তারেক রহমানকেও আয়নাঘরে বন্দি রেখে নির্যাতন করা হয়েছে: চিফ প্রসিকিউটর

আজাদ প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

জেআইসি সেলে ভিন্নমতের বহু মানুষকে আটকে রাখার অভিযোগ; আলামত নষ্টের দাবি

ওয়ান ইলেভেন সরকারের সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সদর দপ্তরে থাকা জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারের (জেআইসি) একটি সেলে বন্দি রেখে নির্যাতন করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

শনিবার (৮ আগস্ট) ডিজিএফআইয়ের জেআইসি সেল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “১/১১-এর সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জেআইসি সেলে বন্দি রেখে নির্যাতন করা হয়।” তিনি অভিযোগ করেন, জেআইসি সেলসহ কথিত ‘আয়নাঘর’গুলোতে ভিন্নমতের অনেক ব্যক্তিকে মাসের পর মাস এমনকি বছরের পর বছর আটকে রাখা হয়েছিল।

আমিনুল ইসলাম বলেন, বিগত সরকার শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি অমানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিল। সরকারের অসৎ উদ্দেশ্যে এসব গোপন বন্দিশালা বা ‘টর্চার সেল’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংশ্লিষ্টদের বিচারের আওতায় আনার উদ্যোগ
এসব গোপন বন্দিশালা ও নির্যাতনকেন্দ্রের সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন, তাদের বিচারের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, “এসব টর্চার সেলের সঙ্গে যারা জড়িত ছিল, তাদের বিচারের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ঘটনায় আরও যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।”

অভিযোগের তদন্তে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা ও দায়িত্ব খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।

‘অনেক আলামত নষ্ট করা হয়েছে’
চিফ প্রসিকিউটর অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর জেআইসি সেলের গুরুত্বপূর্ণ অনেক আলামত নষ্ট করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে দেয়াল তুলে দেওয়া হয়েছে এবং অসংখ্য তথ্য-প্রমাণ ধ্বংস করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তার ভাষ্য, ঘটনাস্থলের পরিবর্তিত অবস্থা তদন্তের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অতীতে সেখানে কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হতো এবং কারা এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তা অনুসন্ধানের জন্য অবশিষ্ট আলামত ও তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষণ জরুরি।

‘ন্যায়বিচারের স্বার্থে পরিদর্শন গুরুত্বপূর্ণ’
জেআইসি সেল পরিদর্শনের গুরুত্ব তুলে ধরে আমিনুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলের বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করা এবং সেখানে থাকা আলামত ও তথ্য-প্রমাণ সম্পর্কে ধারণা নেওয়া ন্যায়বিচারের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শনের মাধ্যমে কথিত গোপন বন্দিশালার কাঠামো, ব্যবহারের ধরন এবং সেখানে সংঘটিত অভিযোগগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য আলামত সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।

চিফ প্রসিকিউটরের এই পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে জেআইসি সেল বা কথিত ‘আয়নাঘর’-কেন্দ্রিক অভিযোগের তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় ঘটনাস্থলের আলামতকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।

ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আর কোনো গোপন বন্দিশালা যেন প্রতিষ্ঠিত না হয়, সেই আহ্বানও জানান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি।

এদিন সকালে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদার, সদস্য বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী এ বন্দিশালা পরিদর্শন করেন।

এ সময় প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে প্রসিকিউশন টিম, আসামিপক্ষের আইনজীবী, ডিজিএফআইয়ের প্রধান, পূর্বনির্বাচিত সংবাদমাধ্যমকর্মী সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ডালিম, কার্যনির্বাহী সদস্য মাজহারুল হক মান্না, ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি মো. ইয়াসিন, সাধারণ সম্পাদক আরাফাত মুন্না এবং সাংবাদিক মতিউর রহমান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত