আইগ্যাজ, ওমেরা, পেট্রোম্যাক্স, বিএম এনার্জি ও যমুনার গ্ররু বিরুদ্ধে তদন্ত চায় এনএসআই

এলপিজি মজুদ করছে শীর্ষ ৫ কম্পানি—গোয়েন্দা প্রতিবেদন

আজাদ প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১০
 ছবি:

২২ সেপ্টেম্বর থেকে চালান আটকে রাখার অভিযোগ; ১২ কেজির সিলিন্ডার ১,৫৮৫ টাকার বদলে ২ হাজারের ওপরে—আমদানি, মজুদ ও বাজারে ছাড়ার হিসাব চায় গোয়েন্দা সংস্থা

দেশে এলপিজির সামগ্রিক আমদানি কমেনি, কিন্তু বাজারে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার কিনতে ভোক্তাকে কোথাও কোথাও ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। অথচ সেপ্টেম্বর মাসের জন্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। আমদানি স্বাভাবিক থাকার পরও কেন বাজারে এমন ঘাটতি তৈরি হলো—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) প্রতিবেদনে দেশের পাঁচ শীর্ষ এলপিজি আমদানিকারকের বিরুদ্ধে আমদানি করা গ্যাসের চালান আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে।

এনএসআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইগ্যাজ, ওমেরা, পেট্রোম্যাক্স, বিএম এনার্জি ও যমুনা গ্রুপ—এই পাঁচ কোম্পানি প্রায় ২২ সেপ্টেম্বর থেকে এলপিজির কিছু চালান আটকে রেখেছে। এতে স্বাভাবিক সরবরাহব্যবস্থায় পণ্য না আসায় বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করেছে সংস্থাটি। বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে দেওয়া প্রতিবেদনে অভিযোগটি তদন্ত করে দেখার সুপারিশ করা হয়েছে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এনএসআইয়ের অভিযোগ এখনো তদন্তের পর্যায়ে। পাঁচ কোম্পানি ইচ্ছাকৃতভাবে বাজারে সংকট তৈরি করেছে—এমন চূড়ান্ত প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর বক্তব্যও অভিযোগের সঙ্গে একমত নয়। ফলে এখন মূল প্রশ্ন শুধু ‘কে গ্যাস মজুদ করেছে’ নয়; বরং গত কয়েক সপ্তাহে কোন চালান কখন দেশে এসেছে, কখন খালাস হয়েছে, কোথায় রাখা হয়েছে, কত দিন মজুদ ছিল এবং শেষ পর্যন্ত কখন বাজারে ছাড়া হয়েছে—এই পুরো সরবরাহশৃঙ্খলার হিসাব মেলানো।

এনএসআই ঠিক এই জায়গাতেই তদন্তের সুপারিশ করেছে। সংস্থাটি ২২ সেপ্টেম্বর থেকে বড় আমদানিকারকদের এলপিজি মজুদের জরুরি হিসাব করার কথা বলেছে। প্রতিটি চালান কখন এসেছে, কখন খালাস হয়েছে, কত পরিমাণ গ্যাস মজুদ রয়েছে এবং কখন তা বাজারে ছাড়া হয়েছে—এসব তথ্য কোম্পানিভিত্তিক যাচাই করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে অক্টোবরের দাম বাড়ার আগে আমদানি করা কত এলপিজি তখনও বাজারে ছাড়া হয়নি, সেটিও বের করার সুপারিশ করা হয়েছে।

এর পেছনে রয়েছে দামের একটি গুরুত্বপূর্ণ হিসাব। এনএসআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অক্টোবর থেকে প্রতি টন এলপিজির বাজার প্রিমিয়াম প্রায় ৬৪ ডলার বেড়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার আশঙ্কা, এই দাম বাড়ার আগে কোনো আমদানিকারক কম দামে আনা এলপিজি ইচ্ছাকৃতভাবে ধরে রেখে পরে বেশি দামে বাজারে ছাড়লে অতিরিক্ত বাণিজ্যিক সুবিধা পেতে পারে। সে ক্ষেত্রে পণ্য মজুদের সময়টি কেবল ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত ছিল, নাকি বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দাম বাড়ার সুযোগ তৈরির উদ্দেশ্য ছিল—তদন্তে সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

