পিছিয়ে পড়েও জয় তুলে নিয়ে নিজেদের দীর্ঘ অপরাজিত থাকার ধারাকে আরও সমৃদ্ধ করল স্পেন। ক্রোয়েশিয়ার মাঠে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু বদলি হিসেবে নেমে মিকেল মেরিনোর জোড়া গোলে ম্যাচের চিত্রই বদলে যায়। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্পেন। এই জয়ে তাদের অপরাজিত থাকার রেকর্ড পৌঁছেছে ৪২ ম্যাচে।
অন্যদিকে ওয়েম্বলিতে ইতিহাসগড়া রাতে জোড়া গোল করে ইংল্যান্ডকে জয় এনে দিয়েছেন অধিনায়ক হ্যারি কেইন। চেক প্রজাতন্ত্রকে ৩-০ গোলে হারানোর ম্যাচটি কেইনের জন্য ছিল বিশেষ। জাতীয় দলের হয়ে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ১২৫তম ম্যাচে মাঠে নেমে গোলসংখ্যাও নিয়ে গেছেন ৯১-এ।
নিজেদের মাঠে স্পেনের বিপক্ষে শুরু থেকেই ক্রোয়েশিয়ার ফুটবলে ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর তাড়না। ম্যাচের মাত্র ১৭ মিনিটেই তার ফলও পেয়ে যায় তারা। ডান দিক থেকে আসা আক্রমণের পর ইভান পেরিসিচের নিখুঁত হেড নিচের বাঁ কোনা দিয়ে জালে পৌঁছালে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।
তবে এগিয়ে যাওয়ার পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেনি ক্রোয়েশিয়া। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নামা মেরিনো স্পেনকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন ৬১ মিনিটে। বক্সের মাঝখানে জায়গা পেয়ে বাঁ পায়ের শটে বল জালে পাঠান তিনি।
এরপর ম্যাচে আসে বড় মোড়। ৭৯ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন পেরিসিচ। ১০ জনের ক্রোয়েশিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে থাকে স্পেন। শেষ পর্যন্ত ৮৯ মিনিটে সেই চাপেরই ফল মেলে। আবারও বাঁ পায়ের শটে গোল করেন মেরিনো। তার জোড়া গোলেই নিশ্চিত হয় স্পেনের প্রত্যাবর্তনের জয়।
এই জয় শুধু তিন পয়েন্টই এনে দেয়নি, আরও দীর্ঘ করেছে স্পেনের অসাধারণ ধারাবাহিকতা। টানা ৪২ ম্যাচ অপরাজিত থেকে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা আবারও নিজেদের শক্তির জানান দিল।
একই গ্রুপের অন্য ম্যাচে ওয়েম্বলিতে চেক প্রজাতন্ত্রকে কোনো সুযোগ না দিয়ে ৩-০ গোলে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। এই জয়ের নায়ক হ্যারি কেইন। তবে ইংল্যান্ডের সাফল্যের রাতে কোচ টমাস টুখেলও গড়েছেন নতুন রেকর্ড। মাত্র ২৬ ম্যাচে ২০ জয় নিয়ে ইংল্যান্ডের ইতিহাসে দ্রুততম ২০ জয়ের কোচ হয়েছেন তিনি।
চেকদের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের প্রথম গোল আসে ২৭ মিনিটে। কেইনের বাড়ানো ক্রস থেকেই তৈরি হওয়া আক্রমণে ভ্লাদিমির কৌফালের আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।
এরপর শুরু কেইনের ব্যক্তিগত উৎসব। জাতীয় দলের হয়ে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ১২৫তম ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। নিজের ঐতিহাসিক রাতটিকে আরও স্মরণীয় করে তুলতে প্রথমার্ধের শেষ দিকে করেন নিজের প্রথম গোল।
এলিয়ট অ্যান্ডারসনের লম্বা পাস ধরে ডান দিক থেকে মর্গান রজার্স প্রথম স্পর্শেই ক্রস বাড়ান। বক্সের মধ্যে সঠিক জায়গায় থাকা কেইন আর সুযোগ নষ্ট করেননি। নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে পাঠিয়ে ইংল্যান্ডের ব্যবধান বাড়ান তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধেও থামেননি ৩৩ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার। ৫৭ মিনিটে লুইস হলের কর্নার থেকে পাওয়া বলে দূরের পোস্টের কাছে উঠে হেডে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন কেইন। জাতীয় দলের হয়ে এটি তার ৯১তম গোল।
কেইনের জোড়া গোলেই ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত হয়। এই জয়ে গ্রুপে তাদের পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ৯-এ, ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পথও অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে। তবে একই গ্রুপে ১২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকা স্পেন ইতোমধ্যেই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে। ক্রোয়েশিয়ার সংগ্রহ ৩ পয়েন্ট।
একই রাতে দুই দলের গল্প ছিল আলাদা। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে স্পেনকে ফিরিয়ে আনলেন মেরিনো, আর ইংল্যান্ডের হয়ে নিজের ইতিহাসকে আরও বড় করলেন কেইন। একজনের জোড়া গোল বাঁচাল অপরাজিত থাকার ধারাকে, অন্যজনের দুই গোল লিখল জাতীয় দলের রেকর্ডের নতুন অধ্যায়।