জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগে শূন্য হওয়া আসনের উপনির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট। আইন অনুযায়ী, যে দল বা জোটের অনুকূলে আসনটি বণ্টন করা হয়েছিল, শুধু সেই দল বা জোটই শূন্য আসনে প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পারবে। সে হিসাবে আসনটি বিএনপি জোটেরই থাকছে। একাধিক প্রার্থী হলে ভোট দিয়ে তাঁদের মধ্য থেকে একজনকে নির্বাচিত করবেন জোটের সংসদ সদস্যরা।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইতিমধ্যে আসনটির উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। আগামী ১২ নভেম্বর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৬ অক্টোবর, বাছাই ২৭ অক্টোবর এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১ নভেম্বর।
রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় নাম জড়ানোর পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে গত ১ অক্টোবর পদত্যাগ করেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। ওই দিনই তাঁর পদত্যাগের কারণে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন-২৩ শূন্য ঘোষণা করা হয়।
সংসদ সচিবালয় থেকে আসন শূন্য ঘোষণার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর উপনির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে নির্বাচন কমিশন। সংরক্ষিত নারী আসন নির্বাচন আইন অনুযায়ী, সংসদ ভেঙে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনো কারণে আসন শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচনের মাধ্যমে তা পূরণ করতে হয়। তবে এ ক্ষেত্রে নতুন করে সব দলের অংশগ্রহণের সুযোগ নেই; যে দল বা জোটের জন্য আসনটি বরাদ্দ ছিল, সেই দল বা জোটের মনোনীত প্রার্থীর মধ্য থেকেই আসনটি পূরণ করতে হবে।
ইসি কর্মকর্তাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সাধারণ আসনে দল ও জোটগুলোর প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়েছিল। সেই হিসাবে বিএনপি জোটের জন্য বরাদ্দ আসনগুলোর একটি ছিল মিষ্টির আসন। তাঁর পদত্যাগের পরও আসনটির বরাদ্দ পরিবর্তন হচ্ছে না। ফলে জামায়াত জোট বা অন্য কোনো জোট এই উপনির্বাচনে প্রার্থী দিতে পারবে না।
এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টনের সময় বিএনপি জোট ৩৬টি, জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের জোট একটি আসন পেয়েছিল। দল ও জোটগুলোর সাধারণ আসনে প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে এই বণ্টন করা হয়। সংরক্ষিত নারী আসনে একাধিক প্রার্থী না থাকায় আগের নির্বাচনে ভোটের প্রয়োজন হয়নি; প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
মিষ্টির শূন্য হওয়া আসনেও একাধিক প্রার্থী না থাকলে ভোট হবে না। বিএনপি জোট একজন প্রার্থী মনোনয়ন দিলে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন। আর একাধিক প্রার্থী থাকলে নির্ধারিত নিয়মে সংশ্লিষ্ট জোটের সংসদ সদস্যদের ভোটে বিজয়ী নির্ধারিত হবে।
এ বিষয়ে জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ এর আগে জানিয়েছিলেন, আইন অনুযায়ী শূন্য আসনে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে অনুযায়ী কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।