বাজারের সাম্প্রতিক তথ্যও বিষয়টিকে জটিল করে তুলেছে। ২৭ সেপ্টেম্বরের এক প্রতিবেদনে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানায়, আগস্টে দেশে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টন এলপিজি আমদানি হলেও সেপ্টেম্বরে তখন পর্যন্ত আমদানি প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টনে নেমে এসেছিল। অর্থাৎ মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত আমদানিতে প্রায় ২৫ শতাংশ ঘাটতির তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল। তখন আমদানিকারক ও বিইআরসি-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো সরবরাহ সংকটের কারণ হিসেবে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন, জাহাজের ঘাটতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতজনিত বাড়তি পরিবহন ব্যয়ের কথা জানিয়েছিল।

কিন্তু সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার পর প্রকাশিত তথ্য ভিন্ন চিত্র দেখাচ্ছে। এনএসআইয়ের প্রতিবেদনে সরকারি তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরে দেশে প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে; আগস্টে আমদানি ছিল প্রায় ১ লাখ ৫৭ হাজার টন। এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) প্রকাশিত হিসাবেও সেপ্টেম্বরের আমদানি প্রায় ১ লাখ ৫৬ হাজার টন। অর্থাৎ পুরো মাসের হিসাব বিবেচনায় আমদানির পরিমাণ আগস্টের কাছাকাছিই ছিল।

এই দুই সময়ের তথ্যের পার্থক্যই তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা তৈরি করছে। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে আমদানি কমে যাওয়ার তথ্য যদি সত্য হয়, পরে মাস শেষে মোট আমদানি প্রায় স্বাভাবিক পর্যায়ে পৌঁছালেও সেই গ্যাসের কতটা দ্রুত বাজারে ঢুকেছে, সেটিই প্রশ্ন। শুধু বন্দরে জাহাজ এসেছে কি না বা দেশে কত টন এলপিজি ঢুকেছে—এ দিয়ে বাজারে প্রকৃত সরবরাহ পরিস্থিতি বোঝা যাবে না। আমদানি থেকে খালাস, টার্মিনালে সংরক্ষণ, বোতলজাতকরণ, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতার কাছে সরবরাহ—প্রতিটি ধাপের তথ্য মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের এলপিজি বাজারে কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরতা থাকায় এই সরবরাহব্যবস্থার গুরুত্ব আরও বেশি। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত এক বছরের আমদানি-সংক্রান্ত এলসি তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ওমেরা, পেট্রোম্যাক্স, মেঘনা ফ্রেশ ও যমুনা—চার কোম্পানি মিলে দেশের মোট এলপিজি আমদানির প্রায় ৭৬ শতাংশ করেছে। ওই হিসাব অনুযায়ী ওমেরার অংশ ১৯ শতাংশ, পেট্রোম্যাক্সের ১৭ শতাংশ এবং যমুনার ১৬ শতাংশ। বিএম এনার্জির অংশ ছিল ৮ শতাংশ এবং ইউনাইটেড আইগ্যাজের ৭ শতাংশ। 

এনএসআইয়ের প্রতিবেদনে নাম আসা প্রতিষ্ঠানগুলোর কয়েকটি দেশের এলপিজি আমদানির বড় অংশের সঙ্গে যুক্ত। ফলে তাদের চালান আটকে থাকলে সেটির প্রভাব বাজারে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এটিও মনে রাখতে হবে, বাজারে বড় আমদানিকারক হওয়া আর ইচ্ছাকৃতভাবে পণ্য আটকে রেখে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা এক বিষয় নয়। দ্বিতীয় অভিযোগটি প্রমাণ করতে হলে কোম্পানিভিত্তিক মজুদ, চালান ছাড়ার সময় এবং বিক্রয় তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি খুঁজে বের করতে হবে। এ কারণেই এনএসআই বাজারে থাকা মজুদের পরিমাণও যাচাই করতে বলেছে। কোনো কোম্পানি স্বাভাবিক ব্যবসায়িক প্রয়োজনেই কয়েক দিনের বা নির্দিষ্ট সময়ের মজুদ রাখতে পারে। কিন্তু বাজারের চাহিদার তুলনায় অস্বাভাবিক পরিমাণ পণ্য দীর্ঘ সময় ধরে রাখা হয়েছিল কি না, এবং সেই মজুদের সময়টি আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে ইচ্ছাকৃতভাবে মিলিয়ে নেওয়া হয়েছিল কি না—এটি তদন্তের বিষয়।

এদিকে ৩০ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জেলা প্রশাসকদের এলপিজির বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন। কোথাও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে প্রমাণসহ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ এনএসআইয়ের প্রতিবেদনের আগেই সরকার মাঠপর্যায়ে বাজার পরিস্থিতি যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছিল।

লোয়াবও বলছে, দেশে এলপিজির আমদানি ও সরবরাহ সন্তোষজনক। সংগঠনটির হিসাবে সেপ্টেম্বরে প্রায় ১ লাখ ৫৬ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে, যা দেশের চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট। একই সঙ্গে তারা অপারেটর, পরিবেশক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের বিইআরসি নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রির নির্দেশ দিয়েছে। নির্ধারিত দামের বেশি নেওয়া বা অনুমোদন ছাড়া মজুদ করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে সংগঠনটি।

তবে বাজারের বাস্তব চিত্র বলছে, সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকার দাবি আর ভোক্তার হাতে নির্ধারিত দামে পণ্য পৌঁছানো—দুটি এক নয়। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ১২ কেজির সিলিন্ডার পাওয়া না যাওয়ার অভিযোগের পাশাপাশি কোথাও কোথাও ২ হাজারের বেশি টাকা নেওয়ার তথ্যও এসেছে। বিইআরসির সেপ্টেম্বরের নির্ধারিত মূল্য ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। ফলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত দাম এবং খুচরা বাজারের দামের মধ্যে ৪০০-৫০০ টাকা বা তারও বেশি ব্যবধান তৈরি হয়েছে।

এখানে আরেকটি প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ—দাম বাড়ার পুরো দায় কি আমদানিকারকদের? সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে শিল্পসংশ্লিষ্টদের একটি অংশ সরবরাহব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক নৌপথের বিঘ্ন, জাহাজের সংকট ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কথা বলেছে। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাজার ও পরিবহন পরিস্থিতিও দামের ওপর প্রভাব ফেলছে। কিন্তু একই সময়ে যদি দেশের ভেতরে আমদানি করা পণ্য অস্বাভাবিকভাবে আটকে রাখা হয়ে থাকে, তাহলে আন্তর্জাতিক মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে দেশীয় বাজারে অতিরিক্ত মূল্যচাপ যুক্ত হতে পারে।

অভিযোগের বিষয়ে ওমেরা পেট্রোলিয়াম সরাসরি তা অস্বীকার করেছে। কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিম চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশে এলপিজির সরবরাহ নিশ্চিত করাকে তারা সব সময় অগ্রাধিকার দেন এবং বাজারে অস্থিরতা বা সরবরাহ সমস্যার সময়ও এই নীতি থেকে তারা সরে আসেননি। এনএসআইয়ের প্রতিবেদনে নাম থাকা আরেক কোম্পানির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, প্রতিটি চালানের গতিবিধি নথিভুক্ত থাকে এবং কর্তৃপক্ষ প্রশ্ন করলে প্রয়োজনীয় নথি দিয়ে জবাব দেওয়া সম্ভব।

