আর মাত্র একটি ম্যাচ। এরপরই আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সিতে লিওনেল মেসির দুই দশকের বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের শেষ হওয়ার কথা। বেনিনের বিপক্ষে বুধবার বুয়েন্স এইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে সেই বিদায়ী ম্যাচকে সামনে রেখে শেষবারের মতো অনুশীলনও সেরে ফেলেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। অনুশীলন শেষে সতীর্থ, কোচিং স্টাফ ও আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে আবেগঘন বার্তাও দিয়েছেন তিনি।
নিজের নামে নামকরণ করা এজেইজা ট্রেনিং কমপ্লেক্সে শেষ অনুশীলন শেষে ইনস্টাগ্রামে বেশ কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেন মেসি। সতীর্থ, কোচিং স্টাফ, মাঠকর্মী ও এএফএর কর্মকর্তাদের সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল মুহূর্তের ছবির সঙ্গে তিনি লিখেছেন, ‘বিশেষ কিছু মুহূর্ত, যেগুলো আমি জানি খুব মিস করব।’
মেসির পোস্ট করা ছবিগুলোর মধ্যে একটি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। সেখানে আর্জেন্টিনা দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের পাশাপাশি দেখা গেছে মাঠকর্মী এবং এএফএর কর্মকর্তাদেরও। ছিলেন সংস্থাটির সভাপতি ক্লদিও তাপিয়াও। দীর্ঘদিনের সতীর্থদের সঙ্গে এমন একটি মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়ার মধ্য দিয়েই যেন বিদায়ের আগে নিজের কাছের মানুষগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতাটুকু প্রকাশ করেছেন মেসি।
বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটি ঘিরে মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামেও থাকছে বিশেষ আয়োজন। গ্যালারি কানায় কানায় পূর্ণ হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। কাতার বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা দলের মেসির বেশির ভাগ সতীর্থও উপস্থিত থাকবেন এই বিশেষ দিনে। ম্যাচকে ঘিরে থাকছে নানা আয়োজন, পাশাপাশি অতিথি শিল্পীদের পরিবেশনাও।
মাঠে মেসির পাশে থাকবেন তার দীর্ঘদিনের সতীর্থদের কয়েকজন। আর্জেন্টিনা দলে রয়েছেন নিকোলাস ওতামেন্দি, রদ্রিগো ডি পল ও জিওভানি লো সেলসোর মতো পরিচিত মুখ। এরই মধ্যে জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণাও দিয়েছেন ওতামেন্দি। ফলে মেসির পাশাপাশি তার উপস্থিতিও ম্যাচটির আবেগকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
তবে সব আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দু একজনই—মেসি। জাতীয় দলের জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নামার মুহূর্তটির অপেক্ষায় এখন আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা। কত মিনিট মাঠে থাকবেন তিনি, সেটিও আলোচনার বিষয়। মেসি পুরো ৯০ মিনিট খেলবেন, নাকি কোচ লিওনেল স্কালোনি তাকে নির্দিষ্ট সময় পর তুলে নেবেন—তার উত্তর মিলবে ম্যাচ শুরু হওয়ার পর।
যে জার্সি গায়ে দিয়ে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ এনে দিয়েছেন, সেই জার্সিতেই এবার শেষবারের মতো মাঠে নামার অপেক্ষা মেসির। তাই বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটি শুধু আরেকটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ নয়; এটি হয়ে উঠছে এক যুগের বিদায়ের মঞ্চ। আর শেষ অনুশীলনের পর মেসির সেই ছোট্ট বার্তা—‘বিশেষ কিছু মুহূর্ত, যেগুলো আমি জানি খুব মিস করব’—বিদায়ের আবেগটাকেই যেন আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।