ঢাকার পর দেশে পশুর চামড়ার সবচেয়ে বড় মোকাম যশোরের রাজারহাটে দুই শতাধিক আড়তে ২১ জেলার ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করছেন।
যশোরের বিভিন্ন সীমান্ত পথে কোরবানির পশুর চামড়া ভারতে পাচার ঠেকাতে ব্যাপক সতর্কতা নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর মধ্যে শার্শা উপজেলার ১০২ কিলোমিটার সীমান্তের শিকারপুর, কাশিপুর, রঘুনাথপুর, বেনাপোলের পুটখালি, দৌলতপুর, সাদিপুর, ঘিবা, গোগা, রুদ্রপুর, অগ্রভুলোট, পাঁচভুলোট, দাদখালি সীমান্তকে ‘চামড়া পাচারের রুট’ হিসাবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এসব ঝুকিপূর্ণ এলাকায় বাড়তি সতর্কতা, বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বাড়ানোসহ নদীতে টহলের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন খুলনা ২১ বিজিবি ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাফিজ ইমতিয়াজ আহসান।
পাশাপাশি চোরাচালান, পুশইন এবং ঈদ পরবর্তী যেকোনো ধরনের সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বিজিবি।
ঢাকার পর দেশে পশুর চামড়ার সবচেয়ে বড় মোকাম যশোরের রাজারহাট। সেখানে দুই শতাধিক আড়তে ২১ জেলার ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করছেন। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ মোকামের ওপর নির্ভরশীল প্রায় ১০ হাজার মানুষ।
এবার কোরবানির পশুর সংখ্যা তুলনামুলক কম অথচ চামড়ার নিম্নদর নির্ধারণ, লবণের দাম বৃদ্ধি, ট্যানারি মালিকদের কাছে পাওনা টাকা অনাদায়ী আর বকেয়া পরিশোধে টালবাহানার কারণে চামড়া ভারতে পাচারের আশঙ্কা করছেন যশোরের চামড়া ব্যবসায়ীরা।
শার্শার চামড়া ব্যবসায়ী মোসলেম আলি বলেন, “পেশাদার চামড়া ব্যবসায়ীদের পুঁজি সঙ্কটের সুযোগ নেয় চোরাকারবারীরা। পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে তারা বাজার দরের চেয়ে বেশি দামে চামড়া সংগ্রহ করে। পরে সুযোগ বুঝে পাচারকারীদের কাছে সেই চামড়া তুলে দেয়।” বেনাপোলের চামড়া ব্যবসায়ী মনির হোসেন, বাগআচড়ার শেখ সহিদুল ইসলাম, শার্শার মোসলেম আলি ও নাভারনের ইয়াকুব আলিও একই ধরনের কথা বলেন। তারা বলেন, সরকার চামড়া কেনার জন্য ট্যানারি মালিকদের ঋণ দিলেও সেই অর্থের পুরোটা তারা ব্যয় করেন না। এছাড়া স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ীরা ঋণও পান না। কোরবানির সময় তাদের হাতে টাকা থাকে না। ফলে ‘সিন্ডিকেট করে’ চামড়ার দাম কমিয়ে দেওয়া হয়। তখন বেশি দামের আশায় অসাধু ব্যবসায়ীরা বেছে নেন সীমান্তের চোরাই পথ।
ব্যবসায়ীদের এমন আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে চিহ্নিত এলাকাগুলোতে সীমান্তরক্ষীদের পাশাপাশি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ ও র্যাব। চামড়া পাচার রোধে ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন এবং তল্লাশি চৌকি স্থাপনের কথা জানিয়েছে তারা।
শার্শার সীমান্তাঞ্চল দিয়ে শার্শা থানার ওসি মারুফ হোসেন ও বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি রাসেল মিয়া। বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি আশরাফ হোসেন বলেন, “সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পাশাপাশি সীমান্ত অভিমুখে চামড়া বোঝাই যান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী পুলিশ ফাঁড়িগুলোকেও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
শার্শা উপজেলার সীমান্তে সতর্ক অবস্থায় থাকার বিষয়টি জানিয়েছেন যশোর-৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান। তিনি বলেন, “যশোরের সীমান্ত দিয়ে চামড়া পাচারের সম্ভবনা খুবই কম। তারপরও আমরা সতর্ক আছি। সীমান্তের সব বিওপি ক্যাম্পগুলোকে সর্তক থাকতে বলা হয়েছে। ঈদের দিন বিকাল থেকে অতিরিক্ত টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।”
সূত্র : বিডিনিউজ