এখন তদন্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হতে পারে কাগজপত্র ও সময়ের হিসাব। কোন কোম্পানি ২২ সেপ্টেম্বরের আগে কত টন এলপিজি আমদানি করেছে, কোন জাহাজ কখন বন্দরে পৌঁছেছে, কখন খালাস হয়েছে, কোন টার্মিনালে কত দিন রাখা হয়েছে, কখন বোতলজাত হয়েছে, কোন ডিলারকে কত পরিমাণ সরবরাহ করা হয়েছে এবং অক্টোবরের বাড়তি প্রিমিয়াম কার্যকর হওয়ার পর কত পণ্য বাজারে ছাড়া হয়েছে—এসব তথ্য পাশাপাশি রাখলেই প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।

বিশেষ করে ২২ সেপ্টেম্বরকে কেন্দ্র করে আগের ও পরের মজুদের তুলনামূলক হিসাব জরুরি। যদি দেখা যায়, ওই সময়ের পর কয়েকটি কোম্পানির গুদাম বা টার্মিনালে অস্বাভাবিকভাবে মজুদ বেড়েছে অথচ বাজারে সরবরাহ কমেছে, তাহলে অভিযোগের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ পাওয়া যেতে পারে। বিপরীতে, যদি দেখা যায় আমদানিকৃত পণ্য নিয়মিত খালাস ও বাজারে সরবরাহ হয়েছে, তাহলে কৃত্রিম সংকটের অভিযোগের অন্য কারণ খুঁজতে হবে।

তদন্তে ডিলার ও খুচরা বাজারের স্তরটিও বাদ দেওয়া যাবে না। কারণ আমদানিকারকের কাছ থেকে পণ্য বের হওয়ার পর কোন পর্যায়ে দাম বেড়েছে, সেটিও আলাদা করে যাচাই করা প্রয়োজন। আমদানিকারকের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও যদি পরিবেশক বা খুচরা পর্যায়ে পণ্য আটকে রাখা হয়, সেখান থেকেও কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে পারে। আবার উল্টোভাবে আমদানিকারকের কাছেই যদি অস্বাভাবিক মজুদ পাওয়া যায়, তাহলে তদন্তের কেন্দ্রবিন্দু সেদিকে যাবে।

এনএসআই তাই শুধু মজুদ যাচাই নয়, বাজার স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন আমদানি, মজুদ ও বাজারে সরবরাহের তথ্য নজরদারির সুপারিশ করেছে। কোনো পর্যায়ে সরবরাহ বাধাগ্রস্ত করা বা অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে অনিয়মের সম্পর্ক পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে এলপিজির বর্তমান সংকটের রহস্য এখন তিনটি প্রশ্নে এসে দাঁড়িয়েছে—দেশে মোট কত এলপিজি এসেছে, তার কতটা বাস্তবে বাজারে গেছে এবং মাঝের সময়ে কতটা কোথায় আটকে ছিল। সেপ্টেম্বরের মোট আমদানি যদি আগস্টের কাছাকাছি হয়, অথচ ভোক্তাকে একই সময়ে নির্ধারিত দামের চেয়ে শত শত টাকা বেশি দিতে হয়, তাহলে কেবল ‘আমদানি কম’ দিয়ে সংকটের ব্যাখ্যা সম্পূর্ণ হয় না। আবার আমদানি স্বাভাবিক থাকলেই যে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে, সেটিও প্রমাণিত হয় না।

