ধর্মঘটে অচল জনজীবন, সর্বদলীয় বৈঠকের দাবি

মণিপুরে সহিংসতায় নিহত ৪, মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে মরদেহ রেখে বিক্ষোভ

আজাদ ডেস্ক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১০
 ছবি:

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে নতুন করে সহিংসতায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। পৃথক দুটি ঘটনায় একজন তরুণ এবং জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে যাওয়া তিন গ্রামবাসী প্রাণ হারিয়েছেন। তিন গ্রামবাসীকে হত্যার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা নিহতদের দুজনের মরদেহ নিয়ে রাজধানী ইম্ফলে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। পরে পুলিশ মরদেহ সরিয়ে নেয় এবং বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।

সর্বশেষ এই সহিংসতার পর মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজ্যজুড়ে ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘট শুরু হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে, সড়ক ফাঁকা দেখা গেছে। একই দিন বিরোধী জোটের প্রতিনিধিরা মুখ্যমন্ত্রী ইউমনাম খেমচাঁদ সিংয়ের সঙ্গে দেখা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বদলীয় বৈঠক আহ্বানের দাবি জানিয়েছেন। খবর এনডিটিভি ও অন্যান্য ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের। 

গত রোববার রাত থেকে সোমবার সকালের মধ্যে দুটি পৃথক ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। প্রথম ঘটনাটি ঘটে মেইতেই ও পাঙ্গাল মুসলিম-অধ্যুষিত একটি এলাকায় সংগীতানুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে। সেখানে পাথর নিক্ষেপ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ সূত্রের বরাতে জানিয়েছে এনডিটিভি। এতে কয়েকজন আহত হন। পরে গুলিবিদ্ধ হয়ে ২৪ বছর বয়সী এক তরুণের মৃত্যু হয়।

দ্বিতীয় ও অধিক প্রাণঘাতী ঘটনাটি ঘটে ইম্ফল পূর্ব জেলার খামেনলোক ও নোংশুম পাহাড়সংলগ্ন এলাকায়। স্থানীয় বিধায়ক থোকচোম লোকেশোর সিংয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ইম্ফল পূর্ব ও কুকি-অধ্যুষিত কাংপোকপি জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে যাওয়া তিন গ্রামবাসীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হন। হামলাকারীরা সন্দেহভাজন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য বলে অভিযোগ উঠেছে; তবে হামলার দায় ও প্রকৃত ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার

স্থানীয় বিধায়ক লোকেশোর সিং জানিয়েছেন, নিহত তিনজনসহ একদল গ্রামবাসী পাহাড়ি এলাকায় কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। তাঁদের ওপর গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ। নিহতদের পরিচয় হিসেবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে অরুবাম রনিল, লাইরেনলাকপাম ইনায়োবি ও ক্ষেত্রিমায়ুম সুশীলের নাম এসেছে। তাঁদের বয়স নিয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে কিছু অমিল রয়েছে।

হামলায় আহত তিনজনকে ইম্ফলের রাজ মেডিসিটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী ইউমনাম খেমচাঁদ সিং হাসপাতালে গিয়ে তাঁদের খোঁজখবর নেন। হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থল ঘিরে তল্লাশি চালায় এবং সংবেদনশীল এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করে।

হামলার স্থানটি ইম্ফল পূর্ব ও কাংপোকপি জেলার সীমান্তবর্তী একটি স্পর্শকাতর এলাকায়। এই অঞ্চলে মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বিধায়ক হামলার এলাকার কাছাকাছি ‘সিনাই ক্যাম্প’ নামে পরিচিত অপারেশন স্থগিত চুক্তির (এসওও) আওতাধীন একটি ক্যাম্প সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ওই এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে ক্যাম্পটির সঙ্গে হামলার সরাসরি যোগসূত্র স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।

মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে মরদেহ রেখে বিক্ষোভ

তিন গ্রামবাসী নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ লোকজন নিহতদের দুজনের মরদেহ নিয়ে ইম্ফলে মুখ্যমন্ত্রীর উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত বাসভবনের সামনে যান। সেখানে মরদেহ রেখে তাঁরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিপেটা করে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়। মরদেহ দুটি পরে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হলেও তাঁদের সোমবার পরে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘটে জনজীবন ব্যাহত

হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে নেটিভ পিপল কমিটি মণিপুর (এনপিসি) রাজ্যজুড়ে ৪৮ ঘণ্টার সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দেয়। মঙ্গলবার সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকায় ধর্মঘটের সমর্থকেরা সড়কে অবস্থান নেন। ক্যানচিপুর, খুরাই ও পাতসোইসহ কয়েকটি এলাকায় ধর্মঘট পালনের খবর পাওয়া গেছে। আগের রাতে লামলং, সিংজামেই, কোয়াকেইথেল ও চিংমেইরং এলাকায়ও বিক্ষোভ হয়।

ধর্মঘটের কারণে বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে এবং স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়। ধর্মঘট আহ্বানকারীরা হামলার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আনা, সংবেদনশীল এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো এবং হামলাস্থলের আশপাশে থাকা অননুমোদিত সশস্ত্র ক্যাম্প সরানোর দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি এসওও চুক্তি নিয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ারও দাবি তোলা হয়েছে।

