বর্ণাঢ্য র্যালি, ফুল দিয়ে পর্যটক বরণ, পর্যটন মেলা ও সাংস্কৃতিক নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে কক্সবাজারে পালিত হয়েছে বিশ্ব পর্যটন দিবস। পর্যটন নগরী কক্সবাজারের স্থানীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পর্যটন সম্ভাবনাকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সামনে তুলে ধরতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নেওয়া হয় তিন দিনব্যাপী কর্মসূচি।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে পর্যটন জোনের কলাতলী সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি শুরু হয়ে লাবণী পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়। এতে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক ও মানবিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এর আগে ২৫ সেপ্টেম্বর সমুদ্রসৈকত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। পরে লাবণী পয়েন্টের উন্মুক্ত মঞ্চে পর্যটন মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়।
তিন দিনব্যাপী মেলায় কক্সবাজারের ঐতিহ্যবাহী খাবার, পোশাক ও স্থানীয় পণ্য নিয়ে অর্ধশতাধিক স্টল বসানো হয়। পর্যটকদের কাছে স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরতে আয়োজন করা হয় লোকজ সংগীত, ফায়ার শো, ব্যান্ড শোসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনার। লাবণী পয়েন্টের উন্মুক্ত মঞ্চে প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত এসব আয়োজন উপভোগ করেন পর্যটক ও দর্শনার্থীরা।
বিশ্ব পর্যটন দিবসের মূল আয়োজনে র্যালির পর পর্যটন দিবসের গুরুত্ব ও কক্সবাজারের পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিল ঘুড়ি উৎসব এবং সি-সেফ লাইফগার্ডের জরুরি সেবা ও ফার্স্ট এইড কার্যক্রমের প্রদর্শনী।
এ ছাড়া জেলা শিল্পকলা একাডেমি ও শিশু একাডেমির শিক্ষার্থীদের পরিবেশনা, রাখাইন নৃত্য এবং বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে চাকমা, ম্রো ও রাখাইন নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন করা হয়। রাতে ‘আঁলা’ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় তিন দিনব্যাপী পর্যটন মেলা।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকতের পাশাপাশি স্থানীয় খাবার, পোশাক, সংস্কৃতি ও নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্যকে পর্যটন পণ্যের অংশ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের প্রত্যাশা, এ ধরনের আয়োজন কক্সবাজারের পর্যটন সম্ভাবনাকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরতে ভূমিকা রাখবে।
এবারের বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্যও পর্যটন খাতে ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। ফলে কক্সবাজারের মতো দেশের প্রধান পর্যটন গন্তব্যে শুধু উৎসব আয়োজন নয়, স্থানীয় সংস্কৃতি ও পর্যটনসম্পদকে আধুনিক ডিজিটাল মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যটকের কাছে তুলে ধরার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।