শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ছয় জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে প্রথম বর্ষের চার শিক্ষার্থীকে র্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নবীন শিক্ষার্থীদের ‘মেয়ে সাজিয়ে’ নাচানো, অশ্লীল কবিতা আবৃত্তি, যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ অঙ্গভঙ্গি ও অভিনয় করতে বাধ্য করা হয়েছে।
সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ মুজতবা আলী হলসংলগ্ন বড়গুল রিপন ছাত্রাবাসে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা সবাই একই মেসে থাকেন।
র্যাগিংয়ের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করা চার শিক্ষার্থীই ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, প্রথমে চারজনকে মেয়ের সাজে নাচতে বলা হয়। এ সময় মোবাইলে অশ্লীল ছবি দেখিয়ে সেভাবে নাচতে বাধ্য করা হয়। পরে তাঁদের বিভিন্ন ধরনের কান্নার অভিনয় করতে বলা হয়। কেউ হাসলে শাস্তি হিসেবে এক পা তুলে দাঁড় করিয়ে রাখা হতো।
ওই শিক্ষার্থীর ভাষ্য, পরে গামছা ব্যবহার করে মেয়ের সাজ নিতে এবং অন্যদের ছেলে সাজিয়ে প্রপোজ করতে বলা হয়। এরপর বিভিন্ন অশ্লীল কবিতা জোরে জোরে পড়ানো হয়। কবিতার সঙ্গে মিলিয়ে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি, শব্দ ও অভিনয় করতেও বাধ্য করা হয়। তিনি বলেন, “আমারে ফিমেল ক্যারেক্টার বানিয়ে চেয়ার বসায়। তারপর এক এক করে বাকি তিনজনকে যৌনাচার করতে বলে। এরপর ওরা যে কবিতাগুলো পাঠ করতেছে, সে অনুযায়ী অভিনয় করতে বাধ্য করে। কিন্তু আমি পারতেছিলাম না। তখন কান্নাকাটি করতেছিলাম আমি।”
অভিযোগে থাকা ছয় শিক্ষার্থী হলেন বাংলা বিভাগের হাসান গোলজার রহমান, অর্থনীতি বিভাগের সোলাইমান কবির, শিল্প ও উৎপাদন প্রকৌশল বিভাগের সাব্বির রহমান, পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের মারুফ হাসান ও আবু রায়হান এবং তেল ও খনি প্রকৌশল বিভাগের নাফিজ সিদ্দিক তীব্র।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আবু রায়হান বলেন, তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন, তবে এসব কাজ করেননি। তাঁর দাবি, এসব করেছেন শিল্প ও উৎপাদন প্রকৌশল বিভাগের সাব্বির রহমান।
মারুফ হাসান বলেন, “বিষয়টি সমাধান হয়ে গেছে। এটা নিয়ে কথা বলতে চাচ্ছি না।”
অভিযোগে থাকা সাব্বির রহমান ও সোলাইমান কবিরের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ফোন কেটে দেন।
ঘটনাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোখলেসুর রহমান বলেন, “এ বিষয়ে সভা ডেকেছি। সভায় আলোচনা করে একটি কমিটি গঠন করা হবে। এরপর তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী কর্মপন্থা ঠিক করা হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
র্যাগিংয়ের নামে নবীন শিক্ষার্থীদের অপমান, ভয় দেখানো কিংবা যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কর্মকাণ্ডে বাধ্য করার অভিযোগ নতুন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।