জাতীয় ক্রিকেট লিগে পরপর দুই রাউন্ডে নব্বইয়ের ঘরে পৌঁছেও সেঞ্চুরি পাওয়া হয়নি কালাম সিদ্দিকির। এবার আরও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে আন্তর্জাতিক বোলারদের বিপক্ষে তিন অঙ্ক ছুঁলেন তরুণ এই মিডল-অর্ডার ব্যাটার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে তাঁর সেঞ্চুরির পাশাপাশি জিসান আলমের ৮৬ রানের ইনিংসও বাংলাদেশের টেস্ট ব্যাটসম্যানদের জন্য ইতিবাচক বার্তা হয়ে এসেছে।
বৃহস্পতিবার আনভির ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিনে নির্ধারিত ৯০ ওভারে ৭ উইকেটে ৩৭১ রান করেছে বিসিবি একাদশ। কালাম করেছেন ১৩৫ রান। জিসানের ৮৬ রানের ইনিংসের সঙ্গে চৌধুরি মোহাম্মদ রিজওয়ানের ৫৯ এবং শামীম হোসেনের ৩৫ রানের অবদানও ছিল উল্লেখযোগ্য। জাকের আলি করেন ৩০ রান।
মূল সিরিজ শুরুর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের টেস্ট দলের বোলারদের বিপক্ষে বাংলাদেশের ব্যাটারদের এমন পারফরম্যান্স কিছুটা হলেও আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। অবশ্য প্রস্তুতি ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতার তীব্রতা আন্তর্জাতিক ম্যাচের মতো ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে। তবু কিমার রোচ, জেডেন সিলস ও জোমেল ওয়ারিকানদের মতো বোলারদের বিপক্ষে কালাম-জিসানদের ব্যাটিং ছিল আশাব্যঞ্জক।
দুই দিনের ম্যাচ হওয়ায় খেলা শুরুর আগেই দুই দল প্রতিদিন ৯০ ওভার করে ব্যাটিংয়ের বিষয়ে সম্মত হয়। সে অনুযায়ী, প্রথম দিন ব্যাট করেছে বিসিবি একাদশ। দ্বিতীয় দিন ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
দিনের শুরুতে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি জাতীয় ক্রিকেট লিগে ছন্দে থাকা মাহফিজুল ইসলাম। জেডেন সিলসের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন তিনি। এরপর বাঁহাতি স্পিনার জশুয়া বিশপের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে ডিপ মিডউইকেটে ধরা পড়েন তিন নম্বরে নামা ইফতেখার।
অন্য প্রান্তে শুরু থেকেই সাবলীল ছিলেন জিসান। মাত্র ৫৫ বলে পঞ্চাশ ছোঁয়া এই ব্যাটার কালামকে নিয়ে তৃতীয় উইকেটে গড়েন ৬২ রানের জুটি। তবে সেঞ্চুরির কাছাকাছি পৌঁছানোর আগেই তাঁকে থামান বিশপ। লেগ স্টাম্পে পিচ করা বল সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হন জিসান। ১১ চার ও ২ ছক্কায় ১০০ বলে ৮৬ রান করেন তিনি।
জিসানের বিদায়ের পর ইনিংসের হাল ধরেন কালাম। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের বদলে ধৈর্য ধরে রান তোলায় মনোযোগ দেন ১৯ বছর বয়সী এই ব্যাটার। ৯০ বলে পঞ্চাশ পূর্ণ করার পর সেঞ্চুরিতে পৌঁছাতে খেলেন আরও ৭১ বল।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তিনবার পঞ্চাশ ছুঁলেও এর আগে সেঞ্চুরি ছিল না কালামের। অনানুষ্ঠানিক প্রস্তুতি ম্যাচ হওয়ায় এই শতরান তাঁর প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ার পরিসংখ্যানে যুক্ত হবে না। তবে ওয়ারিকান, রস্টন চেইস ও সিলসের মতো আন্তর্জাতিক বোলারদের বিপক্ষে তাঁর ইনিংসটি অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে।
সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর হাত খুলে খেলতে শুরু করেন কালাম। মাত্র ২২ বলে যোগ করেন আরও ৩৫ রান। শেষ পর্যন্ত কেভিন উইকহ্যামের নিচু হয়ে আসা ডেলিভারিতে বোল্ড হন তিনি। ২০ চার ও ১ ছক্কায় ১৮৪ বলে ১৩৫ রান করেন কালাম।
দিনের শেষ ভাগে দ্রুত রান তোলেন রিজওয়ান ও শামীম। তাঁদের ব্যাটিংয়ে শেষ আট ওভারে আসে ৫৬ রান। ১০৬ বলে ৫৯ রান করে আউট হন রিজওয়ান। তাঁর ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও একটি ছক্কা। শামীম ৩০ বলে ৩৫ রান করে অপরাজিত থাকেন, যেখানে ছিল ৬টি চার ও একটি ছক্কা।
দুই তরুণের ব্যাটিংয়ে প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিনটি বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। জাতীয় দলের অভিজ্ঞ ব্যাটার নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিমদের সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। সেই লড়াইয়ের আগে কালাম ও জিসানের ব্যাটিং বাংলাদেশের ব্যাটিং গভীরতা নিয়ে আশাবাদী হওয়ার সুযোগ করে দিল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বিসিবি একাদশ: ৯০ ওভারে ৩৭১/৭। কালাম সিদ্দিকি ১৩৫, জিসান আলম ৮৬, চৌধুরি মোহাম্মদ রিজওয়ান ৫৯, শামীম হোসেন ৩৫*, জাকের আলি ৩০। জশুয়া বিশপ ২/৮৭, জেডেন সিলস ১/৩০, জোমেল ওয়ারিকান ১/৬১, কেভিন উইকহ্যাম ১/৯।