তাই পাঁচ কোম্পানির বিরুদ্ধে এনএসআইয়ের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে প্রয়োজন আমদানি থেকে খুচরা বিক্রি পর্যন্ত পুরো সরবরাহশৃঙ্খলার তথ্যভিত্তিক অডিট। অভিযোগ সত্য হলে কারা কতটা পণ্য আটকে রেখেছিল এবং তাতে কী পরিমাণ আর্থিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল, সেটি বেরিয়ে আসবে। আর অভিযোগের ভিত্তি না থাকলে বাজারে সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির প্রকৃত কারণও স্পষ্ট হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ভোক্তার জন্য নির্ধারিত ১ হাজার ৫৮৫ টাকার সিলিন্ডার কেন বাস্তবে দুই হাজারের বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে—এই প্রশ্নের জবাব এবার কাগজে-কলমে নয়, চালান ও মজুদের হিসাবেই খুঁজে বের করতে হবে।

১

রাখাইনে যুদ্ধ, টেকনাফে আতঙ্ক: সমুদ্রে বাংলাদেশি জেলেদের নিরাপত্তা কোথায়

২

এলপিজি মজুদ করছে শীর্ষ ৫ কম্পানি—গোয়েন্দা প্রতিবেদন

৩

এনসিটির পর এবার সিসিটিও যাচ্ছে বিদেশি অপারেটরদের হাতে

৪

শাহজালালের ইডিকে হুমকির অভিযোগে জামায়াত নেতা রঞ্জনের বিরুদ্ধে মামলা

৫

ময়মনসিংহে বাস-সিএনজি সংঘর্ষে নারী-শিশুসহ নিহত ৭

৬

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের বরফ গলাতে ভারতকেই উদ্যোগী হতে হবে

৭

কলকাতার রাজপথে ভিনিসিয়ুসদের দেখতে জনস্রোত

৮

জয় দিয়ে মেসিবিহীন যুগ শুরু আর্জেন্টিনার

৯

সুবর্ণচরে তিন ফসলি জমিতে ইটভাটা, লাইসেন্স-ছাড়পত্রও নেই: গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

১০

কুড়িগ্রামের রাজমাল্লীর হাটে ৮২ লাখ টাকার হাট উন্নয়ন, সুফল মিলছে না ক্রেতা-বিক্রেতার

১১

চীনের কাছে হেরে অলিম্পিকের স্বপ্ন শেষ বাংলাদেশের

১২

বাংলামোটরে মাথায় আঘাত, ফাঁকা গুলি, বহিষ্কৃত যুবদল নেতা সাইমনসহ আটক ৪

১৩

রোমাঞ্চকর জয়ে পর্তুগালের তিনে তিন, ক্লপের জার্মানির প্রথম জয়

১৪

এক নজরে দেখে নিন ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পূর্ণাঙ্গ সূচি

১৫

ছাত্রীদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ: বেরোবিতে ৩ শিক্ষককে পদাবনতি

১

ট্রেনের ১৭ হাজার টিকিটের জন্য ২ কোটি ৭৬ লাখ বার চেষ্টা

২

দিল্লিতে ভারী বৃষ্টিতে বিমান চলাচল বিঘ্ন, ব্যাপক দুর্ভোগ

৩

মিরাজ-সৌম্যকে দলে টানতে চায় রংপুর

৪

আওয়ামী লীগ নেত্রী গ্রেফতার

৫

গাজায় একদিনে নিহত আরও ৭৯ ফিলিস্তিনি

৬

বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ

৭

মাদককারবারিদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ওসির

৮

২ বহিরাগতের নিয়ন্ত্রণে সরকারি অফিস!

৯

নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ ব্যতীত সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতির সুযোগ নেই: আলী রীয়াজ

১০

বনানীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ২

১১

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে স্থগিত যেসব চাকরির পরীক্ষা

১২

নন-ক্যাডারে ৪১৩৬ জনকে নিয়োগের সুপারিশ

১৩

৬৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএ’র গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

১৪

মাদ্রাসায় গ্রামীণ ফোন করপোরেট নম্বর ব্যবহার বাধ্যতামূলক

১৫

নারায়ণগঞ্জের আলোর বাতিঘর ‘সুধীজন পাঠাগার’

সম্পর্কিত