জরুরি চিকিৎসা, স্বাস্থ্যসেবা, ধর্মীয় কার্যক্রম ও প্রয়োজনীয় সেবাকে ধর্মঘটের আওতামুক্ত রাখার কথা জানিয়েছে আয়োজক কমিটি। অ্যাম্বুলেন্স, জরুরি চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সরবরাহ চলাচলে বাধা না দেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

সর্বদলীয় বৈঠকের দাবি বিরোধীদের

নতুন করে প্রাণহানি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে মঙ্গলবার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা ওকরাম ইবোবি সিংয়ের নেতৃত্বে বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার একটি প্রতিনিধিদল মুখ্যমন্ত্রী খেমচাঁদ সিংয়ের সঙ্গে দেখা করে। প্রতিনিধিদলে কংগ্রেসের আইনসভা দলের নেতা কে মেঘচন্দ্র সিং, লোকসভা সদস্য অ্যাঙ্গোমচা বিমল আকোইজামসহ বিভিন্ন দলের নেতারা ছিলেন।

প্রতিনিধিদল রাজ্যের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার অনুরোধ করে। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের বক্তব্য শোনেন এবং বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেন। শান্তি ফিরিয়ে আনা ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয় বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৩ সাল থেকে জাতিগত উত্তেজনা

মণিপুরে মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতিগত সহিংসতা শুরু হয় ২০২৩ সালের মে মাসে। এরপর থেকে রাজ্যটিতে সংঘর্ষ, সশস্ত্র হামলা, বাস্তুচ্যুতি ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বিদ্যমান অবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে ইম্ফল পূর্ব ও কাংপোকপি জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা এবং জ্বালানি কাঠের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় সম্পদ সংগ্রহে তাঁদের চলাচল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় বিধায়ক ও বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা জোরদার এবং সন্দেহভাজন হামলাকারীদের শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

তবে হামলার সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা এখনো চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের শনাক্তকরণ এবং সংবেদনশীল এলাকায় কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা—পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখন এসব পদক্ষেপই গুরুত্বপূর্ণ। নতুন সহিংসতার পর ধর্মঘট ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যে রাজ্য সরকার কী ব্যবস্থা নেয়, তার ওপর পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে।

১

ঢাকার কাছেই গ্যাসের সন্ধান, মানিকগঞ্জে কূপ খননের পরিকল্পনা

২

জামায়াত ছাড়ার শর্তে নারাজ তিন দল, ভেস্তে যাচ্ছে হেফাজতের জোট

৩

স্পেনে কর্মসংস্থানের ফাঁদ, লিবিয়ায় জিম্মি যুবক

৪

মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি মেয়র নির্বাচনের পথ সুগম হলো ইশরাকের

৫

‘ফাদার অব অল বোমস’ উন্মোচনের ঘোষণা ইরানের

৬

পূজার দিনে ব্যস্ততা বাড়ে কলকাতার যে মুসলিমদের

৭

‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’: ফ্রান্সের বিক্ষোভে কেন এই স্লোগান

৮

ইউরোপের বিক্ষোভ অভিবাসীদের যে বার্তা দিচ্ছে

৯

ব্যাটিং ব্যর্থতায় আরেকটি পরাজয়ে বিব্রতকর বিদায় বাংলাদেশের

১০

বিষাদের সুরে বিদায় দেবী দুর্গার, উৎসবে মাতল দেশ

১১

আত্মপ্রত্যয়ী জাতি গঠনে খেলাধুলার ভূমিকা অপরিসীম: প্রধানমন্ত্রী

১২

রাজনৈতিক সহিংসতায় বিপর্যস্ত পরিবার, ঝরে পড়ে সন্তানের পড়াশোনা

১৩

সমাজের নিকৃষ্ট লোকেরা এমপি-মন্ত্রী হন: স্পিকার

১৪

ইশরাক ‘পোষ্য কোটায়’ রাজনীতিতে এসেছেন: নিলোফার চৌধুরী

১৫

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: গ্রেপ্তার পৃথক অভিযোগে, মিশনের চিঠিতে আরও যা আছে

১

ট্রেনের ১৭ হাজার টিকিটের জন্য ২ কোটি ৭৬ লাখ বার চেষ্টা

২

দিল্লিতে ভারী বৃষ্টিতে বিমান চলাচল বিঘ্ন, ব্যাপক দুর্ভোগ

৩

মিরাজ-সৌম্যকে দলে টানতে চায় রংপুর

৪

আওয়ামী লীগ নেত্রী গ্রেফতার

৫

গাজায় একদিনে নিহত আরও ৭৯ ফিলিস্তিনি

৬

বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ

৭

মাদককারবারিদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ওসির

৮

২ বহিরাগতের নিয়ন্ত্রণে সরকারি অফিস!

৯

নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ ব্যতীত সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতির সুযোগ নেই: আলী রীয়াজ

১০

বনানীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ২

১১

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে স্থগিত যেসব চাকরির পরীক্ষা

১২

নন-ক্যাডারে ৪১৩৬ জনকে নিয়োগের সুপারিশ

১৩

৬৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএ’র গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

১৪

নারায়ণগঞ্জের আলোর বাতিঘর ‘সুধীজন পাঠাগার’

১৫

মাদ্রাসায় গ্রামীণ ফোন করপোরেট নম্বর ব্যবহার বাধ্যতামূলক

সম্পর্কিত