ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি আর মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীবন্দনার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। সনাতনী বাঙালির ধর্মীয় বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে দেবী দুর্গা উমা বা ঘরের মেয়ে। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, কৈলাশ ছেড়ে সন্তানদের নিয়ে মর্ত্যে আসেন তিনি। দুর্গাপ্রতিমায় দেবীর দুই পাশে দেখা যায় লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশকে। এই চার দেবদেবীর প্রত্যেকের রয়েছে স্বতন্ত্র পরিচয়, মাহাত্ম্য ও বাহন। তাঁদের ঘিরে প্রচলিত পৌরাণিক বিশ্বাসও বাঙালির দুর্গোৎসবের ঐতিহ্যকে দিয়েছে আলাদা মাত্রা। লক্ষ্মী: ধন-সম্পদ ও সমৃদ্ধির দেবী দেবী লক্ষ্মী ধন-সম্পদ, ঐশ্বর্য, সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধির প্রতীক। সংসারে সুখ-শান্তি ও প্রাচুর্য কামনায় তাঁর আরাধনা করা হয়। প্রচলিত সনাতনী বাঙালি দুর্গাপ্রতিমায় লক্ষ্মীকে সাধারণত পদ্মফুলসহ দেখা যায়। তাঁর বাহন পেঁচা। পেঁচা রাতের অন্ধকারেও দেখতে পারে বলে প্রতীকী ব্যাখ্যায় একে সতর্কতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। তবে লক্ষ্মীর প্রতিমা ও বাহনের উপস্থাপনায় অঞ্চলভেদে বৈচিত্র্য রয়েছে। সরস্বতী: বিদ্যা ও সৃজনশীলতার প্রতীক বিদ্যা, জ্ঞান, সংগীত ও শিল্পকলার দেবী সরস্বতী। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শিল্পী ও জ্ঞানচর্চায় যুক্ত মানুষের কাছে তাঁর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। প্রচলিত প্রতিমায় তাঁকে সাদা পোশাকে, হাতে বীণা এবং পাশে রাজহাঁসসহ দেখা যায়। রাজহাঁস তাঁর পরিচিত বাহন। সরস্বতীর সঙ্গে সাদা রঙের সম্পর্ককে পবিত্রতা, স্বচ্ছতা ও জ্ঞানের প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। দুর্গাপ্রতিমায় তাঁর উপস্থিতি বিদ্যা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার গুরুত্বও তুলে ধরে। কার্তিক: সাহস ও যুদ্ধকৌশলের দেবতা কার্তিক বা কার্তিকেয় হিন্দু পুরাণে যুদ্ধ ও সামরিক শক্তির দেবতা হিসেবে পরিচিত। তাঁকে দেবসেনাপতি হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। বাঙালি দুর্গাপ্রতিমায় কার্তিককে সাধারণত সুদর্শন যুবক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। তাঁর বাহন ময়ূর। কার্তিকের পরিচয়ের সঙ্গে সাহস, বীরত্ব ও যুদ্ধকৌশলের ধারণা জড়িয়ে রয়েছে। বিভিন্ন পৌরাণিক গ্রন্থ ও আঞ্চলিক ঐতিহ্যে তাঁর জন্ম ও পরিচয় নিয়ে একাধিক বর্ণনাও পাওয়া যায়। গণেশ: বাধা দূর করা ও শুভ সূচনার দেবতা হাতির মাথাবিশিষ্ট গণেশ হিন্দুধর্মে বাধা দূর করা, বুদ্ধি, সিদ্ধি ও শুভ সূচনার দেবতা হিসেবে পূজিত হন। নতুন কোনো কাজ শুরুর আগে তাঁর আরাধনার প্রচলন রয়েছে বহু হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে। গণেশের বাহন ইঁদুর। আকারে ছোট হলেও প্রতিমায় এই বাহনের উপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। প্রচলিত ধর্মীয় ব্যাখ্যায় গণেশের সঙ্গে প্রজ্ঞা, বুদ্ধিমত্তা ও বাধা অতিক্রম করার ধারণা যুক্ত রয়েছে। দেবদেবীদের বাহনের তাৎপর্য প্রচলিত সনাতনী বাঙালি দুর্গাপ্রতিমায় দেবী দুর্গার বাহন সিংহ, লক্ষ্মীর পেঁচা, সরস্বতীর রাজহাঁস, কার্তিকের ময়ূর এবং গণেশের ইঁদুর। এসব বাহন শুধু প্রতিমার সাজসজ্জার অংশ নয়; হিন্দু ধর্মীয় কল্পনা, পৌরাণিক কাহিনি ও প্রতীকী ব্যাখ্যারও অংশ।...
