৫৬ দিনের মাথায় উপাচার্য পরিবর্তনের প্রতিবাদ; গেটে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীদের ‘শাটডাউন’, শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন
উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলনে অচল হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)। সোমবার রাতে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মঙ্গলবারও অব্যাহত রয়েছে। সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক ভেতর থেকে বন্ধ করে সেখানে অবস্থান নিয়ে ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে দুপুরে উপাচার্য ভবনের সামনে মানববন্ধন করেছে শিক্ষক সমিতি। আন্দোলনের কারণে মঙ্গলবার চুয়েটে কোনো ক্লাস হয়নি। প্রশাসনিক ভবনে তালা থাকায় বন্ধ রয়েছে প্রশাসনিক কার্যক্রমও।
সোমবার খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর আগে গত ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্যের দায়িত্ব পেয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। দায়িত্ব নেওয়ার ৫৬ দিনের মাথায় তাঁকে সরিয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়।
সরকারের এ সিদ্ধান্তের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সোমবার রাতেই বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। রাত সাড়ে ১০টার দিকে ক্যাম্পাসের স্বাধীনতা চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। এতে আবাসিক হল থেকে বের হয়ে ছাত্রীরাও অংশ নেন। রাত ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা লাগিয়ে দেন। তালার সঙ্গে একটি সাদা কাগজে তাঁরা লিখে দেন, ‘এই তালা শুধুমাত্র সায়েম স্যার খুলতে পারবে।’
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আবারও বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাঁরা ‘দাবি মোদের একটাই, সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’, ‘ভিসির চেয়ার কারে চাই, সায়েম স্যারকেই আবার চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের উপাচার্য আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম স্যারকে মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় সরিয়ে দেওয়া হলো। উনি একজন যোগ্য ও শিক্ষার্থী বান্ধব উপাচার্য। এত অল্প সময়ে উনি অনেক উদ্যোগ নিয়েছেন। অথচ কোনো কারণ না জানিয়ে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হলো। আমাদের দাবি একটাই, তাঁকে পুনর্বহাল করতে হবে।’
এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে একই দাবিতে উপাচার্য ভবনের সামনে মানববন্ধন করে চুয়েট শিক্ষক সমিতি। শিক্ষকরা আগের উপাচার্যকে বহালের দাবি জানান। চুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা ক্লাসে আসেনি কেউ। তাই কোনো একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি। প্রশাসনিক ভবনে তালা থাকায় প্রশাসনিক কাজও হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের কারও সঙ্গে আমাদের কোনো আলোচনা হয়নি।’
উপাচার্য পরিবর্তনের কারণ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নতুন উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের দায়িত্ব গ্রহণের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম কবে স্বাভাবিক হবে, সেটিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।