স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ, ক্ষোভ, তদন্তের দাবি

সারের ডিলার নিয়োগে অভিযোগের তীরবিদ্ধ সরকারি কর্মকর্তারা

বিশেষ প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১০
 ছবি:

দেশজুড়ে নতুন সার ডিলার নিয়োগের তালিকা প্রকাশের পর অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাজশাহী, মেহেরপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নীলফামারী, যশোর ও সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন জেলায় ঘোষিত তালিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বঞ্চিত আবেদনকারী, ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, প্রকৃত ও অভিজ্ঞ সার ব্যবসায়ীদের বাদ দিয়ে কোথাও রাজনৈতিক নেতাদের স্ত্রী-সন্তান ও আত্মীয়স্বজন, কোথাও বিতর্কিত ব্যক্তিদের ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। কোনো কোনো এলাকায় আর্থিক লেনদেন এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পছন্দের ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

অভিযোগের পরিধি শুধু দলীয়করণে সীমাবদ্ধ নয়। কয়েকটি এলাকায় নিয়োগের সুপারিশ তৈরির প্রক্রিয়া, আবেদনকারীদের যোগ্যতা যাচাই, স্থানীয় সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির ভূমিকা এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বঞ্চিত আবেদনকারীদের কেউ কেউ ঘোষিত তালিকা বাতিল করে নতুন করে যাচাই-বাছাইয়ের দাবি জানিয়েছেন। কোথাও আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

তবে অভিযোগ উঠলেই কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম প্রমাণিত হয় না। এ পর্যন্ত প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে যেসব অভিযোগ এসেছে, সেগুলোর স্বাধীন তদন্তের ফল, আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ কিংবা সংশ্লিষ্ট সব অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের সত্যতা যাচাই, নিয়োগের নথি প্রকাশ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রতিটি ধাপ পর্যালোচনা করাই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

রাজশাহীতে ৬৯ জনের তালিকা ঘিরে প্রশ্ন

রাজশাহীতে নতুন সার ডিলার নিয়োগের তালিকা নিয়ে সবচেয়ে বড় বিতর্কগুলোর একটি তৈরি হয়েছে।  জানা গেছে. জেলার একটি সিটি করপোরেশন, ৭২টি ইউনিয়ন ও ১৪টি পৌরসভার জন্য বাগমারার ১৮টি পদ বাদে ৬৯ জন নতুন ডিলার নিয়োগের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। গত ৭ অক্টোবর কৃষি মন্ত্রণালয়ের সারসংক্রান্ত কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটি তালিকাটি জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির কাছে পাঠায়।

তালিকা বিশ্লেষণ ও স্থানীয় পর্যায়ে অনুসন্ধানের ভিত্তিতে  জানা গেছে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের স্ত্রী, সন্তান, ভাই ও আত্মীয়স্বজনের নাম থাকার অভিযোগ করা হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামেও ডিলারশিপ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের প্রতিটি ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব, আবেদনকারীর ব্যবসায়িক যোগ্যতা এবং নিয়োগের নথি আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

জেলা প্রশাসনের এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিটি এলাকার জন্য তিনজনের নাম মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, তালিকায় পছন্দের ব্যক্তিকে প্রথম স্থানে রেখে অন্যদের নাম আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এ বক্তব্যের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার আবেদনকারীদের মূল্যায়নপত্র, নম্বর বা অগ্রাধিকার নির্ধারণের নথি এবং সুপারিশের কার্যবিবরণী প্রকাশ করা জরুরি।

রাজশাহীতে অভিযোগের বিষয়ে জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্যসচিব ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেন বলেছেন, তাঁদের কাজ ছিল কাগজপত্র যাচাই করে সুপারিশ পাঠানো। আবেদনকারীরা কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত, তা জানার সুযোগ তাঁদের নেই বলে দাবি করেন তিনি। অন্যদিকে চারঘাট-বাঘা আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ দলীয় তালিকা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে যাচাই-বাছাই করে উপযুক্ত ব্যক্তিদের নিয়োগ দিয়েছে। জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে তাঁর সাড়া পাওয়ার কথা জানানো হয়নি।

এদিকে বাগমারার ১৬টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে আলাদা জটিলতা তৈরি হয়েছে। রাজশাহী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল বারী দলীয় ব্যক্তিদের ডিলার নিয়োগ না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে কৃষিসচিব ও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে চিঠি দিয়েছেন বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এ কারণে বাগমারার নিয়োগপ্রক্রিয়া আটকে থাকার কথা বলা হয়েছে। তবে এখানে নিয়োগ স্থগিতের সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক আদেশ ও তার কারণ যাচাই করা প্রয়োজন।

