ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ৩৬ প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের চূড়ান্ত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
সংরক্ষিত নারী আসনের ঘোষিত তালিকায় দলের জ্যেষ্ঠ নেত্রীদের পাশাপাশি তরুণ ও মাঠপর্যায়ের নেত্রীদেরও প্রাধান্য দিয়েছে বিএনপি। এতে একদিকে যেমন একাধিক নতুন মুখ এসেছে, তেমনি অন্যদিকে চূড়ান্ত মনোনয়ন থেকে বাদ পড়েছেন আলোচনায় থাকা কয়েকজন হেভিওয়েট মনোনয়নপ্রত্যাশী ছাড়াও পরিচিত ব্যক্তিত্ব।
বিএনপির চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়াদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন- জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া, জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা, মহিলা দলের সহ-সভাপতি নাজমুন নাহার বেবী, প্রয়াত নেতা মওদুদ আহমদের সহধর্মিণী হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ, কণ্ঠশিল্পী বেবি নাজনীন ও ছোটপর্দার অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক।
এর আগে গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে দলের মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকার শুরু করে বিএনপি। এরপর থেকে মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা একে একে তাদের সাক্ষাৎকার নেন। সবশেষ শনিবারও (১৮ এপ্রিল) গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে দেশের ৫টি বিভাগের ৫৪৫ জন মনোনয়নপ্রত্যাশীর সাক্ষাৎকার নেয় বিএনপির মনোনয়ন বোর্ড। এতে সভাপতিত্ব করেন মনোনয়ন বোর্ড ও বিএনপি চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন ঘিরে ২ দিনব্যাপী মনোনয়নপ্রত্যাশীদের বিস্তৃত সাক্ষাৎকার নেয় বিএনপির মনোনয়ন বোর্ড। সাক্ষাৎকারে আন্দোলন-সংগ্রামে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের অবদানের কথা জানতে চাওয়া হয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির চূড়ান্ত তালিকায় একদিকে যেমন অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত নেতৃত্বকে সামনে আনা হয়েছে, তেমনি অন্যদিকে নতুন ও অপেক্ষাকৃত কম আলোচিত মুখদেরও সুযোগ দিয়েছে বিএনপি। সেই সঙ্গে চূড়ান্ত তালিকা থেকে আলোচনায় থাকা হেভিওয়েটদের বাদ পড়াকে দলের ভেতরে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত বলেও মনে করছেন তারা।