- প্যারোলে মুক্তি পেয়ে জানাজায় অংশ, পুলিশ পাহারায় ফের কারাগারে
বগুড়ায় প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় অংশ নিয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বগুড়া জেলা কমিটির যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মাশরাফি হিরো। বৃহস্পতিবার বিকেলে সদর উপজেলার লাহিড়ীপাড়া ইউনিয়নের ভবানীগঞ্জ জাহানাবাদ গ্রামে মায়ের জানাজায় অংশ নেওয়ার সময় তাঁর হাতে হাতকড়া ছিল। জানাজা শেষে পুলিশ পাহারায় তাঁকে আবার কারাগারে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে হাফিজা বেগমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তিনি ৬২ বছর বয়সে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
মায়ের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর মাশরাফি হিরোর প্যারোলে মুক্তির জন্য স্বজনেরা আবেদন করেন। পরে বিকেলে পুলিশ পাহারায় তাঁকে গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে জানাজার আগে স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে কিছু সময় কথা বলেন তিনি। এ সময় মাশরাফি হিরো আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘আমি এখন পর্যন্ত জানি না, আমার মা কখন মারা গেছেন। আমি হয়তো তাঁকে দেখতে পারলাম, কিন্তু সে তো আমাকে দেখতে পারল না। সন্তান মাকে ভালোবাসুক আর না ভালোবাসুক, মা কিন্তু সন্তানকে ঠিকই ভালোবাসে।’
নিজের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার জন্য মায়ের কাছে ক্ষমা চাইতে না পারার আক্ষেপও প্রকাশ করেন তিনি। হিরো বলেন, ‘আমি আমার দায়িত্ব হয়তো সঠিকভাবে পালন করতে পারিনি। এ জন্য আমি আমার মায়ের কাছে ক্ষমাও চাইতে পারলাম না।’
মায়ের দীর্ঘদিনের অসুস্থতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমার মা অনেক দিন আগে থেকেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন। ওষুধ আর হাসপাতাল করতে করতে তাঁর জীবনটা শেষ হয়ে গেছে। তিনি খুব কষ্টের জীবন পার করেছেন।’
জানাজায় উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশে মায়ের কোনো আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমা করে দেওয়ার অনুরোধ করেন মাশরাফি হিরো। একই সঙ্গে তাঁর মায়ের কাছে কারও আর্থিক পাওনা থাকলে পরিবারকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘আমার মায়ের কথাবার্তায় আপনারা যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন, তবে দয়া করে নিজ গুণে ক্ষমা করে দেবেন। আমার মায়ের কাছে যদি কেউ কোনো আর্থিক পাওনা থেকে থাকেন, তবে আমাদের জানাবেন, আমরা তা পরিশোধ করার চেষ্টা করব।’
জানাজা শেষে মাশরাফি হিরোকে আবার কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। বগুড়া জেলা কারাগারের সুপার আসাদুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মাশরাফি হিরো প্রায় ১৬ মাস ধরে কারাগারে বন্দী রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর বিষয়ে আদালতের নথি বা প্যারোলের নির্দিষ্ট শর্ত এই প্রতিবেদনের তথ্যসূত্রে উল্লেখ নেই। তাই তাঁর কারাবাসের আইনি কারণ ও মামলার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া তা উল্লেখ করা হয়নি।
মায়ের জানাজায় অংশ নেওয়ার সময় হাতকড়া পরা অবস্থায় হিরোর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে প্যারোলে মুক্তির সময় নিরাপত্তাব্যবস্থা ও হাতকড়া ব্যবহারের নির্দিষ্ট কারণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।