গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় আমন ধান রোপণের মৌসুমের শুরুতেই চড়া দামে ধানের চারা কিনতে হচ্ছে কৃষকদের। সাম্প্রতিক বৃষ্টি ও বন্যায় বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চারার সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় শুরুতেই লোকসানের আশঙ্কায় পড়েছেন কৃষকরা।
উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা যায়, কৃষকরা প্রয়োজনীয় চারা সংগ্রহে হিমশিম খাচ্ছেন। চারার চাহিদা বেশি থাকলেও সরবরাহ কম হওয়ায় দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। এতে কৃষকদের বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
গাইবান্ধা শহরের খানকা শরিফ এলাকা থেকে সাদুল্লাপুর হাটে চারা কিনতে আসা কৃষক মুক্তা বেগম জানান, এক বিঘা জমিতে আমন ধান রোপণের জন্য সাড়ে তিন হাজার টাকার চারা কিনতে হয়েছে। এর সঙ্গে পরিবহন, জমি প্রস্তুত, শ্রমিকের মজুরি, সার, কীটনাশক ও আগাছা পরিষ্কারসহ অন্যান্য খরচ যোগ হলে উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়ে যাবে। এ অবস্থায় ধানের ন্যায্যমূল্য না পেলে লোকসানের মুখে পড়তে হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে বন্যার কারণে সাদুল্লাপুর উপজেলায় ৪৭ হেক্টর আমনের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে চারার বাজারে। স্থানীয়ভাবে পর্যাপ্ত চারা উৎপাদন না হওয়ায় কৃষকদের বিভিন্ন এলাকার হাটে গিয়ে বেশি দামে চারা কিনতে হচ্ছে।
শুক্রবার উপজেলার বিভিন্ন হাটে গিয়ে দেখা যায়, গুটি স্বর্ণা, স্বর্ণা-৫ ও মামুন স্বর্ণা জাতের চারার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। চারা বিক্রেতা হারুন অর রশিদ বলেন, এসব জাতের ধানের ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকরা এগুলো বেশি কিনছেন। চাহিদা বাড়ায় দামও তুলনামূলক বেশি।
ক্রেতা আব্দুর রহমান সরকার বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার প্রায় দ্বিগুণ দামে চারা কিনতে হচ্ছে। উৎপাদন ব্যয় এভাবে বাড়তে থাকলে আমন চাষ লাভজনক থাকবে না।
ধাপেরহাটের পাইকার খয়বার হোসেন জানান, বর্তমানে প্রতি পণ (৮০ মোটা) বৈলান চারা এক হাজার ১০০ টাকার নিচে বিক্রি করলে লোকসান হবে। বাজারে চারার জাত ও মানভেদে প্রতি পণ ৮০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সাদুল্লাপুর হাটের ইজারাদার আল-আমিন মিয়া বলেন, এই হাটটি দীর্ঘদিনের পুরোনো এবং আমন মৌসুমে দূর-দূরান্ত থেকে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা এখানে আসেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কেনাবেচা চলে। হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতারণা রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কাজীবাড়ী সন্তোলা গ্রামের কৃষক আসাদুল ইসলাম বলেন, সরকারিভাবে দ্রুত প্রণোদনার ব্যবস্থা করা না হলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পক্ষে লোকসান কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে। একই দাবি জানান জয়েনপুর গ্রামের কৃষক মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, কৃষকদের পুনর্বাসনে জরুরি সহায়তা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অপূর্ব ভট্টাচার্য বলেন, বর্তমানে চারার সংকট থাকলেও মৌসুম শেষে ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে কৃষকদের ক্ষতি অনেকটাই পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো প্রণোদনা বা বিশেষ সহায়তা পাওয়া যায়নি। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে।