গণতন্ত্র, স্বাধীন সাংবাদিকতা ও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রত্যাশা
দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগের নির্বাসন শেষে গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশে ফিরে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, “আই হ্যাভ এ প্ল্যান”—এই তিনটি শব্দেই যেন রাজনীতি, গণতন্ত্র ও রাষ্ট্র পরিচালনা নিয়ে নতুন প্রত্যাশার ইঙ্গিত দেন তিনি। সেই প্রত্যাশার কথাই উঠে আসে শনিবার ঢাকার একটি হোটেলে তারেক রহমান ও দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকদের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী বলেন, টানা ১৭ বছর দেশের বাইরে থাকতে হওয়া মানে শুধু রাজনৈতিক নির্বাসন নয়, এটি ছিল এক ধরনের মানসিক বন্দিত্ব। তিনি প্রত্যাশা প্রকাশ করেন, তারেক রহমান যে পরিকল্পনা নিয়ে দেশে ফিরেছেন, তা যেন বাস্তব রূপ পায় এবং দেশ গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যায়।
৯১ বছর বয়সী যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান বলেন, তারেক রহমান নিজেও জানেন না তিনি কতটা জনপ্রিয়। কারাগারে থাকার সময় বন্দি থেকে শুরু করে পুলিশ সদস্যদের কাছেও তিনি তারেক রহমানের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতার কথা শুনেছেন বলে জানান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন লন্ডনে থাকার ফলে তারেক রহমান বদলে গেছেন—সময়নিষ্ঠতা ও আচরণে সংযম এসেছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ব্যাংক লুটপাট বন্ধ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং পুলিশ বাহিনীকে সেবামুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের প্রত্যাশা জানান তিনি।
ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, “আমরা গণতন্ত্র চাই, স্বাধীন সাংবাদিকতা চাই এবং সুশাসন চাই।” তিনি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনের কথা তুলে ধরেন এবং এটি রাষ্ট্র পরিচালনার অগ্রাধিকার হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন। পাশাপাশি পানিসম্পদ রক্ষার বিষয়েও গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।
মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, তিনি দুই দশক আগের তারেক রহমানের সঙ্গে বর্তমান তারেক রহমানের মধ্যে আমূল পরিবর্তন দেখছেন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর গণমাধ্যম কিছুটা স্বাধীন হলেও মব ভায়োলেন্স ও সামাজিক চাপ সাংবাদিকতার পথকে এখনো সংকুচিত করছে। তাঁর মতে, পশ্চিমা গণমাধ্যম ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা তারেক রহমানকে অনেক বেশি পরিণত করেছে।
নিউ এইজের সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়তে হলে গণতান্ত্রিক সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। ভিন্নমতের কারণে সাংবাদিক ও নাগরিকদের আইনসঙ্গত অধিকার যেন আর লঙ্ঘিত না হয়—এমন প্রত্যাশা জানান তিনি।
এই অনুষ্ঠানে সম্পাদকদের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে—তারেক রহমানের ‘প্ল্যান’ নিয়ে কেবল রাজনৈতিক অঙ্গন নয়, গণমাধ্যমও তাকিয়ে আছে গভীর প্রত্যাশায়। এখন প্রশ্ন একটাই, এই প্রত্যাশা কি বাস্তব রূপ পাবে, নাকি তা কেবল কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে—এর উত্তর দেবে সময়।