মেহেরপুরে দলীয় নেতাদের স্বজনদের নাম

মেহেরপুরে নতুন ২২ জন সার ডিলার নিয়োগের তালিকা নিয়েও দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। তালিকায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিএনপি নেতাদের ছেলে, ভাই, ভাতিজা ও অনুসারীদের নাম রয়েছে। এতে দীর্ঘদিনের সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ বাদ পড়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মেহেরপুর পৌরসভায় পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল লতিফের ছেলে তানভির আহমেদের তানভির ট্রেডার্স, সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফয়েজ মহাম্মদের ভাই এনামুল হকের আনিকা ট্রেডার্স এবং আমদহ ইউনিয়নে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসানের ভাতিজা সাবিক হাসানের আর এস ট্রেডার্সের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তালিকায় নাম থাকা নিজে থেকেই অনিয়মের প্রমাণ নয়; তবে এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা, মালিকানা, আর্থিক সক্ষমতা ও যোগ্যতা কীভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে, তা প্রকাশ করা হলে অভিযোগের সত্যতা যাচাই সহজ হবে।

মেহেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি বাবলু সূত্রধর বলেছেন, কমিটির সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মন্ত্রণালয় প্রাথমিকভাবে তিন মাসের জন্য নিয়োগ দিয়েছে।  তবে কমিটিতে তিনি একা নন, সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন; জেলা কমিটি চাইলে আরও যাচাই-বাছাই করতে পারত।

এই বক্তব্যে নিয়োগের সিদ্ধান্তে সমষ্টিগত কমিটির ভূমিকার কথা উঠে এসেছে। কিন্তু সিদ্ধান্ত সংখ্যাগরিষ্ঠের হলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নীতিমালা-সম্মত প্রমাণিত হয় না। একইভাবে কোনো আবেদনকারী রাজনৈতিকভাবে পরিচিত বা কোনো নেতার আত্মীয় হলেই তিনি অযোগ্য—এমন সিদ্ধান্তেও পৌঁছানো যায় না। প্রকৃত প্রশ্ন হলো, নির্ধারিত যোগ্যতার মানদণ্ড সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে কি না এবং সিদ্ধান্তের পক্ষে যথেষ্ট নথি রয়েছে কি না।

মেহেরপুরে তালিকা প্রকাশের পর বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন নেতাকর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। বিএনপি নেতা কাজী মিজান মেনন দাবি করেছেন, প্রশাসনের ওপর চাপ প্রয়োগ করে তালিকায় তাঁর অবস্থান পরিবর্তন করা হয়েছে। জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ইকবাল হোসেনও নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। 

নাসিরনগরে সংসদ সদস্যের স্বজনদের ডিলারশিপ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে সংসদ সদস্য এম এ হান্নানের ছেলে, বোনজামাই ও ভাগ্নের স্ত্রীর নামে সার ডিলারশিপ বরাদ্দ পাওয়ার খবর প্রকাশের পর স্থানীয়ভাবে প্রশ্ন উঠেছে। ৮ অক্টোবর তালিকা প্রকাশের পর স্থানীয় কয়েকজন জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ১০১টি ইউনিয়ন ও পাঁচটি পৌরসভার ১০৬টি ডিলারশিপের বিপরীতে ৮২৫টি আবেদন জমা পড়ে। যাচাই-বাছাইয়ের পর ২৯২ জনের নাম কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে সুপারিশ করা হয়। প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তিনজনের নাম সুপারিশের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগের বিষয়ে সংসদ সদস্য এম এ হান্নান ও জেলা প্রশাসক আবু সাঈদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় আবেদনপত্র, সুপারিশের ক্রম, যোগ্যতার মূল্যায়ন এবং চূড়ান্ত বরাদ্দের নথি যাচাই করাই হবে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের উপায়।

নীলফামারীতে ইউএনওর বিরুদ্ধে অভিযোগ

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে সার ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে কয়েকজন বিএনপি নেতা সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, সরকারি নিয়ম অনুসরণ না করে ডিলার নিয়োগে পক্ষপাত করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান অভিযোগের জবাবে গণমাধ্যমে বলেছেন, কেউ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ করলে তা প্রমাণ করার দায়িত্ব অভিযোগকারীর।

অন্যদিকে ডিমলা উপজেলার গয়াবাড়ী ইউনিয়নে সরকারি ডিলার হিসেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মাবরুক আল ইসলাম জোয়াদের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। তাঁর নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠলেও সংশ্লিষ্ট নিয়োগ নথি এবং অভিযুক্তদের বক্তব্য যাচাই ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।

চৌগাছা ও সাতক্ষীরায় ক্ষোভ

যশোরের চৌগাছায় বঞ্চিত আবেদনকারীদের অভিযোগ, সুপারিশ করা তালিকায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, সার পাচারের ঘটনায় জরিমানাপ্রাপ্ত ব্যক্তির পরিবারের সদস্য এবং উপজেলার বাইরের বাসিন্দার নাম রয়েছে। উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা না করেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তালিকা পাঠিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা। স্থানীয় বিএনপি নেতা ও ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানের পক্ষ থেকে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির কারণ ব্যাখ্যা এবং বিতর্কিত নিয়োগ বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য ও নিয়োগসংক্রান্ত নথি পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

সাতক্ষীরায় জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিন ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে ডিলার নিয়োগে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগ এবং প্রমাণিত প্রশাসনিক অনিয়ম এক বিষয় নয়। অভিযোগের ভিত্তিতে নথি যাচাই ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

নীতিমালা কী বলছে, জবাবদিহি কোথায়

কৃষি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৬ বাস্তবায়নের নির্দেশনা এবং ২০২৫ সালের নীতিমালার সংশোধিত সংস্করণ প্রকাশিত রয়েছে। ফলে চলমান নিয়োগে কোন তারিখে কার্যকর কোন সংস্করণ অনুসরণ করা হয়েছে, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

২০২৫ সালের সরকারি গেজেটে প্রকাশিত নীতিমালায় ডিলার নিয়োগ ও বাতিলের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটি, জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি এবং জেলা প্রশাসকের ভূমিকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে আবেদনকারীদের অগ্রাধিকার নির্ধারণে ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা, বিদ্যমান ব্যবসার পরিধি ও নির্দিষ্ট এলাকার সঙ্গে সম্পর্কিত মানদণ্ডের কথা রয়েছে। সমযোগ্যতার ক্ষেত্রে লটারির বিধানও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ২০২৬ সালের নীতিমালা বা পরবর্তী সংশোধনে এসব শর্ত পরিবর্তিত হয়েছে কি না, তা মূল নথি মিলিয়ে দেখতে হবে।

এই কাঠামো থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট: নিয়োগের দায় কেবল একজন ইউএনও বা জেলা প্রশাসকের ওপর চাপিয়ে দিলে পুরো প্রক্রিয়ার জবাবদিহি নিশ্চিত হবে না। স্থানীয় পর্যায়ে আবেদন যাচাই, জেলা পর্যায়ে সুপারিশ এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নির্বাচন—প্রতিটি ধাপের সিদ্ধান্ত ও নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন। কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠলে তা তদন্তে প্রমাণ করতে হবে; আবার অভিযোগের প্রমাণ চাওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনেরও নিয়োগের মানদণ্ড, মূল্যায়ন ও সিদ্ধান্তের যুক্তি প্রকাশের দায়িত্ব রয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, তালিকায় তথ্যের গরমিল বা অসংগতি থাকলে স্থানীয় পর্যায়ে যাচাই-বাছাইয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দায় নিতে হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দায় এড়াতে পারবেন না বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন। তবে এই বক্তব্যের বাইরে অভিযোগগুলো নিয়ে মন্ত্রণালয় কোনো নির্দিষ্ট তদন্ত শুরু করেছে কি না বা তালিকা পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

কৃষকের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে

সার ডিলার নিয়োগ কোনো সাধারণ ব্যবসায়িক অনুমোদন নয়। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ডিলারদের মাধ্যমে কৃষকের কাছে সার পৌঁছানোর ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। ফলে নিয়োগে যোগ্যতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ঘাটতি থাকলে তার প্রভাব শুধু বাদ পড়া ব্যবসায়ীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; সার বিতরণের কার্যকারিতা ও কৃষকের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর প্রকাশ্যে আসা জরুরি।  প্রতিটি ডিলার ইউনিটে কতজন আবেদন করেছিলেন এবং কোন মানদণ্ডে তাঁদের মূল্যায়ন করা হয়েছে? সুপারিশের তালিকায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে থাকা আবেদনকারীদের যোগ্যতার তুলনামূলক তথ্য কী? রাজনৈতিক নেতা বা জনপ্রতিনিধির আত্মীয়দের আবেদন থাকলে স্বার্থের সংঘাত এড়াতে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না? আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের পক্ষে কোনো নথি, লেনদেনের তথ্য বা সাক্ষ্য রয়েছে কি না? অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য আবেদনকারীদের আপিল বা পুনর্বিবেচনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে কি না?

এগুলো কোনো ব্যক্তিকে আগাম দোষী সাব্যস্ত করার প্রশ্ন নয়; বরং নিয়োগপ্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাইয়ের প্রশ্ন। তালিকায় রাজনৈতিক পরিচিতি বা পারিবারিক সম্পর্ক থাকা একাই দুর্নীতির প্রমাণ নয়। কিন্তু যোগ্যতার মানদণ্ড পাশ কাটানো, স্বার্থের সংঘাত গোপন করা, অযোগ্য প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়া কিংবা আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে তা প্রশাসনিক ও আইনগত জবাবদিহির বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।

সব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, নিয়োগের পূর্ণাঙ্গ তালিকা ও মূল্যায়নপত্র প্রকাশ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যাখ্যা এবং বঞ্চিত আবেদনকারীদের অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা—এই চারটি পদক্ষেপই বিতর্কের গ্রহণযোগ্য সমাধানের ভিত্তি হতে পারে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেমন প্রয়োজন, তেমনি অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সংশ্লিষ্টদেরও দায়মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে।

সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে একাধিক জেলায় যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে, তা কেবল রাজনৈতিক বিরোধ হিসেবে দেখলে মূল প্রশ্ন আড়ালে থেকে যেতে পারে। নিয়োগের মানদণ্ড বাস্তবে কতটা মানা হয়েছে এবং সিদ্ধান্তগুলো নথির ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে কি না—সেই প্রশ্নের জবাবই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে, এই নিয়োগপ্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য ছিল।

১

বাংলাদেশের ‘ইশারা’য় দিল্লিতে আন্দোলন হচ্ছে: পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী

২

হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্ত হতে চান নেতানিয়াহু, সৌদি যুবরাজের ‘না’

৩

দিল্লিতে পুলিশের ভ্যানে নারীদের মারধর ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ

৪

আ.লীগ নেতারা ক্ষমা চাইলেও সমঝোতার সম্ভাবনা নেই: ডা. জাহেদ

৫

সেই জার্মান পর্যটকের উদ্ধারকৃত ল্যাপটপ হস্তান্তর করল পুলিশ

৬

ড. ইউনূসকে হেনস্তার মাধ্যমে বাংলাদেশকে অপমান করা হয়েছে: জামায়াতের নায়েবে আমির তাহের

৭

আওয়ামী লীগের সঙ্গে নির্বাচনের আগে হাত মিলিয়েছিল বিএনপি: নাহিদ ইসলাম

৮

ডেঙ্গু সচেতনতায় পাড়া-মহল্লায় মাইকিংয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

৯

ফুটবলের ভবিষ্যৎ ১০ তারকাকে বেছে নিলেন মেসি

১০

সন্ত্রাসবিরোধী আইনসহ তিন ধারায় দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

১১

সাত ঘণ্টা পরও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি চকবাজারের আগুন

১২

জিমিদের ক্যাম্প শুরু কাল

১৩

ইসরায়েলের নির্দেশনায় বাংলাদেশসহ ৩১ দেশের ক্রু বাদ দিচ্ছে এয়ার ফ্রান্স

১৪

শেষ দিনে বাংলাদেশের চাই ৭ উইকেট, আফগানিস্তানের ৩৪৭ রান

১৫

লিটনের সেঞ্চুরি, ৪৭৮ রানের লিডে ইনিংস ঘোষণা বাংলাদেশের

১

ট্রেনের ১৭ হাজার টিকিটের জন্য ২ কোটি ৭৬ লাখ বার চেষ্টা

২

দিল্লিতে ভারী বৃষ্টিতে বিমান চলাচল বিঘ্ন, ব্যাপক দুর্ভোগ

৩

মিরাজ-সৌম্যকে দলে টানতে চায় রংপুর

৪

আওয়ামী লীগ নেত্রী গ্রেফতার

৫

গাজায় একদিনে নিহত আরও ৭৯ ফিলিস্তিনি

৬

বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ

৭

মাদককারবারিদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ওসির

৮

২ বহিরাগতের নিয়ন্ত্রণে সরকারি অফিস!

৯

নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ ব্যতীত সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতির সুযোগ নেই: আলী রীয়াজ

১০

বনানীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ২

১১

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে স্থগিত যেসব চাকরির পরীক্ষা

১২

নন-ক্যাডারে ৪১৩৬ জনকে নিয়োগের সুপারিশ

১৩

৬৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএ’র গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

১৪

নারায়ণগঞ্জের আলোর বাতিঘর ‘সুধীজন পাঠাগার’

১৫

মাদ্রাসায় গ্রামীণ ফোন করপোরেট নম্বর ব্যবহার বাধ্যতামূলক

সম্পর্কিত