- আজমুলকে মারধরের সময় রিফাত ঘটনাস্থলে ছিলেন বলে পুলিশের দাবি; হত্যার ঘটনায় ৪ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা
খুলনায় ‘ভাত চুরির’ অপবাদ দিয়ে আজমুল হোসেন নামে এক শিক্ষার্থীকে মারধর করে হত্যার ঘটনায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, ঘটনার সময় ওই শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং পরে সেখান থেকে পালিয়ে যান। আটক রিফাত খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি বিভাগের (এফএমআরটি) ১৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি সিরাজগঞ্জ সদর থানার গুনেরগাতি এলাকার মনোয়ার হোসেনের ছেলে। সোমবার রাতে পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি থানার একটি বাড়ি থেকে তাঁকে আটক করা হয়।
নগরীর হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন বলেন, ‘আজমুলকে মারধরের সময় রিফাত সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার পর তিনি পালিয়ে যান।’
নিহত আজমুল হোসেনের বয়স ২১ বছর। তিনি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার বড় শলুয়া গ্রামের কুতুব উদ্দিনের ছেলে। খুলনার নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হলের পেছনে ইসলাম নগর রোডের একটি ছাত্রাবাসের গলি থেকে আজমুলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয়দের ভাষ্য, চারতলা ওই ভবনটি পুরোপুরি ছাত্রদের মেস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সেখানে ৫০ থেকে ৬০ জন শিক্ষার্থী থাকেন।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক বছর আগে আজমুল ওই ভবনের চারতলার ডি-৮ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন। চারতলায় মোট আটটি কক্ষ রয়েছে। ডি-২ নম্বর কক্ষে থাকেন মেসের ব্যবস্থাপক ও গোপালগঞ্জ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মেহেদী।
মেসের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে স্থানীয়রা জানতে পারেন, শুক্রবার রাতে মেহেদীর জন্য রাখা ভাত আজমুল খেয়ে ফেলেছিলেন। এরপর ভাত চুরি করে খাওয়ার অপবাদ দিয়ে মেসের কয়েকজন শিক্ষার্থী ও বহিরাগত ব্যক্তি আজমুলকে ছাদে নিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ। পরে ছাদ থেকে ভারী কোনো বস্তু নিচে পড়ার শব্দ শুনতে পান আশপাশের বাসিন্দারা। কিছুক্ষণ পর তাঁরা গলিতে আজমুলকে পড়ে থাকতে দেখেন। মেসের শিক্ষার্থীরা তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় পরদিন শনিবার আজমুলের বাবা কুতুব উদ্দীন বাদী হয়ে হরিণটানা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, মামলার তদন্তে রিফাতের ভূমিকা এবং ঘটনার সময় তাঁর উপস্থিতির বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।
ওসি ইকবাল হোসেন বলেন, ‘সম্প্রতি রিফাত কৃষি ব্যাংকে চাকরি পেয়েছেন। আজমুলদের মেসে থেকেই তিনি ব্যাংকে যাতায়াত করতেন। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদে এ বিষয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।’ আটক রিফাতকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি মামলায় নাম থাকা অন্য আসামিদেরও শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে। তবে আজমুলকে মারধরের ঘটনায় কারা সরাসরি জড়িত ছিলেন এবং কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।