ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে সাত বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জাহিদুল ইসলাম (২০) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তে শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্নের পাশাপাশি ধর্ষণের আলামত পাওয়ার কথা জানিয়েছেন চিকিৎসক।
নিহত শিশুটি আশুগঞ্জ উপজেলার তালশহর ইউনিয়নের বাসিন্দা। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় নূরানী দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত। শনিবার শিশুটির মা বাদী হয়ে আশুগঞ্জ থানায় ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় জাহিদুল ইসলামকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার বরাতে পুলিশ জানায়, শিশুটির বাবা প্রবাসে থাকেন। শুক্রবার সকালে শিশুটির মা অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে চিকিৎসকের কাছে জেলা সদরে যান। এ সময় শিশুটি বাড়িতে সমবয়সীদের সঙ্গে খেলছিল।
দুপুরের দিকে জাহিদুল শিশুটিকে পানি এনে দিতে বলেন। শিশুটি কলস ভরে তাঁকে পানি দিয়ে যায়। পরে শিশুটিকে জাহিদুলের ঘরে পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটিকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। তবে মামলার অভিযোগের সত্যতা এবং ঘটনার পুরো বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
শিশুটির মরদেহের ময়নাতদন্ত করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ও ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক শাহীন ভূঁইয়া। তাঁর সঙ্গে হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কামরুন্নাহারও ছিলেন।
শাহীন ভূঁইয়া জানান, ময়নাতদন্তে শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ধর্ষণের আলামত পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক।
ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটির মৃত্যুর দুটি কারণ পাওয়া গেছে। একটি শ্বাসরোধ এবং অন্যটি অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ। তাঁর মতে, ধর্ষণের কারণে শিশুটির অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়ে থাকতে পারে।
এ ঘটনায় পুলিশ জাহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আরাফাতুল ইসলাম জানান, শনিবার বিকেলে জাহিদুলকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার বিচার দাবিতে শনিবার বিকেলে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ‘ঐক্যবদ্ধ সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়া’ নামের একটি সংগঠনের উদ্যোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে অভিযুক্ত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এদিকে, এ ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল বলে প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। পরে পুলিশ তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের উত্তেজনার কথাও প্রতিবেদনে এসেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে। মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি গ্রেপ্তার হলেও আদালতে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে গণ্য হবে না।