হলটির প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবার রহমান বলেন, “তল্লাশির বিষয়টি আমার জানা ছিল না।”
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের একটি কক্ষে ‘নারী থাকার সন্দেহে’ তল্লাশি চালানো এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ ওঠেছে। শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত হল সংসদের এজিএস ইসরাফিল হোসাইনের নেতৃত্বে এই তল্লাশি চালানো হয়।
শনিবার হলটির প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবার রহমান বলেন, “তল্লাশির বিষয়টি আমার জানা ছিল না। হলে কোনো তল্লাশি হলে তা প্রশাসনের মাধ্যমেই হওয়া উচিত। বিস্তারিত জেনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ওই কক্ষের শিক্ষার্থী আলিম মৃধা বলেন, “ইসরাফিলসহ কয়েকজন দরজায় জোরে জোরে ধাক্কা দেয়। আমরা ঘুমিয়ে থাকায় দরজা খুলতে দেরি হয়। পরে তারা জোর করে রুমে ঢুকে বলে, এখানে মেয়ে আছে। তবে তল্লাশি করে কাউকে না পেয়ে চলে যায়।”
একই কক্ষের আরেক শিক্ষার্থী সন্দীপ কুমার শীল বলেন, “দরজা খোলার পর দেখি তারা মোবাইলে ভিডিও চালু রেখেছে। তারা বারবার বলছিল রুমে মেয়ে আছে এবং তল্লাশি করবে। পরে জোর করে রুমে ঢোকে।” তিনি অভিযোগ করেন, কিছু না পাওয়ার পরও তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসরাফিল হোসাইন বলেন, “একটি জায়গা থেকে হলে মেয়ে আনার তথ্য পাই। পরে ভিপি ও জিএসের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি যাচাই করতে যাই। সেখানে এমন কিছু পাওয়া যায়নি।”
জিয়া হল সংসদের ভিপি ও হল শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোজাম্মেল হক বলেন, “ফজরের আগে একজন হলে মেয়ে নিয়ে আসার বিষয়ে জানায়। তখন আমি জিএস ও এজিএসকে জানাই এবং এরকম কিছু হলে গোপনে মিটমাট করে ফেলতে বলি। এটা যাতে আলোচনার কোনো টপিক না হয় সেটাই চেয়েছিলাম এবং রাত গভীর হওয়ায় হল প্রশাসনের কাউকে জানানো হয়নি।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবর রহমান বলেন, “হল সংসদ বা প্রশাসনের উপস্থিতি ছাড়া কেউ কোনো শিক্ষার্থীর কক্ষে তল্লাশি চালাতে পারে না। যেহেতু এটি হল-সংক্রান্ত বিষয়, তাই হল প্রশাসন আগে ব্যবস্থা নেবে।”
‘মব’ তৈরি করে শিক্ষার্থীদের হেনস্তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অতীতে এমন ঘটনা ঘটেছে। তবে বর্তমান প্রশাসন এ বিষয়ে তৎপর। কোনোভাবেই ‘মব’ তৈরি করে কাউকে হেনস্তার সুযোগ দেওয়া হবে না।”