নরসিংদীর পলাশে এক নারীকে একাধিকবার ধর্ষণ এবং এর ফলে সন্তান জন্মদানের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অপূর্ব চন্দ্র দাস (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার গাবতলী পণ্ডিতপাড়া এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে পিবিআই নরসিংদী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে। গ্রেপ্তার অপূর্ব চন্দ্র দাস ওই এলাকার নীল চন্দ্র দাসের ছেলে।
মামলার এজাহার ও পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারীর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থান করছিলেন। এই সুযোগে অপূর্ব ওই নারীর বসতঘরে গিয়ে তাঁকে একাধিকবার জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল তিনি একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। সন্তান জন্মের পর শিশুটির পিতৃপরিচয় নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। একই সঙ্গে নিজের ও সন্তানের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হলে ওই নারী আইনের আশ্রয় নেন এবং আদালতে মামলা করেন।
পিবিআই জানায়, মামলা হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ছায়া তদন্ত শুরু করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপূর্বের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে পিবিআইয়ের একটি দল পণ্ডিতপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের পর অপূর্বকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন বলে জানিয়েছে পিবিআই। তবে আদালতে দেওয়া জবানবন্দির বিস্তারিত বিষয় তদন্তাধীন থাকায় তা নিয়ে পিবিআইয়ের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য ও নথি যাচাই করা হচ্ছে। ভুক্তভোগী নারী ও তাঁর সন্তানের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।
এদিকে অন্য একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলায় অপূর্বের পাশাপাশি ভুক্তভোগী নারীর স্বামীকেও আসামি করা হয়েছে এবং গত ২৫ সেপ্টেম্বর পলাশ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়। তবে মামলার আসামিদের বিষয়ে চূড়ান্ত দায় বা অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
পিবিআই নরসিংদী জানিয়েছে, মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।