সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় স্কুলে যাওয়ার পথে মাহিয়া আক্তার মিরা নামে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও মেয়ের সন্ধান না পাওয়ায় তাকে দ্রুত উদ্ধারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার বাবা মো. মোমিনুল ইসলাম। একই সঙ্গে মামলা তুলে নিতে হুমকি এবং পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগও করেছেন তিনি।
রোববার দুপুরে সলঙ্গা থানা মোড়ের একটি কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মোমিনুল ইসলাম এসব অভিযোগ করেন। তিনি জানান, তাঁর মেয়ে মাহিয়া আক্তার মিরা উনুখাঁ পাগলাপীর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির নিয়মিত ছাত্রী।
মোমিনুল ইসলামের ভাষ্য, গত ২৩ আগস্ট সকাল ৯টার দিকে বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয় মিরা। পরে উনুখাঁ বাজারের পশ্চিম পাশে পৌঁছালে দবিরগঞ্জ গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে জাকারিয়াসহ কয়েকজন একটি হাইস গাড়িতে করে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় বলে তাঁরা জানতে পারেন। মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে সলঙ্গা থানায় মামলা করা হয় বলে জানান মোমিনুল ইসলাম। তাঁর দাবি, মামলার পর পুলিশ তিনজনকে আটক করে এবং পরে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়। তবে পরবর্তী সময়ে তাঁরা জামিনে বের হয়ে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাঁদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। মোমিনুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, মামলা তুলে নিতে রাজি না হওয়ায় তাঁদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এতে একদিকে নিখোঁজ মেয়েকে ফিরে পাওয়ার অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে মামলা ও হুমকির কারণে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে মোমিনুল ইসলাম বলেন, এক মাসের বেশি সময় ধরে মেয়ের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় তাঁরা চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। মিরাকে জীবিত অবস্থায় দ্রুত উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে মিরাকে কোথায়, কীভাবে এবং কারা নিয়ে গেছে, তা শনাক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
মেয়েকে উদ্ধারে পুলিশ, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করে মোমিনুল ইসলাম বলেন, একটি মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও মেয়ের সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারের উৎকণ্ঠা দিন দিন বাড়ছে। দ্রুত মেয়েকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়াই এখন তাঁদের প্রধান দাবি।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
মিরা নিখোঁজের ঘটনায় পরিবারের অভিযোগের পাশাপাশি মামলার তদন্তে পুলিশ কী তথ্য পেয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে এবং তাঁদের জামিনের পর কী ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়ার কথা। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং নিখোঁজ ছাত্রীকে উদ্ধারের বিষয়টি এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের ওপর নির্ভর করছে।