এসএসসির খাতা পুনঃনিরীক্ষণে এবার পুরো খাতা পুনঃপরীক্ষার সুযোগ, ৩১২ প্রতিষ্ঠানে কেউ পাস না করায় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে নানা প্রশ্নের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় যে নম্বর পেয়েছে, তার ভিত্তিতেই ফলাফল দেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, “যে শিক্ষার্থী যতটুকু পড়াশোনা করেছে, তেমনই ফলাফল পেয়েছে।”
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সার্বিক পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন।
‘মন খুলে গান গাওয়া যায়, পরীক্ষার খাতায় নম্বর দেওয়া যায় না’
ফলাফল নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “মন খুলে গান গাওয়া যায়, পরীক্ষার খাতায় নম্বর দেওয়া যায় না।” তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় যে নম্বর পেয়েছে, সেই নম্বরের ভিত্তিতেই তাদের ফলাফল নির্ধারণ করা হয়েছে। কারও ফলাফল ইচ্ছেমতো বাড়িয়ে বা কমিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।
মন্ত্রী আরও বলেন, অনেক শিক্ষার্থীর ভালো করার কথা থাকলেও পরীক্ষার সময় নানা কারণে তারা প্রত্যাশিত ফল করতে পারে না। ফলে ফলাফল প্রকাশের পর কোনো শিক্ষার্থী মনে করলে তার খাতা যথাযথভাবে মূল্যায়ন হয়নি, সে ক্ষেত্রে পুনঃনিরীক্ষণের সুযোগ রাখা হয়েছে।
পুরো খাতা পুনঃপরীক্ষার সুযোগ
শিক্ষামন্ত্রী জানান, আগে প্রচলিত নিয়মে খাতা পুনঃনিরীক্ষণের সুযোগ সীমিত ছিল। তবে এ বিষয়ে আইন সংশোধন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “যে শিক্ষার্থীরা তাদের খাতা পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করবে, তাদের সম্পূর্ণ খাতা পুনঃপরীক্ষণ করা হবে।” পুনঃপরীক্ষণের সময় কোথাও কোনো ভুল-ত্রুটি পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। এর ফলে ফলাফল নিয়ে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীদের জন্য এবার পুনঃনিরীক্ষণ প্রক্রিয়ায় তুলনামূলকভাবে বেশি সুযোগ তৈরি হলো।

৩১২ প্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করেনি
এবারের ফলাফলে ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় তার পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং সেই অভিজ্ঞতার আলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের ফলাফল উন্নত করার ক্ষেত্রে যেসব প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিকভাবে দুর্বল ফলাফল হচ্ছে, সেগুলোর দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হবে বলেও তার বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
আগামী বছর এসএসসি শুরু ৭ জানুয়ারি
আগামী বছরের এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচি নিয়েও অনুষ্ঠানে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা ৭ জানুয়ারি শুরু হবে। ক্রমান্বয়ে পরীক্ষা আরও এগিয়ে আনা হবে।
কোন বোর্ডে কত পাস?
এবার নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল পরীক্ষায় পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ভোকেশনাল পরীক্ষায় পাসের হার ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ।
সব বোর্ড মিলিয়ে এবার পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন।
ফল প্রকাশের পর এবার শিক্ষার্থীদের ফলাফল নিয়ে যেমন আলোচনা চলছে, তেমনি তুলনামূলকভাবে কম পাসের হার, ৩১২ প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাস এবং খাতা পুনঃনিরীক্ষণের নতুন ব্যবস্থা নিয়েও শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ফলাফল নিয়ে যেসব প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে পুনঃনিরীক্ষণের সুযোগ এবং দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হবে।