তথ্য প্রযুক্তির এযুগে এসেও দিন দিন আমাদের দেশ বিজ্ঞান চর্চায় পিছিয়ে যাচ্ছে। যেখানে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলো বিজ্ঞানে বড় বড় সাফল্য অর্জন করে চলেছে সেখানে আমরা বিজ্ঞান চর্চায় এখনো উদাসীন। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার ত্রুটি,গবেষণা ও উন্নয়নে অপ্রতুল বাজেট,মানসম্মত শিক্ষকের অভাব ও মানহীন প্রকাশনার চাপ, বৈজ্ঞানিক সাক্ষরতা ও বিজ্ঞানমনস্কতার অভাব এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন উদ্ভাবনে অর্থ ব্যয় না করার কারনে আমরা বিজ্ঞানের রাজ্যে যথাযথভাবে প্রবেশই করতে পারছি না। এ না পারার কারণ এবং এ থেকে উত্তরণের উপায় ন...
তাপের দহন, বন্যার বিস্তার আর সমুদ্রের ক্রমাগত আগ্রাসন— জলবায়ু পরিবর্তনের বহুমুখী অভিঘাতে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে এশিয়া। আর ভৌগোলিক অবস্থান, নিচু বদ্বীপভূমি, দীর্ঘ উপকূল ও বিপুল জনসংখ্যার কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ। তাপপ্রবাহ, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের পাশাপাশি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা, কৃষির ক্ষতি, খাদ্য ও পানির নিরাপত্তাহীনতা এবং মানুষের বাস্তুচ্যুতির ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। এই বাস্তবতার মধ্যেই বাংলাদেশের জলবায়ু ঝুঁকির কথা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক র...
চীনের কোনো এক শহরের মাঠে দাঁড়িয়ে একজন বাংলাদেশি ব্যাট হাতে নেওয়ার ভঙ্গি দেখাচ্ছেন কয়েকজন তরুণকে। তাদের কেউ হয়তো জীবনে প্রথমবার ক্রিকেট বল হাতে নিয়েছে। কেউ হয়তো জানেই না, যে খেলাটি তারা শিখছে, সেটি পৃথিবীর অন্য প্রান্তে কোটি মানুষের আবেগের নাম। বাংলাদেশি কোচ বলছেন, ব্যাটটা এভাবে ধরো। শরীরটা একটু নিচু করো। বলের দিকে চোখ রাখো। ভাষা আলাদা। সংস্কৃতি আলাদা। খাবার আলাদা। খেলার ঐতিহ্যও আলাদা। তবু ক্রিকেটের এই ছোট্ট মাঠে মুহূর্তের জন্য যেন কোনো সীমান্ত নেই। একজন বাংলাদেশি মানুষ চীনের তরুণদের ক্রিকেট শ...
আব্দুর রাজ্জাকের বইয়ে জামায়াতের ভেতরে ক্ষমা চাওয়ার একাধিক উদ্যোগ ও বিরোধিতার বিবরণ; এটিএম আজহারুলের দাবি, জনগণ জামায়াতকে ক্ষমা করেছে ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকার জন্য দলটির পক্ষ থেকে নতুন করে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি এখন অপ্রাসঙ্গিক বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের নায়েবে আমির ও রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম। তাঁর দাবি, জনগণ জামায়াতকে ক্ষমা করেছে বলেই দলটি এককভাবে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসনে নির্বাচিত হয়েছে। প্রয়াত জামায়াত নেতা ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের ‘বাংলাদেশ জাম...
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেয়া সাম্প্রতিক চিঠিটি আকারে ছোট হলেও এর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক তাৎপর্য বেশ গভীর। চিঠির তাৎক্ষণিক কারণ বাংলাদেশের বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত; কিন্তু এর ভাষা ও সময় বিবেচনা করলে এটি কেবল একটি বাণিজ্যিক লেনদেনের জন্য ধন্যবাদজ্ঞাপন নয়; বরং বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সম্ভাব্য নতুন গতিপথের একটি গুরুত্বপূর্ণ সবুজ সংকেত। ডোনাল্ড ট্রাম্প চিঠিতে বোয়িং কেনার সিদ্ধান্তের জন্য জন...