাল।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে রোস্টন চেইজ ও শাই হোপ সতর্ক শুরু করেন। পাওয়ার প্লেতে উইকেট না হারিয়ে ৪৫ রান তোলে ক্যারিবীয়রা। যদিও পঞ্চম ওভারে জসপ্রিত বুমরাহর বলে চেইজ ক্যাচ দিলেও তা লুফে নিতে পারেননি অভিষেক সুযোগ হাতছাড়া হয় ভারতের।
নবম ওভারে বরুণ চক্রবর্তীর দারুণ ডেলিভারিতে বোল্ড হন হোপ (৩৩ বলে ৩২)। তিন নম্বরে নেমে ঝড় তোলেন শিমরন হেটমায়ার, কিন্তু বুমরাহর বলে এজ হয়ে উইকেটের পেছনে ধরা পড়েন ১২ বলে ২৭ রান করে। একই ওভারে মিড-অফে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন চেইজও (২৫ বলে ৪০)।
মাঝে শেরফান রাদারফোর্ড ইনিংস বড় করতে পারেননি। দ্রুত কয়েকটি উইকেট পড়ে গেলে চাপে পড়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শেষদিকে জেসন হোল্ডার ও রোভম্যান পাওয়েল ঝড়ো ব্যাটিংয়ে দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন। পাওয়েল ১৯ বলে ৩৪ ও হোল্ডার ২২ বলে ৩৭ রান করে অপরাজিত থাকেন। ভারতের হয়ে জসপ্রিত বুমরাহ নেন দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট।
গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে চাপ সামলে জয়ের মাধ্যমে সেমিফাইনালে ওঠা ভারতের আত্মবিশ্বাস যে কয়েকগুণ বেড়েছে, তা বলাই বাহুল্য। শুরুতে হোঁচট খেলেও সাঞ্জু স্যামসনের দায়িত্বশীল ও আক্রমণাত্মক ইনিংস দলকে টেনে তুলেছে। অন্যদিকে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট হয়েও সুপার এইটেই থেমে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজের যাত্রা।
এখন শেষ চারের লড়াইয়ে নতুন করে শুরু হবে শিরোপা স্বপ্ন আর সেই মঞ্চে ভারতের নজর থাকবে ট্রফির দিকেই।