ফিফা আসিয়ান কাপের প্রথম আসরে কঠিন পরীক্ষার সামনে বাংলাদেশ। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘এ’র প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে লাল-সবুজের দল। বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় শুরু হবে ম্যাচটি। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বাস্তবতা মেনে নিজেদের সামর্থ্য যাচাই করাই বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন কোচ থমাস ডুলি। তাঁর মতে, মালয়েশিয়ার কাছে ১-০ গোলে হারলেও সেটিকে ভালো ফল হিসেবে দেখা হবে।
টুর্নামেন্টটি বাংলাদেশের জন্য নতুন এক আন্তর্জাতিক মঞ্চ। ভারত অংশ না নেওয়ায় ফিফার আমন্ত্রণে এই প্রতিযোগিতায় জায়গা পেয়েছে বাংলাদেশ। উদ্বোধনী আসরের ডিভিশন-১-এর ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া। গ্রুপের প্রতিটি দলের বিপক্ষে একটি করে ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।
মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া বলেন, ইন্দোনেশিয়ায় এসে তিনটি ম্যাচ খেলার জন্য তারা প্রস্তুত। ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে কিছুটা দেরিতে দলটি ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছালেও এখন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য দেখাতে মুখিয়ে আছেন তাঁরা।
জামাল বলেন, ‘আমরা জানি, এটি কঠিন হতে যাচ্ছে। তবে আমরা নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখি এবং আমাদের ভালো আত্মবিশ্বাস রয়েছে। মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুর—তিনটি ম্যাচই আমাদের জন্য কঠিন পরীক্ষা হবে।’
তবে এই টুর্নামেন্টকে শুধু ফলের বিচারে দেখছেন না বাংলাদেশের অধিনায়ক। তাঁর কাছে আসন্ন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। জামাল বলেন, ‘সফল হতে হলে আপনাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে, ভালো ম্যাচ খেলতে হবে। কোচ যেমন বলেছেন, এটি আমাদের জন্য একটি প্রস্তুতিমূলক টুর্নামেন্ট। কারণ এক মাসের মধ্যে আমাদের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ রয়েছে, যা আমাদের মূল লক্ষ্য।’

তবে প্রস্তুতি হলেও মাঠে নেমে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান জামালরা। তাঁর লক্ষ্য অন্তত কয়েকটি পয়েন্ট সংগ্রহ করা এবং সম্ভব হলে এক বা দুটি ম্যাচে জয় পাওয়া। তিনি বলেন, ‘একটি দল হিসেবে আমরা প্রতিযোগিতা করতে চাই। যদি কয়েকটি পয়েন্ট পেতে পারি বা এক-দুটি ম্যাচ জিততে পারি, তবে তা আমাদের জন্য খুবই সফল একটি সফর হবে।’
ফিফা র্যাঙ্কিংয়েও বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে তিন প্রতিপক্ষ। সর্বশেষ তালিকা অনুযায়ী ইন্দোনেশিয়া ১১৮তম, মালয়েশিয়া ১৩৬তম এবং সিঙ্গাপুর ১৪৮তম অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশের অবস্থান ১৮১তম। মালয়েশিয়াও ২৫ সেপ্টেম্বরের ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে নিজেদের অভিযান শুরু করবে।
এই পার্থক্য মাথায় রেখেই দলের প্রত্যাশা নিয়ে বাস্তববাদী থাকার কথা বলেছেন কোচ থমাস ডুলি। তিনি বলেন, শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে খেলার সুযোগটিই বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে নভেম্বরের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতির জন্য এই টুর্নামেন্টকে বড় মঞ্চ হিসেবে দেখছেন তিনি।
ডুলির ভাষায়, ‘এই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত। এটি আমাদের জন্য বড় এক চ্যালেঞ্জ। শক্তিশালী দলগুলোর সঙ্গে খেলার ইচ্ছে আমাদের সব সময়ই ছিল। তবে আমাদের মূল নজর ভবিষ্যতের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে। আগামী নভেম্বরে ঘরের মাঠে হতে যাওয়া সেই টুর্নামেন্টের জন্য এটি দুর্দান্ত এক প্রস্তুতির মঞ্চ।’
বাংলাদেশের অবস্থান সম্পর্কে ডুলি বলেন, প্রত্যাশার চাপের চেয়ে মাঠে নিজেদের বাস্তব সক্ষমতা যাচাই করাই এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, দেশের ফুটবলপ্রেমীরা হয়তো দলকে প্রতিটি ম্যাচে জয়ের প্রত্যাশায় দেখছেন, কিন্তু শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বাংলাদেশ কোথায় দাঁড়িয়ে আছে, সেটি বোঝার সুযোগও এই টুর্নামেন্ট দেবে।
মালয়েশিয়ার শক্তিমত্তার কথা উল্লেখ করে ডুলি বলেন, ‘মালয়েশিয়া স্পষ্টতই আমাদের চেয়ে শক্তিতে এগিয়ে, যা আমাদের জন্য বেশ কঠিন পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। ভালো একটা ফল আনতে পারলেই তা আমাদের জন্য সাফল্য। যদি ১-০ গোলে হারি কিংবা একটা ড্র-ও বের করে আনতে পারি, সেটাও হবে ফ্যান্টাস্টিক।’
বাংলাদেশের পরের ম্যাচ ২৮ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ১ অক্টোবর স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি হবে লাল-সবুজের দল। তিনটি ম্যাচই জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
ফিফা আসিয়ান কাপের উদ্বোধনী আসরে ১৪টি জাতীয় দল দুটি ডিভিশনে খেলছে। ডিভিশন-১-এ বাংলাদেশ ও পাকিস্তান অতিথি দল হিসেবে অংশ নিচ্ছে। বাংলাদেশের গ্রুপে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়া। গ্রুপের শীর্ষ দল ফাইনালে উঠবে, আর রানার্সআপ দল খেলবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে।