যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) দেশটির অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছে। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধসহ বিভিন্ন সামরিক কার্যক্রমের কারণে মার্কিন অস্ত্রভান্ডারে চাপ তৈরি হওয়ায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল শনিবার এক বিবৃতিতে বলেন, সামরিক বাহিনীর প্রয়োজনীয় অস্ত্র দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রতিরক্ষা দপ্তর অস্ত্র ক্রয় ও উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছে। গত এক সপ্তাহে এ লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তবে তিনি জানান, শুধু ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণেই নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডার আধুনিকায়নের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেও এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী স্টিভ ফেইনবার্গ গত বুধবার অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা ২১ দিনের মধ্যে জমা দিতে বলেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্যাট্রিয়ট ও থাডের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন মিত্রদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রায় ২ হাজার ৩৩০টি প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে আনুমানিক ৭৫৯ থেকে ৮২৭টির মধ্যে নেমে এসেছে, যা প্রায় ৬৫ শতাংশ হ্রাসের ইঙ্গিত দেয়।
একইভাবে থাড প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। যুদ্ধের আগে যেখানে এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ছিল ৪৫২টি, বর্তমানে তা ২৩৪ থেকে ২৭৮টির মধ্যে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য অস্ত্র সংকটের আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এখনো বিপুল পরিমাণ অস্ত্র মজুত রয়েছে এবং নতুন অস্ত্র উৎপাদনের কাজও দ্রুতগতিতে চলছে।
পেন্টাগন জানিয়েছে, এই উৎপাদন বৃদ্ধির পরিকল্পনা ২০২৮ অর্থবছরের প্রতিরক্ষা বাজেট প্রণয়নেও সহায়ক হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা পুনর্গঠনের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের সঙ্গেও এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সম্প্রতি পেন্টাগন প্রতিরক্ষা খাতের দুই শীর্ষ প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন ও নর্থরপ গ্রুম্যানের সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার যন্ত্রাংশ উৎপাদন বাড়াতে নতুন চুক্তিও করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্যাট্রিয়ট ও থাডের মতো উন্নত প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত পুনরায় স্বাভাবিক পর্যায়ে আনতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। এ কারণে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রকে এসব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহারে আরও সতর্ক হতে হতে পারে।
শু/আজা