কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতার প্রথম দিনেই পাঁচটি নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়েছেন অ্যাথলেটরা। এদিকে পুরুষ ও নারী—দুই বিভাগের ১০০ মিটার স্প্রিন্টেই স্বর্ণপদক জিতেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। পুরুষদের বিভাগে ইমরানুর রহমান এবং নারীদের বিভাগে শিরিন আক্তার হয়েছেন দ্রুততম।
পুরুষদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে ১০.৫৩ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে দ্রুততম মানবের খেতাব জেতেন নৌবাহিনীর ইমরানুর রহমান। একই বাহিনীর মোহাম্মদ ইসমাইল ১০.৬৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে দ্বিতীয় হন। ১০.৭৩ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তারেক রহমান।

নারীদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে ১২.০৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে স্বর্ণপদক জেতেন নৌবাহিনীর শিরিন আক্তার। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এটি তাঁর ১৮তম দ্রুততম মানবীর খেতাব। সেনাবাহিনীর শরিফা খাতুন ১২.২৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে দ্বিতীয় হন। নৌবাহিনীর সুমাইয়া দেওয়ান ১২.৩৩ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।
প্রতিযোগিতার প্রথম দিনেই নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়েছেন নৌবাহিনীর পাপিয়া আক্তার। নারীদের ১ হাজার ৫০০ মিটার দৌড়ে তিনি সময় নেন ৪ মিনিট ৪৪.৮০ সেকেন্ড। এর আগে ১৯৯৬ সালে রহিমা খানম যুথী ৪ মিনিট ৪৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে এই রেকর্ড গড়েছিলেন।
নারীদের ৪০০ মিটার হার্ডলসে বর্ষা খাতুন নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়েছেন। তিনি সময় নেন ১ মিনিট ১.১৪ সেকেন্ড। তবে আগের রেকর্ডের বিষয়ে আয়োজকদের দেওয়া তথ্যে সময়ের অসংগতি রয়েছে, যা যাচাই করা প্রয়োজন।
পুরুষদের শটপুটে নৌবাহিনীর গোলাম সারোয়ার ১৬.০৯ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করে নতুন রেকর্ড গড়েন। আগের রেকর্ড ছিল ১৫.৯৪ মিটার।
পুরুষদের ডিসকাস থ্রোতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আব্দুল আলিম ৪৭.৭০ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করে নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়েন। আগের রেকর্ডটি ছিল মো. ফারুক আহমেদের, ৪৭.৫৯ মিটার।

পুরুষদের জ্যাভলিন থ্রোতে সেনাবাহিনীর মো. আশরাফুল ৬৯.২০ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করে নতুন রেকর্ড গড়েছেন। এর মধ্য দিয়ে একই বছরে মেহেদি হাসানের গড়া ৬৭.৩৫ মিটারের রেকর্ড ভেঙেছেন তিনি।
প্রথম দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত মোট ১৩টি ইভেন্টের খেলা শেষ হয়। পদক তালিকায় এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। তাদের সংগ্রহ ৯টি স্বর্ণ, ৫টি রৌপ্য ও ৬টি ব্রোঞ্জসহ মোট ২০টি পদক। চারটি স্বর্ণ, আটটি রৌপ্য ও তিনটি ব্রোঞ্জসহ ১৫টি পদক নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। দুটি রৌপ্যপদক নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী।
এদিকে অ্যাথলেটদের আবাসন, পুষ্টি ও যাতায়াতের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ।