কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার জামালপুর সীমান্ত দিয়ে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিরুদ্ধে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয়দের বাধার মুখে ওই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে বিএসএফ সদস্যরা ওই ব্যক্তিকে নদীপথে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে জামালপুর সীমান্তের জিরো লাইনে এ ঘটনা ঘটে বলে বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সূত্রগুলো জানায়, আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ১৫২/১০-এস থেকে আনুমানিক ১২০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে বিএসএফের ১৪৬ ব্যাটালিয়নের নার্সারিপাড়া ক্যাম্পের সদস্যরা অজ্ঞাতপরিচয় ওই ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করেন। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তাঁরা জামালপুর বিওপির বিজিবি সদস্যদের খবর দেন।
খবর পেয়ে জামালপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিজিবি সদস্যরা সীমান্তে অবস্থান নেন। স্থানীয় লোকজনও সেখানে জড়ো হন। একপর্যায়ে বিজিবির বাধার মুখে বিএসএফ সদস্যরা পিছু হটেন। পরে ওই ব্যক্তিকে নদীপথে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বিজিবির টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তবে ওই ব্যক্তির পরিচয় বা তিনি কোন দেশের নাগরিক—তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।
কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি ঘটনার বিষয়ে বলেন, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের চেষ্টা প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও পেশাদার অবস্থানে রয়েছে।
জামালপুর সীমান্তে এর আগে একই ধরনের পুশইনের চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। চলতি সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি একই সীমান্তে এক ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা হলে বিজিবির বাধায় তা ব্যর্থ হয়। পরে বিএসএফ নদীপথে ওই ব্যক্তিকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেয়। সে সময় বিজিবি জানিয়েছিল, ওই ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন।
সীমান্ত দিয়ে কাউকে জোরপূর্বক এক দেশ থেকে অন্য দেশে পাঠানোর চেষ্টা দুই দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তার জন্য স্পর্শকাতর বিষয়। তবে ২৮ সেপ্টেম্বরের ঘটনায় বিএসএফের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে ওই ব্যক্তিকে কেন বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছিল, তাঁর পরিচয় কী এবং ঘটনার পেছনে কী কারণ ছিল—এসব বিষয় এখনো স্পষ্ট নয়।