শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৯ রান। হ্যামস্ট্রিংয়ে টান লাগায় মাঠ ছাড়ার পর আবার ক্রিজে ফিরেছিলেন জস বাটলার। কিন্তু ফিরেই বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ তুলে বিদায় নেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক। তাতেই কার্যত শেষ হয়ে যায় স্বাগতিকদের জয়ের আশা। রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে ইংল্যান্ডকে ১৬ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়েছে শ্রীলঙ্কা।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) হেডিংলিতে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে কুসাল মেন্ডিসের সেঞ্চুরিতে ৬ উইকেটে ৩২১ রান সংগ্রহ করে শ্রীলঙ্কা। জবাবে ১৪৩ রানের উদ্বোধনী জুটি এবং চারটি পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস পেয়েও নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ৩০৫ রানের বেশি করতে পারেনি ইংল্যান্ড।
ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে শুরুতে অবশ্য ইংল্যান্ডের বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। পাথুম নিসাঙ্কা ও কামিন্দু মেন্ডিসের উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৪৫ রান। ৩৩ বলে ২৫ রান করা নিসাঙ্কাকে দশম ওভারে এলবিডব্লিউ করে ফেরান গাস অ্যাটকিনসন। এরপর অধিনায়ক কুসাল মেন্ডিস ক্রিজে এসে ইনিংসের নিয়ন্ত্রণ নেন। কামিন্দু মেন্ডিসকে সঙ্গে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে ১৩৭ রানের বড় জুটি গড়েন তিনি। ৬৫ বলে ৫৬ রান করে কামিন্দু ফিরলেও কুসাল ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। ১৮ রানে থাকার সময় কুসালের সহজ ক্যাচ হাতছাড়া করেন অ্যাটকিনসন। সেই ভুলের বড় মূল্য দিতে হয় ইংল্যান্ডকে। ৯৯ রানে পৌঁছে জেমি ওভারটনের বলে কট বিহাইন্ডের আবেদনে আম্পায়ার তাঁকে আউট দিলেও রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান কুসাল। পরের বলেই চার মেরে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১০০ বলে ১২১ রান করে আউট হন কুসাল। তাঁর ইনিংসে ছিল ১৪টি চার ও তিনটি ছক্কা। পরে পাভান রাত্নায়েকে ৪৮ ও জানিথ লিয়ানাগে ৩২ রান করে শ্রীলঙ্কাকে তিনশ ছাড়াতে সহায়তা করেন। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩২১ রান দাঁড়ায় শ্রীলঙ্কার। ইংল্যান্ডের হয়ে অ্যাটকিনসন ও ওভারটন দুটি করে উইকেট নেন। আর্চার ও রেহান আহমেদ নেন একটি করে।
৩২২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ছিল ইংল্যান্ডের দুর্দান্ত। টম ব্যান্টন ও বেন ডাকেটের ব্যাটে প্রথম ১০ ওভারের পাওয়ারপ্লেতে আসে ৮২ রান। উদ্বোধনী জুটিতে দুজন যোগ করেন ১৪৩ রান। ব্যান্টন ৬২ বলে সাত চার ও তিন ছক্কায় ৭৩ এবং ডাকেট ৬৩ বলে নয় চারে ৬৭ রান করেন। তবে দুনিথ ওয়েলালাগে বোলিংয়ে আসার পরই ম্যাচের মোড় ঘুরতে শুরু করে। প্রথম ওভারে মাত্র দুই রান দেওয়া বাঁহাতি স্পিনার পরের তিন ওভারে একে একে ফেরান ডাকেট, ব্যান্টন ও হ্যারি ব্রুককে। ১০ ওভারে ৪৯ রান দিয়ে তিন উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের মাঝের সারিতে বড় ধাক্কা দেন তিনি। এরপর জস বাটলার ও উইল জ্যাকস ইংল্যান্ডকে আবার ম্যাচে ফেরান। জো রুটের সঙ্গে বাটলার ২৮ বলে ৪৬ রানের জুটি গড়েন। রুট ১৫ রান করে ফিরলেও বাটলার আগ্রাসী ব্যাটিং চালিয়ে যান। ৩৬ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। জ্যাকসকে সঙ্গে নিয়ে পঞ্চাশোর্ধ্ব জুটি গড়ে ইংল্যান্ডকে জয়ের পথে রাখেন বাটলার। কিন্তু ৩৮তম ওভারে হ্যামস্ট্রিংয়ে টান লাগায় সমস্যায় পড়েন তিনি। ফিজিওর চিকিৎসা নিয়ে আরও দুই বল খেলার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত খুঁড়িয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে।
বাটলার মাঠ ছাড়ার সময় ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ৭৫ বলে ৬৮ রান। এরপর জ্যাকস এক প্রান্তে লড়াই চালিয়ে গেলেও নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকে ইংল্যান্ড। পুরোনো বলে রিভার্স সুইং কাজে লাগিয়ে আসিথা ফার্নান্দো, দিলশান মাদুশাঙ্কা ও ইশান মালিঙ্গা চাপ ধরে রাখেন। শেষ দিকে বাটলার আবার মাঠে ফেরেন। তখন ১৪ বলে দরকার ছিল ২৭ রান। ৪৮তম ওভারের শেষ বলে জ্যাকস ছক্কা মারলে সমীকরণ নেমে আসে শেষ দুই ওভারে ২০ রানে। ৪৯তম ওভারে এক রান নেওয়ার পর ইশান মালিঙ্গার বলে জ্যাকস আউট হন। তিনি ৫২ রান করেন। শেষ ওভারের আগে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ১৯ রান। মাদুশাঙ্কার প্রথম বলেই বড় শট খেলতে গিয়ে ডিপ মিড-উইকেটে কামিন্দু মেন্ডিসের হাতে ক্যাচ দেন বাটলার। ৩৬ বলে ৬৯ রানের ইনিংসে পাঁচটি চার ও ছয়টি ছক্কা মেরেছিলেন তিনি। বাটলারের বিদায়ের পর ম্যাচের ফলও কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায়।
শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ৩০৫ রান করে ইংল্যান্ড। ব্যান্টন, ডাকেট ও বাটলারের পাশাপাশি জ্যাকস করেন ৫২ রান। শ্রীলঙ্কার হয়ে ওয়েলালাগে তিনটি এবং মাদুশাঙ্কা ও মালিঙ্গা দুটি করে উইকেট নেন। কুসাল মেন্ডিসের ১২১ রানের ইনিংসের সঙ্গে ওয়েলালাগের গুরুত্বপূর্ণ স্পেলই শ্রীলঙ্কার জয়ের ভিত্তি গড়ে দেয়। ম্যাচসেরার পুরস্কারও পান শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক।
এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতা ফিরল। সিরিজের প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ড জয় পেয়েছিল। তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে হবে ২৭ সেপ্টেম্বর দ্য ওভালে।