চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা আয়োজনের ঘোষণার পরও রসায়ন প্রথম পত্রের বাংলা ও ইংরেজি সংস্করণের প্রশ্নে ভিন্নতা থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইংরেজি সংস্করণের একাংশ পরীক্ষার্থী। তারা দাবি করেছেন, এই অসঙ্গতির কারণে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নে তাদের পূর্ণ নম্বর দেওয়া উচিত।
রোববার অনুষ্ঠিত রসায়ন প্রথম পত্র পরীক্ষার পর পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, সৃজনশীল অংশের ৩ নম্বর প্রশ্নের ‘ঘ’ উপ-প্রশ্নে বাংলা ও ইংরেজি সংস্করণের প্রশ্ন এক ছিল না। ইংরেজি সংস্করণে কিউ (Q) ও আর (R) মৌলের মধ্যে কোনটি রঙিন যৌগ গঠন করে তা বিশ্লেষণ করতে বলা হলেও বাংলা সংস্করণে একই তথ্যের ভিত্তিতে পি (P) ও আর (R) মৌলের মধ্যে কোনটি রঙিন যৌগ গঠন করে তা ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে।

রাজধানীর মতিঝিলের একটি কলেজের এক ইংরেজি সংস্করণের পরীক্ষার্থী বলেন, সরকার যেহেতু অভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, সেখানে একই বোর্ডের বাংলা ও ইংরেজি সংস্করণে ভিন্ন প্রশ্ন থাকা বিভ্রান্তিকর। তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের পূর্ণ নম্বর দেওয়ার দাবি জানান।
আরেক পরীক্ষার্থী বলেন, বাংলা সংস্করণের প্রশ্নই ইংরেজিতে অনুবাদ করে সরবরাহ করার কথা ছিল। কিন্তু দুই সংস্করণে ভিন্ন প্রশ্ন আসায় পরীক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের রসায়ন বইয়ের লেখক এবং পল্লবী সরকারি কলেজের অধ্যাপক বিদ্যুৎ কুমার রায় বলেন, দুটি প্রশ্ন আলাদা হলেও কোনোটিই ভুল নয়। প্রশ্নে দেওয়া মৌলগুলোর ইলেকট্রন বিন্যাস অনুযায়ী বাংলা ও ইংরেজি সংস্করণের উভয় প্রশ্নেরই বৈজ্ঞানিক ভিত্তি রয়েছে। তবে যেহেতু অভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ার কথা ছিল, তাই এটিকে একটি ‘অসঙ্গতি’ বলা যেতে পারে। তার মতে, এটি সম্ভবত অনুবাদের সময় অসাবধানতাবশত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষা বোর্ড চাইলে পরীক্ষকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে বিষয়টির সমাধান করতে পারবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অভিজ্ঞ এক পরীক্ষক, যিনি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এইচএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের সঙ্গে যুক্ত, জানান যে দুই সংস্করণের প্রশ্নের উত্তরই গ্রহণযোগ্য। তিনি বলেন, বোর্ড নির্দেশনা দিলে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছে—এমন সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। পাবলিক পরীক্ষার মূল্যায়নে সাধারণত পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনা করে ‘বেনিফিট অব ডাউট’ দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র পরীক্ষায় দুটি প্রশ্নে ভুল ধরা পড়ার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় ওই দুটি প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এবার রসায়ন পরীক্ষার প্রশ্নে দেখা দেওয়া এই অসঙ্গতি নিয়েও একই ধরনের সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা করছেন ইংরেজি সংস্করণের পরীক্ষার্থীরা।