জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ছাত্র ফেডারেশনের রাজনীতিতে যুক্ত থাকাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থীর ল্যাপটপ চুরি করেছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তাঁর দাবি, ওই অভিযোগের পর ছাত্র ফেডারেশন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর নাসীরুদ্দীনকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে রাশেদ খাঁন এসব দাবি করেন। পরে নিজের দাবির সমর্থনে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের একটি পুরোনো বহিষ্কারসংক্রান্ত নোটিশের ছবিও পোস্টের কমেন্টে যুক্ত করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
https://www.facebook.com/rashedkhan.com23/posts/1457017726489237?ref=embed_post

রাশেদ খাঁনের দাবি, ২০১৯ সালে ছাত্র ফেডারেশনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা অবস্থায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থী ল্যাপটপ চুরির অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনের তৎকালীন দায়িত্বশীল নেতারা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটি বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের পর অভিযোগের সত্যতা পেয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। এরপর নাসীরুদ্দীনকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয় বলেও তাঁর পোস্টে উল্লেখ করা হয়।
রাশেদ খাঁন আরও দাবি করেন, ওই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত অনেকেই ঘটনাটি সম্পর্কে জানতেন। তাঁর ভাষ্য, বহিষ্কারের পর নাসীরুদ্দীন কিছু সময় রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় ছিলেন। পরে এবি পার্টিতে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে তিনি আবার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হন।
এবি পার্টির নেতারা ওই অভিযোগ সম্পর্কে অবগত ছিলেন না বলেও দাবি করেন রাশেদ খাঁন। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি জানা থাকলে দলটি হয়তো নাসীরুদ্দীনকে দলে নিত না। তবে এসব বক্তব্যের বিষয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বা সংশ্লিষ্ট সংগঠনের পক্ষ থেকে কোনো পাল্টা বক্তব্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন রাশেদ খাঁন। সেখানে তিনি নাসীরুদ্দীনের বিরুদ্ধে আরেকটি চুরির অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং তাঁকে কটাক্ষ করে বিভিন্ন মন্তব্য করেন।
তবে ল্যাপটপ চুরির অভিযোগ, তদন্তের ফলাফল এবং বহিষ্কারের বিষয়ে রাশেদ খাঁনের দাবির স্বাধীন কোনো প্রামাণ্য যাচাই এ প্রতিবেদনে করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কথিত পুরোনো নোটিশটির পূর্ণাঙ্গ বিষয়বস্তু ও তার সত্যতা যাচাইয়ের তথ্যও প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলো রাশেদ খাঁনের বক্তব্য হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বর্তমানে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তাঁর সঙ্গে রাশেদ খাঁনের প্রকাশ্য বাক্বিতণ্ডার ঘটনাও সামনে এসেছে। জুলাই মাসে রাশেদ খাঁন নাসীরুদ্দীনের বিরুদ্ধে তাঁকে ফোন করে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছিলেন। ওই সময়ও অভিযোগটি রাশেদ খাঁনের বক্তব্যের ভিত্তিতেই প্রকাশিত হয়।
সাম্প্রতিক ল্যাপটপ চুরির অভিযোগের বিষয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করে অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্য—দুই পক্ষের অবস্থান স্পষ্ট করা যেতে পারে।