চট্টগ্রামের সাবেক সিটি মেয়র এম মনজুর আলমের বাসায় গিয়ে স্থানীয় ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর কাট্টলী এলাকায় মনজুর আলমের বাসায় যান তিনি এবং সেখানে কয়েক ঘন্টা অবস্থান করেন। এক পর্যায়ে স্থানীয় ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা গিয় সেখানে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন।
এনসিপির চট্টগ্রামের মিডিয়া সেলের সমন্বয়কারী রিদুয়ান হৃদয় বলেছেন, দলের দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ ব্যক্তিগত কারণে চট্টগ্রামে এসেছিলেন। এসময় সাবেক মেয়র মনজুর আলমের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে তার সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন।
চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি সাহেদ আকবর বলেন, “আমরা শুনেছি দুপুরে মনজুর আলমের বাসায় গিয়েছিলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। সেখান থেকে সন্ধ্যা ৬টার দিকে বের হন। মনজুর আলমের বাসাটি আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি দিদারুল আলমের বাসা। তিনি বিভিন্নভাবে আওয়ামী লীগকে পৃষ্ঠপোষকতা করেন। আমাদের কর্মীরা সেখানে অবস্থান নেওয়ায় আমি সেখানে গিয়ে তার (হাসনাত আব্দুল্লাহ) সাথে বলেছি। তাকে প্রশ্ন করেছি- ‘আপনি জুলাই যোদ্ধা, কেন একজন দোসরের বাসায় এসেছেন?’
সাহেদ আকবর বলেন, হাসনাত আব্দুল্লাহকে কোনো অসম্মান করা হয়নি। পরে তিনিসহ দলীয় কর্মীরা গাড়িতে তুলে দিয়েছেন।
মনজুর আলমের বাবা আবদুল হাকিম ‘কন্ট্রাকটর’ ছিলেন পাহাড়তলী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি নগর আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্যও ছিলেন।
নগর আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ১৯৯৪ সাল থেকে টানা তিনবার নির্বাচনে জয়ী হয়ে ১৬ বছর চট্টগ্রামের মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় মনজুর আলম ছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর।
সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় মহিউদ্দিন চৌধুরী গ্রেপ্তার হলে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পান তিনি।
এরপর ২০১০ সালের সিটি নির্বাচনে চট্টগ্রামের রাজনীতিতে নিজের ‘গুরু’ মহিউদ্দিনের বিপক্ষে বিএনপির সমর্থনে মেয়র প্রার্থী হন মনজুর আলম। ওই বছরের ১৭ জুন প্রায় এক লাখ ভোটের ব্যবধানে মহিউদ্দিনকে হারিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (সিসিসি) মেয়র নির্বাচিত হন তিনি।
মেয়র নির্বাচিত হয়ে মহিউদ্দিনের বাসায় গিয়ে তার সঙ্গে দেখাও করেছিলেন মনজুর আলম। আবার ঢাকায় গিয়ে খালেদা জিয়ার হাতে ফুল দিয়ে কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছিলেন। সে সময় তাকে উপদেষ্টা করে নেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল দ্বিতীয়বার বিএনপির প্রার্থী হিসেবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিলেও মনজুর আলম ভোট শুরুর তিন ঘণ্টার মাথায় ‘কারচুপির’ অভিযোগে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। সেইসঙ্গে রাজনীতি ছাড়ারও ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি।
তবে ২০১৬ সালের ১ অক্টোবর বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের এক অনুষ্ঠানে এক মঞ্চে পাশাপাশি বসেছিলেন মহিউদ্দিন ও মনজুর আলম।
চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে তখন জোর গুঞ্জন শুরু হয়, তাকে দলে ফেরাতে আগ্রহী মহিউদ্দিন।
ওই বছরের ১৭ অগাস্ট আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার আগ্রহের কথা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন মনজুর আলম।
২০২১ সালে নগর বিএনপির নতুন কমিটিতেও তার নাম আসেনি।
মনজুর আলমের ভাতিজা দিদারুল আলম চট্টগ্রাম-৪ সীতাকুণ্ড আসনে আওয়ামী লীগের দুই বারের সংসদ সদস্য ছিলেন।
বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে বঞ্চিত হয়েছিলেন মনজুর আলম।
এদিকে গেল ২ মার্চ চট্টগ্রামের একটি কনভেনশন সেন্টারে এনসিপির ইফতার আয়োজনে মনজুর আলমের ছবিসহ পানির বোতল বিতরণ আলোচনার জন্ম দেয়। আগামীতে চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে মনজুর আলম এনসিপির প্রার্থী হয়ে মেয়র পদে নির্বাচন করার চেষ্টা করছেন বলেও আলোচনা শুরু হয়।
এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ বাসায় আমন্ত্রণ জানানো এবং সে দলটির হয়ে মেয়র নির্বাচনের বিষয়ে যে আলোচনা শোনা যাচ্ছে সে ব্যাপারে মনজুর আলমের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরেননি।