মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৫০ জনে দাঁড়িয়েছে। সোমবার রাজ্যের কিউকতাও শহরে চালানো ওই হামলায় আরও অন্তত ৫৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি ও স্থানীয় এক ত্রাণকর্মী।
মঙ্গলবার সীমান্তবর্তী রাখাইন রাজ্য থেকে আরও কয়েকটি মরদেহ উদ্ধারের পর নিহতের সংখ্যা ৫০-এ পৌঁছেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। স্থানীয় ত্রাণকর্মী ওয়াই হুন অং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলার পরের কিছু ছবি প্রকাশ করেছেন। এসব ছবিতে হতাহতদের মধ্যে নারী ও শিশুকে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরাকান আর্মির দাবি, সোমবার কিউকতাও শহরে বিমান হামলা চালানো হয়। এতে ৫০ জন নিহত এবং অন্তত ৫৮ জন আহত হয়েছেন। সংগঠনটির মুখপাত্র খাইন থু খা অভিযোগ করেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী পরিকল্পিতভাবে ঘনবসতিপূর্ণ বাজার, স্কুল, আবাসিক ভবন ও বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
হামলার পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে হামলার পর আকাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যেতে দেখা যায়। তবে ছবিগুলোর সময় ও স্থান স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
কিউকতাওতে এবারের হামলাকে সাম্প্রতিক সময়ে রাখাইন রাজ্যে চালানো সবচেয়ে প্রাণঘাতী বিমান হামলাগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে গত ডিসেম্বরে একটি হাসপাতালে বোমা হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
মিয়ানমারের সামরিক সরকারের পক্ষ থেকে কিউকতাওতে চালানো হামলা কিংবা হতাহতের সংখ্যা নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে দেশটির সরকারের একজন মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারে সশস্ত্র সংঘাত ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র সংগঠন ও গণতন্ত্রপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী লড়াই করছে। রাখাইন রাজ্যে এসব লড়াইয়ের অন্যতম প্রধান শক্তি আরাকান আর্মি।
রাখাইনে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘাত তীব্র হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের ওপরও। সংঘাতের কারণে বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ এলাকায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবিক সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, মিয়ানমারের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিহত ও বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
রাখাইন বাংলাদেশের সীমান্তসংলগ্ন হওয়ায় সেখানকার সংঘাতের প্রভাব বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে রাখাইনে সামরিক অভিযান ও সংঘাতের কারণে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। নতুন করে সহিংসতা বাড়লে সীমান্তে নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে।
কিউকতাওতে সর্বশেষ বিমান হামলায় নিহত ও আহতদের প্রকৃত সংখ্যা, হামলার লক্ষ্য এবং বেসামরিক হতাহতের বিষয়ে স্বাধীনভাবে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে আরাকান আর্মি ও স্থানীয় ত্রাণকর্মীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই বর্তমানে হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে ধারণা করা হচ্ছে।